একজন কঠোর পর্দাশীলা মেয়ের ঘরে বসে ইলম অর্জন ও দাওয়াত দেওয়ার নিয়ত কি বৈধ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
কিভাবে যে কথা টা বলি নিজেও আসলে বুঝতে পারছিনা।
আল্লাহ মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের জন্যে পর্দা ফরজ করেছেন।আমিওতো একজন মেয়ে আলহামদুলিল্লাহ।আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি খাস পর্দা করে চলার আলহামদুলিল্লাহ।নন-মাহরাম একদম কঠোর ভাবে মেনে চলার চেষ্টা করি আলহামদুলিল্লাহ।এখন আমি এমন ভাবে থাকি যে ঘরে বসে শুধু ইলম অর্জনের পিছনে ছুটি।বাইরে ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগতো আগে।কিন্তু আমি যেদিন থেকে একদম কঠোর ভাবে পর্দা করা শুরু করলাম বাইরে যেতে আমার খুবই অস্বস্তি করে লাগে।আমার বাইরে যেতে একটুও ভালো লাগেনা।মানে আমার মনে হয় বোরখা পরে হলেও যেন কোনো ছেলে আমাকে না দেখে।বোরখা পরে হলেও আমি বাইরে কেন যাবো???আমার তো বাইরে যাওয়ার কোনো দরকার ই নেই।যেহেতু আমার নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল জিনিস আমার আব্বু বা আমার ভাইয়া এনে দেয়।তাহলে আমার বাইরে যাওয়ার কি দরকার???
এখন আসি এই কথা গুলো আমি কেন বলছি.....
আচ্ছা মেয়েদের পর্দা করা বলতে আসলে কি বুঝাই???পর্দা মানে কি শুধু কালো বোরখা,হাত মজা,পা মজা পরে বাইরে যাওয়া???
ইসলাম তো এটা শিক্ষা দেয়না আমাদের।পর্দার মধ্যেও বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে যেমন চোখের পর্দা,কণ্ঠের পর্দা,লজ্জা স্থানের পর্দা,অন্তরের পর্দা,বাহ্যিক পর্দা যেমন বোরখা পড়া ইত্যাদি ইত্যাদি।
এখন আসি আসল কথায়.....
আমি ঘর থেকে বের হয়না কেন,কোনো নন-মাহরাম পুরুষ আমাদের বাসায় আসলে ছুটে পালাই কেন,বাইরে প্রাইভেট পড়িনা কেন,পড়াশোনা করছো চাকরি করবানা কেন???এসবের জন্যে আমার অনেক কথা শুনতে হয় আমার ফ্যামিলি থেকে।আমি এটা জানি তারা আমার খুব খুব খুব ভালো চায়।আমার ভালোর জন্যেই তারা এই কথা গুলো বলে।কিন্তু আমি ঘর থেকে বের হতে চায়না।আমার ঘর ভালো লাগে,আমার বাসায় নতুন নতুন রান্না শিখে সেই রান্না আমার মাহরামদের খাওয়াতে ভালো লাগে,আমার ইসলামিক বই পড়তে ভালো লাগে,আমার নতুন যেকোনো হালাল কাজ করতে খুব ই ভালো লাগে শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে।শুধু মনে হয়,কি করলে আমার আল্লাহ আমার উপরে খুশি হবে???কি করলে আমার আল্লাহ আমাকে তার প্রিয় বান্দি হিসেবে কবুল করে নেবে???কি করলে আমি আমার আল্লাহর আরো অনেক কাছে যেতে পারবো???মাথায় সবসময় এসোব ঘুরপাক খায় আমার।
আমার ফ্যামিলি টা অনেক বড় মা শা আল্লহ।তারা প্রত্যেকে আমাকে অনেক অনেক অনেক ভালোবাসে আলহামদুলিল্লাহ।কিন্তু আমাকে আমার কয়েকজন আপন মানুষ বলে যে একা একা এভাবে দ্বিন অর্জন করলে কিছুই কবুল হবেনা যদিনা তুমি সেটা ঘরের বাইরে গিয়ে প্রচার না করো।হ্যা আমি উনার কথায় একদম একমত।যেহেতু হাদিসেই এসেছে যে,নবী (সাঃ) বলেছেন,তোমরা আমার একটা হাদিস হলেও প্রচার করো।এটাতো আমিও বিশ্বাস করি।আসলে আমি ছাত্রী সংস্থার কথা বলছি।আপনারা অনেকেই ছাত্রী সংস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন।সেখানে মেয়েরা মা শা আল্লাহ সুন্দর ভাবে দ্বিন প্রচার করে।আমাকে সেখানে যুক্ত হতে বলছে তারপর প্রতিদিন সেখানে গিয়ে দ্বিন প্রচার করার কথা বলছে।কিন্তু আমি এটা করতে চাইনা।আমার বাইরে যেতেই ভালো লাগেনা।সেখানে আমি কিভাবে দ্বিন প্রচার করবো???
