কসরের নামাজ

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 2410
Questioner: 0102
Question Asked: 07 Jul 2026, 03:47 PM
Reviewed & Published: 07 Jul 2026, 03:54 PM
Views: 48
Tokens: 5,117
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমি বিবাহিত,হাজব্যান্ড ও বাচ্চা সহ ফেনী থেকে ঢাকা আমার ভাইয়ার বাসায় বেড়াতে এসেছি।এখানে দুই ভাইয়ার বাসা আছে আলাদা আলাদা জায়গায়।দুই বাসায়ই বেড়ানো হবে।তবে সব মিলিয়ে ১৫দিনের বেশি থাকবো নাকি থাকবো না এটাই নিশ্চিত না।থাকতেও পারি।চলেও যেতে পারি।তাহলে এখন আমি কি পূর্ণ নামাজ পড়বো নাকি কসরের নামাজ পড়বো?

Answer

উত্তর দেওয়ার পূর্বে ফিকহী নীতি
হানাফী মাযহাব অনুযায়ী, কোনো মুসাফির (মুসাফির) এর জন্য ৪ রাকাত ফরয নামাজ কসর (অর্থাৎ ২ রাকাত) পড়া ওয়াজিব। মুসাফির হওয়ার শর্ত হলো: সফরের দূরত্ব কমপক্ষে ৭৮ কিলোমিটার (প্রায় ৪৮ মাইল) হওয়া এবং সফর শরয়ী উদ্দেশ্যে হওয়া। ফেনী থেকে ঢাকার দূরত্ব এই সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাই আপনি শরয়ী মুসাফির। তবে মুসাফির যদি কোনো স্থানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করে, তাহলে সে মুকীম (অধিবাসী) হয়ে যায় এবং পূর্ণ নামাজ পড়ে।

আপনার প্রশ্নের উত্তর
যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে ঢাকায় ১৫ দিনের বেশি থাকবেন নাকি কম থাকবেন, তাই হানাফী ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, আপনি এখন কসর (সংক্ষিপ্ত) নামাজ পড়বেন। যতক্ষণ না আপনি ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার স্পষ্ট নিয়ত করেন অথবা বাস্তবে ১৫ দিন পূর্ণ করেন, ততক্ষণ আপনার নামাজ কসর থাকবে।

কারণ ও বিশ্লেষণ

  • হানাফী মাযহাবের মূলনীতি: মুসাফিরের ইকামত (অধিবাস) নির্ভর করে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়তের উপর (রদ্দুল মুহতার, ২/১২২; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৯৫)। নিয়ত স্পষ্ট না হলে বা অনিশ্চিত থাকলে তিনি মুসাফিরই গণ্য হন।
  • দুই ভাইয়ের বাসা: যেহেতু উভয় বাসা ঢাকা শহরের ভেতরে অবস্থিত, তাই পুরো ঢাকা শহরকে একই স্থান হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ আপনি যদি ঢাকায় মোট ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার ইচ্ছা করেন, তাহলে মুকীম হয়ে যাবেন। কিন্তু বর্তমানে আপনার ইচ্ছা স্পষ্ট নয় (থাকতে পারেন, যেতে পারেন), তাই আপনি মুসাফির হিসেবে কসর পড়বেন।
  • স্বামীর ভূমিকা: আপনি স্বামী ও সন্তানসহ এসেছেন। সাধারণত স্ত্রী স্বামীর সফরের নিয়ম অনুসরণ করে। স্বামীর ইচ্ছাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে যেহেতু প্রশ্নে স্বামীর নিয়ত সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি, আপনি নিজের নিয়তের ভিত্তিতে কসর পড়তে পারেন। যদি স্বামী নিশ্চিত হন যে ১৫ দিনের কম থাকবেন, তাহলেও আপনার কসর পড়াই সঠিক।
  • ব্যবহারিক নির্দেশনা:
    • যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার সিদ্ধান্ত না নেন, ততক্ষণ যোহর, আসর, ইশার ২ রাকাত করে পড়ুন। ফজর ও মাগরিব পূর্ণ পড়তে হবে (কারণ এগুলোতে কসর নেই)।
    • যদি পরে স্থির করেন যে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকবেন, তখন থেকে পূর্ণ নামাজ পড়া শুরু করুন।
    • যদি বাস্তবে ১৫ দিন পূর্ণ হয়ে যায় কিন্তু আপনি এখনও থাকার নিয়ত না করেন, তবুও হানাফী ফিকহের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী আপনি মুসাফিরই থাকবেন (রদ্দুল মুহতার, ২/১২৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৩৮৬)। তাই নিয়ত পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কসর পড়তে থাকুন।

প্রমাণ ও গ্রন্থসূত্র

  • হাদীস: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের সময় ১৮ দিন অবস্থান করেছিলেন এবং কসর পড়েছিলেন। (বুখারী: ১০৮০) — এটি প্রমাণ করে যে কসর নির্ভর করে ইচ্ছার উপর, অবস্থানের সময়ের উপর নয়।
  • হানাফী কিতাব:
    • রদ্দুল মুহতার (رد المحتار) ২/১২২: “মুসাফিরের ইকামত ১৫ দিনের নিয়তে হয়। এর চেয়ে কম হলে নিয়ত না থাকা পর্যন্ত মুসাফিরই থাকে।”
    • ফাতাওয়া উসমানী (فتاوی عثمانی) ২/২৯৫: “যদি কোনো ব্যক্তি ১৫ দিনের কম থাকার ইচ্ছা করে, কিন্তু পরে অবস্থান বেড়ে যায়, তাহলে ইচ্ছা পরিবর্তন না করা পর্যন্ত কসর পড়বে।”
    • বাহিশতি জেওর (بهشتی زیور) ২/১২: “মুসাফির যদি কোনো স্থানে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করে, তাহলে কসর পড়বে। যদি নিয়ত না থাকে, তাহলেও কসর পড়বে।”

সারসংক্ষেপ
আপনি বর্তমানে অনিশ্চিত থাকায় কসর নামাজ পড়ুন। যখন নিশ্চিত হবেন যে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকবেন, তখন পূর্ণ নামাজ পড়া শুরু করুন। আল্লাহ আপনার সফরকে বরকতময় করুন।

উত্তর প্রদানে:

  • ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)
  • ইবনে আবেদীন শামী (রহ.) – রদ্দুল মুহতার
  • মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) – বাহিশতি জেওর, ইমদাদুল ফাতাওয়া
  • মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) – জাওয়াহিরুল ফিকহ
  • মুফতি তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) – ফাতাওয়া উসমানী

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.