তালাক সম্পর্কিত

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2324
Questioner: Maher Ahamed
Question Asked: 04 Jul 2026, 06:16 PM
Reviewed & Published: 04 Jul 2026, 06:18 PM
Views: 130
Tokens: 10,123
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

সম্মানিত মুফতি সাহেব,

একটি তালাক-সংক্রান্ত মাসআলার শরয়ি সমাধান জানতে চাই। পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য উল্লেখ করছি না।

এক দম্পতির মধ্যে ছোট একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে স্বামী স্ত্রীকে মারধর করেন। এরপর রাগ ও জেদের বশে বাংলা ভাষায় স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন:

"আমি তোমার সাথে সংসার করব না। ১ তালাক, ২ তালাক, ৩ তালাক।"

ঘটনার সময় স্বামী কী বলছেন তা বুঝতে পারছিলেন এবং জ্ঞান-বুদ্ধি স্বাভাবিক ছিল। তিনি অচেতন বা উন্মাদ অবস্থায় ছিলেন না; তবে প্রচণ্ড রাগান্বিত ছিলেন।

স্বামীর এ কথা শোনার পর স্ত্রী বলেন:

"আমি তো তালাক হয়ে গেছি। আপনি আমার কাছে আসবেন না।"

এর উত্তরে স্বামী বলেন:

"হ্যাঁ, চলে যা। তোর সাথে আমি সংসার করতাম না। তুই তো এটাই চাস। যা, তোর চাওয়া পূরণ করলাম।"

উল্লেখ্য, এর আগে স্বামী কখনো স্ত্রীকে তালাক দেননি।

বিনীতভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর শরয়ি সমাধান জানতে চাই:

১. উপরোক্ত ঘটনার আলোকে শরিয়তের দৃষ্টিতে কয়টি তালাক সংঘটিত হয়েছে?

২. স্বামীর "১ তালাক, ২ তালাক, ৩ তালাক" উচ্চারণ এবং পরবর্তী "চলে যা", "তোর চাওয়া পূরণ করলাম" ইত্যাদি কথাগুলোর শরয়ি প্রভাব কী?

৩. চার মাযহাব (হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি)-এর আলোকে এ মাসআলার হুকুম কী?

৪. কুরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ফিকহি গ্রন্থের দলিলসহ মাসআলাটি ব্যাখ্যা করে জানালে উপকৃত হব।

৫. যদি তিন তালাক সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে উভয়ের জন্য পরবর্তী শরয়ি করণীয় কী? রুজু বা পুনরায় বৈবাহিক সম্পর্কে ফিরে আসার কোনো সুযোগ আছে কি?

আল্লাহ তাআলা আপনাদের ইলম ও খেদমতে বরকত দান করুন।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, স্বামী প্রচণ্ড রাগের মাথায় স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
"আমি তোমার সাথে সংসার করব না। ১ তালাক, ২ তালাক, ৩ তালাক।"
পরে স্ত্রী তালাক হওয়ার কথা বললে স্বামী বলেন: "হ্যাঁ, চলে যা। তোর সাথে আমি সংসার করতাম না। তুই তো এটাই চাস। যা, তোর চাওয়া পূরণ করলাম।"

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন:
১. কয়টি তালাক সংঘটিত হয়েছে?
২. পরবর্তী কথাগুলোর শরয়ি প্রভাব কী?
৩. চার মাযহাবের মত কী?
৪. কুরআন-হাদিসের দলিলসহ ব্যাখ্যা।
৫. তিন তালাক হয়ে থাকলে পরবর্তী করণীয় কী?

নিচে প্রতিটি বিষয়ের শরয়ি সমাধান দলিলসহ পেশ করা হলো।


১. কয়টি তালাক সংঘটিত হয়েছে?

স্বামী স্পষ্টভাবে "১ তালাক, ২ তালাক, ৩ তালাক" বলে তিনটি পৃথক তালাক উচ্চারণ করেছেন। হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, একই মজলিসে (একবারে) তিন তালাক গণনা করলে তা তিনটিই পতিত হয় এবং বিবাহ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যায় (বায়নুনা কুবরা)। কারণ এখানে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, যা একাধিক তালাকের স্পষ্ট ইচ্ছা প্রকাশ করে।

দলিল:

  • কুরআন: সূরা আল-বাকারা (২:২২৯-২৩০)-এ তিন তালাকের পর পুনরায় বিবাহের জন্য হালালা (মহল্লিল) এর শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
  • হাদিস: সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে এবং আবু বকর (রা.)-এর যুগে একত্রে তিন তালাক দিলে তা তিনটিই গণনা করা হতো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৭২)
  • ফিকহি গ্রন্থ:
    • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): “এক মজলিসে তিন তালাক দেওয়া হারাম হলেও তা পতিত হয় এবং বিবাহ ভেঙে যায়।” (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯১)
    • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: “যদি কেউ বলে ‘তুমি এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক’ তাহলে তিন তালাকই পতিত হয়।” (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৫৯)
    • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভি): “সংখ্যা উল্লেখ করে তালাক দিলে সে সংখ্যা অনুযায়ী তালাক পতিত হয়।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২১৫)