আমি আসলে কথা গুলো ভালো করে বুঝাতে পারছিনা তার জন্যে আফওয়ান।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমি যদি ঘরে বসে নিজে ইলম অর্জন করার চেষ্টা করি,বাইরে না যায় বিয়ের পরে সুন্দর করে স্বামী সংসার করি।আমার ইলম অর্জন করার মূল লক্ষই হচ্ছে আমি নিজে জানবো নিজে যেনে আমল করবো আর আমার সন্তানদের মধ্যেও আমার শেখা আমার জানা এই ইলম গুলো ছড়িয়ে দেবো ইং শা আল্লহ।তারপর আমার ফ্যামিলি এর যারা আছেন তাদেরকেও জানানোর চেষ্টা করবো ইং শা আল্লহ।
আচ্ছা এটা কি খারাপ নিয়ত???আমার আসলে কি করা উচিত আমি অনেক দ্বিধাদ্বন্দে আছি।আমি যে বাইরে যেয়ে দ্বিন প্রচার করছিনা জন্যে কি গুনা হবে??? আমার আমল আমার আল্লাহ বাতিল করে দেবে???যখন তারা আমাকে বুঝাই যুক্তি দিয়ে হাদিস দিয়ে যে,খাদিজা (রাঃ) ওনারা কি ঘরে বসেই থাকতো??উনারা কি পর্দা করো কোনো পুরুষের সামনে যায়নি???উনারা যুদ্ধ করেছে,ব্যবসা করেছে এইগুলো আমাকে বুঝায়।তখন আমি কোনো আনসার দিতে পারিনা তাদের।তখন নিজেকে অনেক অসহায় লাগে।নিজের নিজেকে খারাপ লাগে যে আসলেই তো তাই।তাহলে কি আমার আল্লাহ আমার এই ঘরে বসে থাকাটাতে নারাজ???আরো অনেক কিছু আমাকে বুঝাই যে পর্দা করে সব করা যায়।আমি কেমনে বুঝাই তাদের যে পর্দা করে তো আসলে সব করা যায়না।আমিতো পারিনা সেটা।
আমি আসলেই কি করবো কি না করবো কিচ্ছু বুঝিনা তখন।আচ্ছা তাহলে কি আমি ভুল পথে এগোচ্ছি???আমার তাহলে কি করা উচিত???
আমার লেখা গুলো প্লিজ একটু ধের্য নিয়ে পড়ে আমাকে আপনারা পরামর্শ দিন একদম কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক ইং শা আল্লহ।
যাজাকিল্লাহু খইরন।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আলহামদুলিল্লাহ! আপনার দ্বীনি মনোযোগ, পর্দার প্রতি কঠোরতা ও ঘরে থেকে ইলম অর্জনের আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়। আল্লাহ তাআলা আপনার ইখলাস ও নিয়তকে কবুল করুন এবং এ পথে আপনাকে আরো দৃঢ় রাখুন। আমীন।
পর্দার অর্থ কী?
