হায়েজ অবস্থায় তওবা করার পদ্ধতি কি? সিজদাহ দেয়া যাবে কি? তখন তাহাজ্জুদের সময় দোয়া করা যাবে কি?
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
হায়েজ চলাকালিন কিভাবে তওবা করা যাবে?
হায়েজ চলাকালিন তাহাজ্জুদ এর সময় জায়নামাজে বসে মোনাজাত করে বা সিজদাহ দিয়ে তওবা করা যাবে? বা আমি যদি আকাশের দিকে তাকায় আল্লাহর কাছে তওবা করি তাহলে কি তওবা হবে?
হায়েজ চলাকালিন দোয়া কবুল এর আসায় বার বার সিজদাহ দিয়ে দোয়া করলে সেটা কি আমলযোগ্য হবে?বা তাহাজ্জুদ এর সময় বারবার সেজদাহ দিয়ে দোয়া করা যাবে?
Answer
উত্তর
وَعَلَيْكُمُ السَّلَام وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, তওবা একটি মানসিক ও আন্তরিক কাজ। এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা বা স্থানের শর্ত নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (সূরা আন-নূর: ৩১)
হায়েজ অবস্থায় নারীদের জন্য নামাজ, তাওয়াফ, কুরআন স্পর্শ ইত্যাদি নিষিদ্ধ। কিন্তু তওবা, দোয়া, জিকির, ইস্তিগফার ইত্যাদি সম্পূর্ণ জায়েয এবং উৎসাহিত।
১. হায়েজ অবস্থায় তওবা করার পদ্ধতি
হায়েজ চলাকালীন আপনি মৌখিকভাবে তওবা করতে পারেন। যেমন বলা:
- “আস্তাগফিরুল্লাহ”
- “আল্লাহুম্মা ইন্নি আতুবু ইলাইকা”
- অথবা নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
এর জন্য জায়নামাজ, নির্দিষ্ট সময়, বা কোনো বিশেষ পদ্ধতি আবশ্যক নয়। আপনি বসে, শুয়ে বা যেকোনো অবস্থায় তওবা করতে পারেন।
২. তাহাজ্জুদের সময় জায়নামাজে বসে সিজদাহ দিয়ে তওবা করা
হায়েজ অবস্থায় সিজদাহ করা জায়েয নয়, কেননা সিজদাহ নামাজের একটি অংশ। হায়েজ অবস্থায় নামাজের কোনো অংশ (যেমন সিজদাহ, রুকু) ইচ্ছাকৃতভাবে করা হারাম। ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেছেন:
الْحَائِضُ لَا تَسْجُدُ لِتِلَاوَةٍ وَلَا شُكْرٍ، وَلَوْ سَجَدَتْ عَصَتْ
“হায়েজ অবস্থায় নারী তিলাওয়াতের সিজদাহ বা শোকরের সিজদাহ দিতে পারবে না; দিলে গুনাহ হবে।” (রদ্দুল মুহতার, ২/২১৩)
তাই সিজদাহ না দিয়ে শুধু বসে বা দাঁড়িয়ে মোনাজাত করুন, হাত তুলে দোয়া করুন। তাহাজ্জুদের সময়েও একই নিয়ম।
হ্যাঁ, আকাশের দিকে তাকিয়ে তওবা করা জায়েয – তবে এটি সুন্নত নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) দোয়ার সময় আকাশের দিকে তাকাতেন (বুখারি), কিন্তু সিজদাহ কখনো হায়েজ অবস্থায় দেননি।
৩. বারবার সিজদাহ দিয়ে দোয়া করা
হায়েজ অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার সিজদাহ করা নাজায়েয। এতে দোয়া কবুলের কোনো বিশেষ ফজিলত নেই, বরং এটি নামাজের নকল করার শামিল। ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ায় আছে:
الْحَائِضُ لَا يُسْتَحَبُّ لَهَا السُّجُودُ لِلتِّلَاوَةِ وَلَا لِلشُّكْرِ
“হায়েজ অবস্থায় তিলাওয়াত বা শোকরের সিজদাহ মুস্তাহাব নয়।” (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/৪১)
তবে দোয়ার জন্য হাত তুলে মোনাজাত করুন বা মৌখিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। এটাই উত্তম ও সুন্নত।
৪. তাহাজ্জুদের সময় বারবার সিজদাহ
তাহাজ্জুদের সময় আপনি যদি নামাজের নিয়তে সিজদাহ দেন, তাহলে তা হারাম। কেননা হায়েজ অবস্থায় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। আর যদি কেবল দোয়ার উদ্দেশ্যে সিজদাহ দেন, তবুও তা জায়েয নয়, যেমনটি আগে বলা হয়েছে। তাই শুধু বসে বা দাঁড়িয়ে দোয়া করুন।
সারসংক্ষেপ
✓ হায়েজ অবস্থায় তওবা করা যায় – মুখে বলুন, অন্তরে লজ্জা ও অনুতাপ রাখুন, এবং পাপ ছেড়ে দেওয়ার সংকল্প করুন।
✓ সিজদাহ, জায়নামাজ, বা বিশেষ সময়ের প্রয়োজন নেই।
✓ আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়া করা জায়েয, তবে সিজদাহ নিষিদ্ধ।
✓ বারবার সিজদাহ দিয়ে দোয়া করবেন না; বরং হাত তুলে মোনাজাত করুন।
✓ তাহাজ্জুদের সময় আপনি নামাজ না পড়ে জিকির, দোয়া ও তওবা করতে পারেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের তওবা কবুল করুন।