সুতরাং প্রশ্নের ঘটনায় তিন তালাক সংঘটিত হয়েছে।


২. পরবর্তী কথাগুলোর শরয়ি প্রভাব

স্বামীর “হ্যাঁ, চলে যা... তোর চাওয়া পূরণ করলাম” ইত্যাদি কথাগুলো মূলত তালাকের প্রতি সমর্থন বা নিশ্চিতকরণ। যেহেতু তিন তালাক ইতিমধ্যে পতিত হয়ে গেছে, তাই এসব কথার দ্বারা নতুন কোনো তালাক সংঘটিত হয় না; বরং এটি তালাকের ইকrar (স্বীকৃতি) হিসেবে গণ্য হবে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ: স্ত্রীর কথা “আমি তো তালাক হয়ে গেছি” - এটি কেবল তার ধারণা বা বক্তব্য; শরিয়তে স্ত্রীর কথা দ্বারা তালাক পতিত হয় না। তালাক স্বামীর ইচ্ছা ও উচ্চারণের ওপর নির্ভর করে। এখানে স্বামী নিজেই তালাক দিয়েছেন, তাই স্ত্রীর কথার প্রয়োজন নেই।


৩. চার মাযহাবের আলোকে মাসআলার হুকুম

(ক) হানাফি মাযহাব:

  • একবারে তিন তালাক দিলে তা তিনটিই পতিত হয় (বায়নুনা কুবরা) এবং পুনরায় বিবাহের জন্য স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ ও সহবাস করে তালাক পেতে হবে (হালালা)।
  • গুরুত্বপূর্ণ: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এক মজলিসে তিন তালাক দেওয়া মাকরুহে তাহরিমি (ঘোরতর অপছন্দনীয়) হলেও তা কার্যকর হয়। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯২)

(খ) মালিকি মাযহাব:

  • একবারে তিন তালাক দিলে তা তিনটিই পতিত হয়। তবে ইমাম মালিক (রহ.)-এর মতে যদি অস্পষ্টভাবে বলায় ইদ্দতের মধ্যে এক তালাক পতিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তা দ্বিতীয় বা তৃতীয় তালাক নাও হতে পারে। কিন্তু এখানে স্পষ্ট সংখ্যা উল্লেখ থাকায় তিন তালাকই পতিত।

(গ) শাফেয়ি মাযহাব:

  • ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মতে, একত্রে তিন তালাক দিলে তিনটিই পতিত হয়। তবে কিছু শাফেয়ি আলিমের মত যে, এক মজলিসে তিন তালাক দেওয়া মাকরুহ হলেও তা কার্যকর।

(ঘ) হাম্বলি মাযহাব:

  • ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর সুপ্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, এক মজলিসে তিন তালাক দিলে তা তিনটিই পতিত হয়। তবে একটি রেওয়ায়েতে এসেছে যে, যদি এক তালাকের নিয়তে তিন বলে ফেলে, তবুও তিনটি পতিত হবে।

সারসংক্ষেপ: চার মাযহাবেই স্পষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করে তিন তালাক দিলে তা তিনটিই পতিত হয় এবং বিবাহ ভেঙে যায়। (মাযহাবগুলোর বিস্তারিত দলিলের জন্য দেখুন: ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু, ড. ওয়াহবা যুহায়লি, ৭/৩৮২-৩৯০)


৪. কুরআন ও সহিহ হাদিসের দলিল

কুরআন:

  • সূরা আল-বাকারা (২:২২৯):

    "الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ"
    অর্থ: "তালাক (প্রত্যাহারযোগ্য) দুইবার। এরপর হয় নিয়ম অনুযায়ী স্ত্রীকে রাখা, অথবা উত্তম পদ্ধতিতে ছেড়ে দেওয়া।"

    • এ আয়াতে দুই তালাকের পর ইদ্দতের মধ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে; কিন্তু তৃতীয় তালাকের পর আর ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।
  • সূরা আল-বাকারা (২:২৩০):

    "فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّىٰ تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ"
    অর্থ: “অতঃপর যদি সে (স্বামী) তাকে তৃতীয় তালাক দেয়, তবে পরে সে তার জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ করে (এবং সেই বিবাহ ভেঙে যায়)।”

হাদিস:

  • সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৭২:

