ইস্তেখারার ফলাফল কি পজিটিভ ধরবো নাকি নেগেটিভ ধরবো?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2377
Questioner: Siratul Mustaqeem
Question Asked: 06 Jul 2026, 08:37 AM
Reviewed & Published: 06 Jul 2026, 08:51 AM
Views: 1235
Tokens: 19,513
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহ মাতুল্লহি ওয়াবারকাতুহ।
আমার এক জায়গায় বিয়ের কথা বার্তা চলছে।কথা বার্তা অনেকটা ফাইনাল হওয়ার পথে।আমি এবং পাত্র উভয়ই ইস্তেখারা করেছি।পাত্র জানিয়েছে সে ইস্তেখারার ফলাফল পজিটিভ পেয়েছে অর্থাৎ সে ইস্তেখারা করার পর থেকে আমার দিকে খুব টান অনুভব করছে।আমিও ইস্তেখারা করার পর এই সম্বন্ধে মোটামোটি আকর্ষণ অনুভব করেছি।কিন্তু কয়েকটা প্রবলেমের কারণে ইস্তেখারা কি পজিটিভ কিনা সেটা বুঝতে পারছিনা।সেগুলো পয়েন্ট আকারে বলছি-
১/ বিয়ের অনেক বাঁধা পাচ্ছি।যেমন-তাদের বাড়িঘর দেখতে গিয়ে আমার অভিবাবকরা দেখেছেন তাদের বাড়িতে পর্যাপ্ত পর্দা করার পরিবেশ নেই।এখানে কয়েকদিন বিয়ের কথা বার্তা আগানো বন্ধ ছিলো। অথচ তারা বলেছে পর্দার পরিবেশ আছে।এ কথা যখন আমি পাত্রকে জিজ্ঞেস করি তখন পাত্র বলেছেন উনার প্ল্যান ছিলো বিয়ে ঠিক হলে উনি পর্দার পরিবেশ সেভাবে ঠিক করে নিবে।এখন তিনি পর্দার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বাসা বাড়া নিবেন বলে ডিসেশন নিয়েছেন।তো এখানে এই প্রবলেম টা দূর হলো।
২/এবার সমস্যা হলো পাত্রের বাবা ঢাকায় চাকরি করেন। উনি যখন তখন ছুটি পান না।এজন্য প্ল্যান ছিলো কুরবানি ঈদের পর ১মাস পর পাত্রের বাবা ছুটি ফেলে তখন বিয়ের কথা ফাইনাল করার জন্য সবাই বসবেন।কিন্তু তখনও সমস্যা পাত্রের বাবা ছুটি পাচ্ছিলেন না।এজন্য পাত্র প্ল্যান করেছেন উনি উনার একজন শিক্ষক এবং পাত্র যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক উনারা দুজনি ধার্মিক।উনাদের দুজনকে নিয়ে বসলে বিয়ে যাতে পরিপূর্ণ সুন্নাহ মোতাবেক হয় এজন্য উনাদের ২জনকে রাখবেন আর উনার বাবাকে ভিডিও কলে রাখবেন।পাত্র পক্ষ থেকে পাত্র সহ সরাসরি ৩জন থাকবেন আর পাত্রের বাবা ভিডিও কলে থাকবেন।আর আমাদের পক্ষ থেকে আমার মামা, আব্বু, আর আমার খালু এই ৩জন থাকবেন।এই প্ল্যানটা পাত্র করেছেন।কিন্তু যখন এটা আমার অভিবাবকদের জানানো হয় তখন অভিবাবক রা রাজি হয়নি।উনাদের কথা হচ্ছে পাত্রের বাবা স্ব-শরীরে থাকতে হবে এবং সেই সাথে পাত্রের বোনের জামাই,চাচা,খালু,মামা,এলাকার মুরব্বি ইনাদেরও থাকতে হবে।এগুলো আমার অভিবাবক পাত্র বা পাত্রপক্ষের কাউকে বলেনি।শুধু আমাকে বলেছে।মূলত আমার মামা এই বিষয় টা বিয়ের ঘটক যিনি উনাকে কল করে বলার কথা ছিলো। যাতে করে ঘটক এই কথা টা পাত্র পক্ষকে জানাতে পারেন।কিন্তু এখানেও আমার মামার উনার এক ব্যাক্তিগত কারণে মন মেজাজ খুবি খারাপ থাকায় উনি ঘটককে এটা কল করে আর বলেন নি।তাই এখানেও বিয়ের কথা বার্তা বলা কয়েক দিন বন্ধ ছিলো।পরে কয়েকদিন পর পাত্রের বাবা বলেছেন উনি ছুটি পেয়েছেন।উনি বাড়িতে এসে বিয়ের কথা বার্তা ফাইনাল করার জন্য বসতে চাচ্ছেন।এখন আবার সমস্যা আরেকটা।