আপনি ঠিকই বলেছেন, পর্দা শুধু কালো বোরখা বা বাহ্যিক আবরণের নাম নয়; বরং পর্দা একটি সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা। কুরআন ও হাদিসে পর্দার বিভিন্ন স্তর উল্লেখিত হয়েছে:
- চোখের পর্দা (সূরা আন-নূর ২৪:৩১) – অমাহরামের প্রতি দৃষ্টি নত রাখা।
- কণ্ঠের পর্দা – অমাহরামের সাথে নরম বা আকর্ষণীয় স্বরে কথা না বলা (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৩২)।
- লজ্জাস্থানের পর্দা – শরীরের গোপনাঙ্গ ঢাকা।
- অন্তরের পর্দা – মনে অমাহরামের প্রতি কামনা বা চিন্তা না রাখা।
- বাহ্যিক পর্দা – বোরখা, হিজাব, লম্বা জামা ইত্যাদি দ্বারা পুরো শরীর ঢেকে রাখা (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৯)।
আপনি এই সব স্তরই মানার চেষ্টা করছেন, এবং বাইরে যেতে আপনার অস্বস্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক – এটি আপনার ঈমানের পরিণতি। ইসলাম নারীকে ঘরকে তার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করেছে, যেখানে সে নিজের ইবাদত, পরিবারের সেবা ও ইলম চর্চায় মগ্ন থাকবে।
নারীর জন্য ঘরে থাকা উত্তম, বাইরে বের হওয়া জরুরি প্রয়োজনে
কুরআনে আল্লাহ বলেন:
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ
“তোমরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াতের মতো নিজেদের প্রদর্শন করো না।” (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৩৩)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
المرأة عورة، فإذا خرجت استشرفها الشيطان
“নারী গোপনীয় (পর্দার বস্তু), তাই যখন সে ঘর থেকে বের হয়, শয়তান তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।” (তিরমিযী, হাদিস: ১১৭৩)
অন্য হাদিসে এসেছে:
بيت المرأة خير لها
“নারীর জন্য তার ঘরই উত্তম।” (আবু দাউদ, হাদিস: ২৪৮২)
অতএব, কোনো নারী যদি বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বেড় না হয়, বরং ঘরেই থেকে ইবাদত, ইলম অর্জন ও পরিবারের দায়িত্ব পালন করে, তবে তা তার জন্য সর্বোত্তম এবং অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এটি কখনো গুনাহ বা খারাপ নিয়ত নয়; বরং এটাই নারীর স্বাভাবিক ও শরিয়তসম্মত অবস্থান।
দ্বীন প্রচার ও দাওয়াতের দায়িত্ব
হ্যাঁ, দ্বীন প্রচার করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব। কিন্তু নারী-পুরুষের জন্য দাওয়াতের পদ্ধতি ভিন্ন। পুরুষ সাধারণত মসজিদ, মাঠ, বাজার ইত্যাদি স্থানে গিয়ে প্রকাশ্যে দাওয়াত দিতে পারে। নারীর জন্য দাওয়াতের প্রধান মাধ্যম হলো:
- নিজের ঘর: স্বামী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ইলম পৌঁছানো।
- ডিজিটাল মাধ্যম: অনলাইনে লিখিত বা অডিও-ভিডিও দিয়ে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া।
- নারীদের মধ্যে: কোনো মাহরাম বা নিরাপদ ব্যবস্থায় নারীদের জায়গায় দাওয়াত দেওয়া।
আপনার বর্তমান পরিকল্পনা – নিজে ইলম অর্জন করে নিজে আমল করা, সন্তান ও পরিবারকে শিক্ষা দেওয়া – এটি অত্যন্ত মূল্যবান। হাদিসে এসেছে:
بلغوا عني ولو آية
“তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও প্রচার করো।” (বুখারি, হাদিস: ৩৪৬১)
এই হাদিসে ঘরের বাইরে গিয়ে প্রচার বাধ্যতামূলক করা হয়নি; বরং যে কেউ যেভাবে পারে – কথায়, লেখায়, আচরণে – দাওয়াত দেবে। আপনি আপনার ফ্যামিলি ও সন্তানদের কাছে দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে এই হাদিস পালন করছেন।
খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ ও উত্তরের পদ্ধতি
আপনার পরিবার খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসা ও নারী সাহাবিদের জিহাদে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে থাকেন। এর সঠিক ব্যাখ্যা:
- খাদিজা (রা.) বিবির ব্যবসা ছিল বিবাহের পূর্বে এবং পরে তিনি ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধির মাধ্যমে করতেন। বিবাহের পর তিনি নিজে বাজারে যেতেন না।
- নারী সাহাবিদের জিহাদে অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং জরুরি পরিস্থিতিতে (যেমন আহতদের সেবা, পানি সরবরাহ) – তাও পর্দার আওতায় এবং পুরুষদের সাথে মিশে নয়।
- কুরআনের নির্দেশ (আহযাব ৩৩:৩৩) নাযিল হওয়ার পর উম্মাহাতুল মুমিনীন (রাসূলের স্ত্রীগণ) প্রায় সম্পূর্ণ ঘরবন্দি হয়ে যান এবং প্রয়োজন ছাড়া বের হতেন না। সুতরাং নারীর জন্য আদর্শ হল তাঁদের জীবন।
এ প্রসঙ্গে ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেছেন: “নারীদের জন্য ঘর থেকে বের হওয়া তখনই জায়েজ যখন জরুরি প্রয়োজন হয় এবং তাও পর্দার সাথে। কিন্তু ঘরে থাকাই তাদের জন্য উত্তম।” (তাফসীর কুরতুবী, ১৪/১১২)
আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর
“আমি যদি ঘরে বসে ইলম অর্জন করি, বাইরে না যাই, বিয়ের পর সুন্দর সংসার করি, সন্তানদের ইলম শেখাই, তবে কি তা খারাপ নিয়ত? আমার কি গুনা হবে? আমার আমল কি বাতিল হবে?”