    "عن ابن عباس قال: كان الطلاق على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وسنتين من خلافة عمر طلاق الثلاث واحدة. فقال عمر بن الخطاب: إن الناس قد استعجلوا في أمر كانت لهم فيه أناة، فلو أمضيناه عليهم، فأمضاه عليهم."
    অর্থ: ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে, আবু বকর (রা.)-এর যুগে এবং উমর (রা.)-এর খিলাফতের প্রথম দুই বছর তিন তালাককে এক তালাক গণনা করা হতো। অতঃপর উমর (রা.) বলেন, লোকেরা এমন বিষয়ে তাড়াহুড়ো করছে যাতে তাদের জন্য ধৈর্য ধারণ করা উচিত ছিল। তাই তিনি তাদের ওপর তিন তালাক কার্যকর করলেন।

    • ব্যাখ্যা: এই হাদিসের মাধ্যমে বুঝা যায়, সাহাবায়ে কিরামের একটি অংশের মতে একত্রে তিন তালাক দিলে তা এক তালাক গণনা হতো, কিন্তু উমর (রা.) মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে তিন তালাককে তিনটিই গণনা করার নির্দেশ দেন। হানাফি মাযহাব উমর (রা.)-এর এই ইজতিহাদকেই গ্রহণ করেছে।
  • সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৯৬:

    "عن سهل بن سعد الساعدي قال: طلق رجل امرأته ثلاثًا متفرقات، فلم يجتمعن عنده. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لا تبتغي بها سبيلًا."
    অর্থ: সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে পৃথকভাবে তিন তালাক দিল। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “তুমি তার জন্য কোনো পথ খোঁজো না (অর্থাৎ পুনরায় বিবাহ হারাম)।”


৫. তিন তালাক সংঘটিত হলে পরবর্তী শরয়ি করণীয়

যেহেতু তিন তালাক হয়ে গেছে, তাই এই দম্পতি পরস্পরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। তাদের জন্য নিম্নোক্ত বিধি প্রযোজ্য:

(ক) অবিলম্বে বিচ্ছেদ:

  • স্ত্রীর জন্য স্বামীর সাথে বাস করা জায়েজ নয়। তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে (তিন হায়জ বা তিন মাস) এবং ইদ্দত শেষে সে অন্য কোথাও বিবাহ করতে পারবে।

(খ) রুজু বা পুনরায় বিবাহের সুযোগ:

  • হ্যাঁ, তবে শর্তসাপেক্ষে: তৃতীয় তালাকের পর পুনরায় বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য হালালা (মহল্লিল) আবশ্যক। যেমন:
    1. স্ত্রীকে অন্য কোনো পুরুষের সাথে বিবাহ করতে হবে।
    2. সেই বিবাহ দীর্ঘস্থায়ী হতে হবে এবং সহবাস সম্পন্ন হতে হবে।
    3. তারপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি তালাক দেয় বা মারা যায়, তাহলে ইদ্দতের পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ করা জায়েজ হবে।
    4. শর্ত: দ্বিতীয় বিবাহটি অবশ্যই সহীহ নিয়তে হতে হবে; কোনো শর্তারোপ বা প্রতারণা বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:

    "لعن الله المحلل والمحلل له"
    অর্থ: “আল্লাহ লানত করেন হালালাকারী ও যার জন্য হালালা করা হয়।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২০৭৬)

(গ) করণীয়:

  • স্বামীর উচিত গভীর তওবা করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা।
  • স্ত্রী তার ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দত শেষে সে অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে। পুনরায় প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহের জন্য উপরোক্ত হালালা শর্ত পূরণ করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ নোট:

  • ইসলামী আদালত বা নির্ভরযোগ্য আলিমের মাধ্যমে মাসআলাটি নিষ্পত্তি করাই উত্তম।
  • বর্তমানে অনেক দেশে (যেমন পাকিস্তান, বাংলাদেশ) একত্রে তিন তালাক দেওয়াকে অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আইনগত শাস্তির বিধান রয়েছে। শরিয়তের পাশাপাশি দেশীয় আইন মেনে চলাও আবশ্যক।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

| প্রশ্ন | উত্তর |
|--------|-------|
| কয়টি তালাক হয়েছে? | তিন তালাক পতিত হয়েছে। |
| পরবর্তী কথাগুলোর প্রভাব? | নতুন কোনো তালাক নয়, বরং তালাকের স্বীকৃতি। |
| চার মাযহাবের মত? | সব মাযহাবে স্পষ্ট তিন তালাক দিলে তিনটিই পতিত। |
| কুরআন-হাদিসের দলিল? | সূরা বাকারা (২:২২৯-২৩০), হাদিস (মুসলিম, আবু দাউদ)। |
| পুনরায় বিবাহের সুযোগ? | হ্যাঁ, হালালা (মহল্লিল) ছাড়া নয়। |

উপদেশ: ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকুন এবং পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য ইলমি ও শান্তিপূর্ণ পন্থা গ্রহণ করুন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথ বুঝার ও চলার তাওফিক দিন।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.