পাত্রে যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকই মূলত এই বিয়ের ঘটক।উনি আবার দাওয়াতি কাজে চট্টগ্রাম চলে গেছেন।এখন উনি না থাকলে বিয়ের কথা বার্তা ফাইনাল করার জন্য বসবে কিভাবে।এজন্য এখানেও বাঁধা পেতে হলো।এখন বিয়ের ঘটক আর পাত্র দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে পাত্র পক্ষ এবং পাত্রী পক্ষ মিলে বিয়ের কথা বার্তা ফাইনাল করার জন্য কোন বৈঠক বসার দরকার নেই।উনারা দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাবিন কত হবে,উসুল কত হবে,এবং এ জাতীয় কথা বার্তা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।ঘটক এগুলো পরে আমার অভিবাবকদের কল করে জানানোর কথা ছিলো।জানিনা আমার অভিবাবক কে ঘটক কল করেছে কি না।কিন্তু আমি অনেক টা সিউর আমার অভিবাবক রা উভয় পক্ষের বৈঠক বসা ছাড়া কোন ভাবেই এই বিষয় টা মেনে নিবেনা।
৩/অনলাইনে বিভিন্ন দ্বীনি বোনদের এমন অবস্থা দেখি যে তারা পাত্র দ্বীনদার দেখে তাদেরকে বিয়ে করেছে কিন্তু পরে দেখে পাত্র দ্বীনদার নয় বরং সে লেবাসদারী।স্ত্রীর হকও ঠিক মতো আদায় করেনা।দ্বীনি বোনদের এই অবস্থা দেখে এখন আমার তার দ্বীনদারিতা নিয়ে ভয় হচ্ছে যদি সেও এমন হয়।আরেকটা সমস্যাও আছে।একদম প্রথম যখন আমাদের বিয়ের কথা বার্তা শুরু হয় তার কয়েকদিন পর পাত্র নিজে আমাকে জিমেইলে নক করে।এভাবে বিভিন্ন প্রয়োজন দেখিয়ে শয়তানের ওয়াসওয়াসায় পড়ে পাত্র এবং আমি দুজনই অনেকদিন যাবত বিয়ে সম্পর্কিত বিভিন্ন কথা বার্তায় জড়িয়ে যাই।বিয়ের কথা বার্তার বাইরে আর কোন কথা হতো না।এতে আমার আনুশোচনা হয় এবং তার মধ্যেও অনুশোচনা দেখি।এই কথা বার্তা বলার মধ্যে তার কিছু কথা বার্তা এমন ছিলো যেগুলো স্পষ্ট ফেতনা ছড়ায়।এগুলোর কারণে তার উপর আমি বিরক্ত প্রকাশ করলে সে আমার কাছে বারবার ক্ষমা চায় এবং খুব লজ্জিত হয়।তার এসব আচরণের কারণে আমার এখন তার চরিত্র এবং দ্বীনদারিতা দুইটা নিয়েই ভয় এবং সন্দেহ তৈরী হচ্ছে।যদিও তার প্রতিষ্ঠানের মালিক যিনি তিনি একজন আলেম এবং একজন দ্বায়ী।তিনি বলেছেন পাত্র ভালো এবং দ্বীনদার।কারণ পাত্র ৩বছর যাবত উনার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।যার কারণে পাত্র সম্পর্কে উনার ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে।আর পাত্রকে দেখতেও আসলে খুব ভদ্র মনে হয়।চরিত্রহীন একদমি মনে হয়না।এখন বুঝতে পারছিনা সে কি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে এসব ফেতনাকর কথা বলে ফেলেছে নাকি তার মধ্যে আসলেই সমস্যা আছে।আমিও আসলে কখনো কোন ছেলের সাথে কথা বলিনা।পাত্র বলেছে সেও কখনো কোন মেয়ের সাথে কথা বলেনা।এখন আমি কি ধরে নিবো যে সে আসলেই দ্বীনদার কিন্তু আমার মতোই শয়তানের ধোঁকায় পড়ে গেছে?
এখন আমরা যে একে অপরের প্রতি এতো টান অনুভব করছি এটা কি আমরা যে ব্যাক্তিগত ভাবে জিমেইলে এতোদিন চ্যাট করেছি এই কারণে নাকি ইস্তেখারা করার কারণে এই টান অনুভব হচ্ছে?কোন
টা ধরে নিবো?
সব শেষে এখানে কি বিয়েতে আগানো উচিৎ হবে?নাকি বাদ দিয়ে দিবো?

