ভুলে কুফরি কথা লিখলে কি ইমান এর সমস্যা হবে?
Waswasa-OCD · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার উল্লেখিত ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং ভুলবশত টাইপিংয়ের ত্রুটি। যেহেতু আপনার ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য ছিল না কোনো কুফরি কথা লেখা, তাই আপনার ঈমানের কোনো সমস্যা হয়নি। ইসলামী শরিয়তে কুফরি বক্তব্য বা কাজের জন্য ইচ্ছা, জ্ঞান ও সচেতনতা অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَٰكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ
“তোমাদের কোনো অপরাধ নেই সেই বিষয়ে যা তোমরা ভুলবশত করে ফেলেছ; কিন্তু তোমাদের অন্তর যা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে (সেই বিষয়ে অপরাধ হবে)।” (সূরা আহযাব: ৫)
এই আয়াতের ভিত্তিতে হানাফি ফিকহের বড় ইমামগণ স্পষ্ট বলেছেন যে, কুফরির জন্য নিয়ত ও সচেতনতা শর্ত। যদি কেউ ভুলে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো কুফরি শব্দ উচ্চারণ করে বা লিখে ফেলে, তবে তার ঈমানের কোনো ক্ষতি হয় না।
ইমাম ইবনে আবেদিন (রহ.) ‘রদ্দুল মুহতার’ গ্রন্থে বলেন:
وَشَرْطُ الْكُفْرِ الْعَمْدُ وَالِاخْتِيَارُ وَالْقَصْدُ
“কুফরির শর্ত হলো ইচ্ছাকৃতভাবে, স্বেচ্ছায় ও সচেতনভাবে তা করা।” (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৮৭)
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) ‘মাআরিফুল কোরআনে’ উল্লেখ করেন যে, ভুল ও অনিচ্ছাকৃত কথা বা কাজের কারণে কেউ কাফির হয় না।
আপনার ক্ষেত্রে আপনি ‘আম্মু’ লিখতে যেয়ে ‘আকবর’ লিখে ফেলেছেন—এটা একটি সাধারণ টাইপিং ত্রুটি। ‘আকবর’ শব্দটি নিজে কোনো কুফরি শব্দ নয়; বরং এটি একটি নাম বা ‘আল্লাহু আকবার’-এর অংশ। কিন্তু আপনার ইচ্ছা ছিল না বলে কোনো সমস্যা নেই।
সুতরাং:
- আপনার ঈমানের কোনো সমস্যা হয়নি।
- কোনো কুফরি কথা লিখেছেন বলে গণ্য হবে না।
- শয়তানের পক্ষ থেকে ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ ও ভীতি) আসতে পারে, তাই এ বিষয়ে বারবার চিন্তা করবেন না।
- তওবা ও ইস্তেগফার করলে আরো ভালো, তবে তা ফরজ নয়।