- না, এটি মোটেও খারাপ নিয়ত নয়; বরং এটি অত্যন্ত পুণ্যময় নিয়ত।
- বাইরে না যাওয়ার জন্য কোনো গুনাহ হবে না, কারণ নারীর জন্য ঘরে থাকাই মূল কর্তব্য।
- আপনার আমল কখনো বাতিল হবে না যদি আপনি ইখলাসের সাথে তা করেন। আল্লাহ বলেন: “যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে এবং ঈমান রাখে, তার প্রচেষ্টা কখনো প্রত্যাখ্যাত হবে না।” (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৯৪)
“আমার আল্লাহ কি আমার ঘরে থাকাতে নারাজ?”
নিশ্চয়ই না! বরং আল্লাহর নারাজি তখনই আসে যখন নারী বিনা প্রয়োজনে অহেতুক বাইরে যায়, সাজসজ্জা করে বের হয়, অমাহরামের সাথে মেলামেশা করে। আপনি তো এসব থেকে দূরে আছেন। আল্লাহ আপনার প্রতি রাজি হবেন ইনশাআল্লাহ।
“আমি যদি ছাত্রী সংস্থায় না যাই, তবে কি দ্বীনের বিরুদ্ধে কাজ করছি?”
ছাত্রী সংস্থায় যোগদান ফরজ নয়। দ্বীন প্রচারের অনেক মাধ্যম আছে। আপনি ঘর থেকেই বই পড়ে, লেখালেখি করে, অনলাইনে ক্লাস করে, পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা দিয়ে দ্বীনের খিদমত করতে পারেন। যদি সংস্থায় যেতে আপনার শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি হয় এবং পড়ালেখা বা পর্দায় সমস্যা হয়, তবে না যাওয়াই উত্তম।
প্রতিপক্ষের যুক্তির জবাব দেওয়ার পদ্ধতি
আপনি পরিবারের সদস্যদের সম্মানের সাথে বুঝানোর চেষ্টা করতে পারেন:
- কুরআন ও হাদিসের দলিল পেশ করুন – যেমন উপরোক্ত আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করে বলুন, “আল্লাহ নিজেই নারীকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।”
- উম্মাহাতুল মুমিনীন এর উদাহরণ দিন – বিবি আয়েশা (রা.) থেকে শুরু করে সকল স্ত্রীগণ পর্দা অবতীর্ণের পর প্রায় ঘরেই থাকতেন।
- আপনার নিজের স্বস্তি ও ইখলাসের কথা বলুন – “আমার ঘরে থাকা ও ইলম অর্জনের মাধ্যমেই আমি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করছি। আমি বাইরে গিয়ে মনোযোগ নষ্ট করতে চাই না।”
- নরম ভাষায় বলুন – “আপনারা আমার মঙ্গল চান, আমি জানি। কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী ঘরে থাকাই আমার জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর।”
উপসংহার
আপনার বর্তমান পথ সঠিক। আপনি দ্বিধায় না পড়ে দৃঢ়ভাবে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকুন। মাথার উপর বারবার চিন্তার ঘূর্ণি আসা স্বাভাবিক; সেই মুহূর্তে বেশি বেশি কুরআন পড়ুন, ইস্তিগফার করুন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
“যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশমতো চলার চেষ্টা করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তম পথ খুলে দেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিক দান করেন।” (সূরা আত-তালাক ৬৫:২-৩)
আপনার ইলম অর্জন, ঘরে অবস্থান, পরিবার ও সন্তানদের শিক্ষাদান – সবই হবে আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার কারণ। আল্লাহ আপনাকে দ্বীনের ওপর দৃঢ় রাখুন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাওফীক দিন। আমীন।
যাজাকিল্লাহু খইরন।