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমেই জেনে নিন, ইস্তেখারা কোনো ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ বা ‘পজিটিভ/নেগেটিভ রেজাল্ট’ নয় বরং এটি আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনার একটি দু‘আ ও ইবাদত। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য যা কল্যাণকর, তা সহজ করে দেন এবং অকল্যাণ থাকলে তা দূর করেন। ইস্তেখারার পর কোনো বিষয়ে সহজতা ও মানসিক প্রশান্তি পাওয়া ভালো লক্ষণ, তবে তার মানে এই নয় যে কোনো বাধাই আসবে না। বরং বাধাগুলো কখনো কখনো পরীক্ষা বা গুনাহ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমও হতে পারে।

আপনার বর্ণিত সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখি:

১. পর্দার পরিবেশের সমস্যা

পাত্র জানিয়েছেন যে বিয়ের পর তিনি আলাদা বাসা নিয়ে পর্দার ব্যবস্থা করবেন। এটি একটি যৌক্তিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। ইসলামে বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর জন্য পৃথক আবাসন ও পর্দার ব্যবস্থা করা ওয়াজিব। পাত্রের বর্তমান বাড়িতে পর্যাপ্ত পর্দা না থাকলেও ভবিষ্যতে তিনি ব্যবস্থা নিতে চান—এটি ইতিবাচক। সুতরাং এই সমস্যা সমাধান হয়েছে বলে ধরা যায়।

২. বিয়ের বৈঠক ও উপস্থিতি সংক্রান্ত সমস্যা

আপনার অভিভাবকরা চান পাত্রের বাবা ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন সরাসরি উপস্থিত থাকুক। অথচ পাত্রের বাবা চাকরির কারণে উপস্থিত হতে পারছেন না এবং পাত্র ভিডিও কলে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, নিকাহের বৈধতার জন্য পাত্র-পাত্রীর পিতার উপস্থিতি জরুরি নয়; বরং দুইজন মুসলিম পুরুষ সাক্ষী বা এক পুরুষ ও দুই নারী সাক্ষীর সামনে ইজাব-কবুল হলেই নিকাহ শুদ্ধ হয় (রদ্দুল মুহতার, ৩/১১)। তবে বিয়ের আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য একটি সভা হওয়া সুন্নত ও মুস্তাহাব, কিন্তু তা জরুরি নয়।

পাত্র ও ঘটক (যিনি একজন আলেম) মিলে মোহর ও অন্যান্য বিষয় ঠিক করে ফেলেছেন এবং পরে ঘটক আপনার অভিভাবকদের কল করে জানানোর কথা বলেছেন—এটি একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনার অভিভাবকরা শুধু বৈঠক বসানোর দাবিতে আপত্তি করছেন, তবে তাদের সাথে আলোচনা করে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে ইসলামী দৃষ্টিতে ভিডিও কলে পিতার উপস্থিতিও গ্রহণযোগ্য (যদি সাক্ষীরা সরাসরি উপস্থিত থাকে)। তবে মনে রাখবেন, পাত্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সমাধানটি (শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের মালিককে সাক্ষী রাখা) সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।

৩. পাত্রের দ্বীনদারি ও চরিত্র নিয়ে সন্দেহ

আপনি লিখেছেন যে পাত্র প্রথমে ইমেইলে যোগাযোগ করে এবং ধীরে ধীরে কথাবার্তা ফেতনাপূর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু পরে সে ক্ষমা চেয়েছে ও লজ্জিত হয়েছে। অন্যদিকে তার প্রতিষ্ঠানের মালিক (একজন আলেম ও দাঈ) তিন বছর ধরে তাকে চেনেন এবং তাকে দ্বীনদার ও ভালো বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এখানে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করুন:

  • তওবা ও অনুশোচনা: পাত্রের আচরণে লজ্জা ও অনুশোচনা দেখে বোঝা যায় যে সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে এবং তা থেকে ফিরে আসতে চায়। ইসলামে তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন।
  • বাহ্যিক আমল ও অন্তর: একজন ব্যক্তির দ্বীনদারি বিচার করার জন্য তার সামগ্রিক আচরণ, নামায-রোযার প্রতি যত্ন, এবং সৎকর্ম দেখা জরুরি। শুধু একটি ভুলের কারণে তাকে দ্বীনদারহীন বলা ঠিক নয়।
  • সাক্ষীর মূল্য: আলেম ব্যক্তির সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যদি বলেন পাত্র দ্বীনদার, তবে তা বিশ্বাসযোগ্য।

আপনার নিজের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা—আপনিও কখনো ছেলেদের সাথে কথা বলেননি, কিন্তু ইমেইলে কথাবার্তা হয়েছে। তাই উভয়েই শয়তানের ওয়াসওয়াসায় পড়েছিলেন। এখন তা থেকে তওবা করাই যথেষ্ট।

ইস্তেখারার ফলাফল ও টান অনুভব করা

আপনারা উভয়েই ইস্তেখারা করার পর একে অপরের প্রতি টান অনুভব করছেন। ইস্তেখারার পরে এমন অনুভূতি আসা একটি ভালো লক্ষণ হতে পারে, তবে এটি পুরোপুরি ইস্তেখারার ফল নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না, কারণ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কথাবার্তাও এতে প্রভাব ফেলে। তাই শুধু অনুভূতির ওপর নির্ভর না করে আক্কেল, পরামর্শ ও শারী‘আতের নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন।

বিয়ে এগিয়ে নেওয়া বা বাদ দেওয়া

পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে:

  • পর্দার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি আছে।
  • বিয়ের বৈঠকের ব্যাপারে পাত্র ও ঘটকের যুক্তিযুক্ত প্রস্তাব আছে।
  • পাত্রের দ্বীনদারি সম্পর্কে একজন আলেমের সাক্ষ্য আছে এবং সে তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত।
  • আপনারাও উভয়েই এখন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং আল্লাহর কাছে ইস্তেখারা করেছেন।

সুতরাং বিয়ে এগিয়ে নেওয়া উচিত, তবে কিছু শর্তে:

  1. পাত্রের সাথে ব্যক্তিগত ওয়াসওয়াসা বা প্রেমালাপ বন্ধ করুন এবং বিয়ের আগে কোনো প্রকার ফেতনা এড়িয়ে চলুন।
  2. আপনার অভিভাবকদের সাথে বসে পাত্রের প্রস্তাবিত পদ্ধতি (ভিডিও কলে পিতার উপস্থিতি ও সাক্ষী হিসেবে আলেমদের রাখা) বোঝানোর চেষ্টা করুন। যদি তারা এখনও আপত্তি করেন, তাহলে পাত্রের বাবা ছুটি পেলে সরাসরি উপস্থিত হয়েই বিয়ের চূড়ান্ত আলোচনা করুন—এটিও সম্ভব।
  3. বিয়ের পর পাত্র যেন পর্দার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন, সেটি চুক্তিতে লিখে নিন বা মৌখিক প্রতিশ্রুতি নিন।
  4. পাত্রের দ্বীনদারি সম্পর্কে আপনি আরও নিশ্চিত হতে চাইলে তার নামায-রোযা, সৎকর্ম, এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম বা তার পরিচিত দ্বীনদার লোকদের কাছ থেকে খোঁজ নিতে পারেন (তবে গোপনীয়তা রক্ষা করে)।

যদি উপরের বিষয়গুলো মেনে নিয়ে বিয়ের পথ সহজ হয়, তাহলে ইস্তেখারার ইতিবাচক ফলাফল ধরা যাবে। আর যদি অভিভাবকদের অনমনীয়তার কারণে বিয়ে করতে গিয়ে অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং কোনো সমাধান না হয়, তাহলে সেই বিয়ে বাদ দেওয়াই ভালো হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে।

উপসংহারে:
ইস্তেখারা করার পর আপনার মধ্যে টান অনুভূত হওয়া এবং কিছু বাধা দূর হওয়া ইতিবাচক লক্ষণ। বাকি সমস্যাগুলো সমাধানযোগ্য। তাই পাত্রের দ্বীনদারি সম্পর্কে আপনার সন্দেহ দূর করতে আলেমের সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করুন এবং নিজেও পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিন। বিয়ের আগে আর কোনো প্রকার ব্যক্তিগত কথা-বার্তা না চালানোর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে বিয়ে এগিয়ে নিন, ইনশাআল্লাহ কল্যাণ হবে।

রেফারেন্স

  • রদ্দুল মুহতার, ৩/১১ (নিকাহের সাক্ষী সম্পর্কিত)
  • ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৮০ (ইস্তেখারা ও তার ফলাফল)
  • বাহিশতি জেওর, ৭ম অধ্যায় (ইস্তেখারার নিয়ম ও তাৎপর্য)
  • ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৩৫৬ (নিকাহের শর্তাবলী)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.