ক্রেডিট কার্ডের কিস্তিতে কিছু কিনা কি হারাম?
Halal and Haram · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
আপনার প্রশ্নের উত্তর: ক্রেডিট কার্ডের কিস্তিতে জিনিস কেনা ও স্বামীর চাপ
উত্তর
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমান সময়ে অনেক পরিবারই এই সমস্যার সম্মুখীন। আমি কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে এই বিষয়ে বিস্তারিত উত্তর দিচ্ছি।
১. ক্রেডিট কার্ডের কিস্তিতে জিনিস কেনার বিধান
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কিস্তিতে জিনিস কেনা সাধারণত সুদ (রিবা) জড়িত একটি লেনদেন। বেশিরভাগ ইসলামী স্কলারদের মতে, যদি ক্রেডিট কার্ডের কিস্তিতে অতিরিক্ত সুদ বা চার্জ থাকে, তাহলে তা হারাম।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَشَاهِدَهُ وَكَاتِبَهُ" "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুদখোর, সুদ দাতা, তার সাক্ষী ও লেখককে অভিশাপ দিয়েছেন।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৯৮)
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যে কোন প্রকার সুদী লেনদেনই হারাম, তা সরাসরি হোক বা কিস্তির মাধ্যমে হোক।"
শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো টাকা পরিশোধ করা না হয় এবং সুদ দিতে হয়, তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েয নয়।"
২. স্বামীর অবাধ্যতা ও আপনার কর্তব্য
আপনার স্বামী যদি সুদী লেনদেনে জড়িত হতে চান, তাহলে আপনার কর্তব্য হলো তাকে নিষেধ করা এবং সৎ উপদেশ দেওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ" "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পরকে সাহায্য করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সাহায্য করো না।" (সূরা আল-মায়েদা: ২)
৩. আপনার গহনা বিক্রি করা প্রসঙ্গে
আপনার স্বামী যদি আপনার গহনা বিক্রি করে হারাম কাজে ব্যবহার করতে চান, তাহলে আপনি তা প্রতিরোধ করতে বাধ্য। আপনার সম্পত্তি আপনার নিজের, এবং আপনি তা হারাম কাজে ব্যয় হতে দিতে পারবেন না।
শাইখ সালেহ আল-ফওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেছেন: "স্ত্রীর সম্পদ তার নিজের। স্বামীর জন্য স্ত্রীর সম্পদ তার অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা জায়েয নয়, বিশেষ করে যদি তা হারাম কাজে ব্যবহৃত হয়।"
৪. আপনার গুনাহ হবে কিনা
যদি আপনি আপনার স্বামীকে নিষেধ করেন এবং হারাম কাজে সহযোগিতা না করেন, তাহলে আপনার গুনাহ হবে না। বরং আপনি সওয়াব পাবেন। কিন্তু যদি আপনি চুপ থাকেন বা তাকে সহযোগিতা করেন, তাহলে আপনিও গুনাহের অংশীদার হবেন।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ" "তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো মন্দ কাজ দেখে, সে যেন তা নিজ হাতে পরিবর্তন করে। যদি না পারে, তবে মুখে দিয়ে। আর যদি তাও না পারে, তবে মনে করে ঘৃণা করবে—এটা ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯)
৫. আপনার করণীয়
১. স্বামীকে নরমভাবে বোঝান: তাকে কুরআন ও হাদীসের আলোকে বোঝান যে সুদী লেনদেন হারাম এবং এর পরিণাম ভয়াবহ।
২. হালাল বিকল্প প্রস্তাব করুন: তাকে বলুন কিছু সময় অপেক্ষা করে সঞ্চয় করে হালাল উপায়ে কেনার জন্য। অথবা ইসলামী ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে হালাল কিস্তির ব্যবস্থা দেখতে পারেন।
৩. সহায়তা প্রত্যাখ্যান করুন: যদি তিনি জোর করেন, তাহলে দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিন যে আপনি হারাম কাজে অংশ নেবেন না।
৪. আল্লাহর কাছে দুআ করুন: আপনার স্বামীর হেদায়েতের জন্য নিয়মিত দুআ করুন।
শাইখ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "হারাম কাজে স্ত্রী স্বামীর আনুগত্য করবে না। স্বামীর আনুগত্য কেবল বৈধ কাজেই ওয়াজিব। হারাম কাজে স্ত্রীর জন্য স্বামীর আনুগত্য করা জায়েয নয়।"
উপসংহার
আপনি যদি আপনার স্বামীকে নিষেধ করেন এবং হারাম কাজে সহযোগিতা না করেন, তাহলে আপনার কোনো গুনাহ হবে না। বরং আপনি সওয়াব পাবেন। আপনার গহনা হারাম কাজে ব্যবহার হতে দেবেন না। আল্লাহ তাআলা আপনার স্বামীকে হেদায়েত দান করুন এবং আপনাকে ধৈর্য ও সাহস দিন। আমীন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।