হাত থেকে কুরআন পড়ে গেলে করণীয় কী?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
উত্তর: হাত থেকে কুরআন পড়ে গেলে করণীয়
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, যদি কুরআন মাজীদ হাত থেকে পড়ে যায়, তাহলে করণীয় হলো:
১. তৎক্ষণাৎ উঠিয়ে নেওয়া: কুরআন পবিত্র কিতাব, আল্লাহর কালাম। তাই তা পড়ে গেলে সাথে সাথে উঠিয়ে নেওয়া ওয়াজিব। বিলম্ব করা বা উদাসীনতা দেখানো উচিত নয়।
২. সম্মান প্রদর্শন: উঠিয়ে নেওয়ার পর কুরআনকে চুমু খেয়ে কপালে বা চোখে ঠেকানো মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)। এটি কুরআনের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করে।
৩. তওবা ও ইস্তিগফার: যদি পড়ে যাওয়ার ঘটনা অনিচ্ছাকৃত হয় (যেমন পিছলে যাওয়া বা অসাবধানতা), তবুও এটি কুরআনের সম্মানের বিষয়। তাই আল্লাহর কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করা ভালো। তবে এতে গুনাহ হবে না, যদি নিয়ত না থাকে।
৪. কোনো কাফফারা নেই: ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআন ফেলা বা অবমাননা করা হারাম ও বড় গুনাহ, কিন্তু অনিচ্ছাকৃতভাবে পড়ে গেলে কোনো বিশেষ কাফফারা (যেমন রোজা, সদকা) ওয়াজিব নয়। শুধু উঠিয়ে নেওয়া ও সম্মান করাই যথেষ্ট।
৫. পবিত্রতা পরীক্ষা: হাত বা কুরআনের পাতা নাপাক হয়ে থাকলে (যেমন রক্ত, ময়লা লেগে) তাহলে তা পবিত্র করে নিতে হবে। কুরআন স্পর্শের জন্য হাত পবিত্র থাকা জরুরি।
দলিল ও সূত্র
- কুরআনের সম্মান: আল্লাহ বলেন, "বরং এটি সম্মানিত কুরআন, সংরক্ষিত ফলকে লিখিত।" (সূরা আল-বুরুজ: ২১-২২)
- হাদিস: "তোমরা কুরআনকে ধরে রাখো (সম্মান করো), কারণ তা আল্লাহর নিকট থেকে আগত একটি নেয়ামত।" (সুনানু দারিমি)
- হানাফি কিতাব:
- ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ.)-এ বলা হয়েছে, কুরআন পড়ে গেলে তা উঠিয়ে নিয়ে চুমু খাওয়া ও কপালে ঠেকানো মুস্তাহাব।
- বিহিশ্তি জেওর (আশরাফ আলী থানবী রহ.)-এ উল্লেখ আছে, "কুরআন শরীফ পড়ে গেলে সাথে সাথে উঠিয়ে নেবে, চুমু খেয়ে চোখে লাগাবে, এবং তওবা করবে।"
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন রহ.)-এ বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআন মাটিতে ফেলা কুফরি পর্যায়ের অসম্মান, আর অনিচ্ছাকৃত হলে ক্ষমা প্রার্থনা ওয়াজিব।
গুরুত্বপূর্ণ নোট
- কুরআন পড়ার সময় সতর্ক থাকা উচিত যেন পড়ে না যায়। হাত মজবুত করে ধরা এবং কোনো পিছলানো জায়গায় না রাখাই কর্তব্য।
- যদি কুরআন নষ্ট হয়ে যায় (যেমন ছিঁড়ে বা পুড়ে), তাহলে সেই অংশ মাটিতে পুঁতে ফেলা বা প্রবাহিত পানিতে রেখে দেওয়ার নিয়ম আছে। তবে সাধারণ পড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
সারকথা: হাত থেকে কুরআন পড়ে গেলে দ্রুত উঠিয়ে নিন, সম্মান করুন এবং দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করুন। এটি আপনার ঈমান ও কুরআনের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন।