এক দিরহামের কম সাদাস্রাব পায়জামায় লাগলে কি তা পাক করতে হবে এবং প্যান্টে পায়খানা লাগলে তা পরিষ্কার করার নিয়ম

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2316
Questioner: Binthi Saiyara
Question Asked: 04 Jul 2026, 04:13 PM
Reviewed & Published: 04 Jul 2026, 04:16 PM
Views: 65
Tokens: 14,733
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
এক দিরহামের কম সাদা স্রাব পায়জামায় লাগলে তা পাক ধরা হয় এবং তা দিয়ে নামাজ পড়া যায়।
১) কিন্তু পায়জামায় এক দিরহামের কম সাদাস্রাব লাগলে তা কি নাপাক কাপড়ের মতো তিন বার পানি পাল্টিয়ে ধুতে হয়?নাকি পাক কাপড়ের মতো করে ধুবো? যেহেতু এক দিরহামের কম সাদাস্রাব লাগলে কাপড়কে পাক ধরা হয় সেহেতু পাক কাপড়ের মতো করে ধুইলে হবে না? অর্থাৎ যে পায়জামায় এক দিরহামের কম সাদাস্রাব লেগেছে সেই পায়জামা টি বালতির পানিতে চুবিয়ে যেই জায়গায় সাদা স্রাব লেগেছে সেই জায়গা টা একটু কচলিয়ে বা ঘষে ধুয়ে ফেললাম। এভাবে ধুলে কি হবে?
এবং এভাবে ধুতে গেলে যে জায়গায় এক দিরহামের কম সাদা স্রাব লেগেছে সেই জায়গার আশে পাশেও একটু পানি লাগে ধোঁয়ার সময়। এক্ষেত্রে কি করবো?পুরো কাপড় এতে নাপাক হয়ে যাবে?

পায়জামায় সামান্য সাদা স্রাব লেগেছে এক দিরহামের কম হবে। প্রস্রাব করার পর লজ্জা স্থান ধৌত করার পর কিছু পানি তো পায়জামায় লাগে। সেই পানি যেই জায়গা টায় সামান্য সাদা স্রাব লেগেছে সেই জায়গায় মনে হয় পড়েছে।আমি দেখেছি যে জায়গায় সাদা স্রাব লেগেছে সেই জায়গার আশে পাশে একটু পানি লেগে ভিজে গেছে কিন্তু আমি শিওর ছিলাম না যে সাদা স্রাবের জায়গাটাতেই পানি পড়েছে কিনা।যখন পানি পড়ে তখন সাদা স্রাব দেখা যাচ্ছিল না।পরে পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর দেখি সাদা স্রাব হালকা দেখা যায়। তখন অনুমান করি যে,হয়ত এই সাদা স্রাবের জায়গাটাতেই পানি পড়েছে।তো প্রশ্ন হলো,
২)এক দিরহামের কম সাদা স্রাবে যে পানি লেগেছে এতে পানি লাগার কারণে সাদা স্রাব ছড়িয়ে কি এখন বেশি হয়ে গেছে?এখন এই পায়জামা কি নাপাক হয়ে গেছে? তিনবার পানি পাল্টিয়ে ধুতে হবে?
বি.দ্র.আগে যতোটুকু পরিমাণ ছিল পানি লাগার পর পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর তার থেকে মনে হয় পরিমাণ কমে গেছে এবং কালার টা এখন আগের থেকে হালকা দেখা যাচ্ছে।

৩) প্যান্টে যদি নিজের পায়খানা লাগে তাহলে তা কিভাবে পাক করবো?উপর থেকে যদি মগ দিয়ে প্রথমে পানি ঢেলে পায়খানা দূর করতে চাই এক্ষেত্রে প্যান্টের আশে পাশে একটু পানি লাগতে পারে।উপর থেকে একটু পানি ঢাললে আশেপাশে পানির ছিটকি লাগেই।এটা থেকে তো পুরোপুরি বেঁচে থাকা যায় না। এক্ষেত্রে পুরো প্যান্ট কি নাপাক হবে?এবং প্যান্ট টি জিন্সের প্যান্ট।এটা কিভাবে তিনবার করে চেপে পানি বের করবো?এ ধরনের প্যান্ট তো শক্ত হয়।
যে স্থানে ধুবো তার আশেপাশেও একটু পানির ছিটকি লাগতে পারে।আমি টিউবওয়েল পাড়ে ধুবো সেখানে অনেক ইট ও আছে। এক্ষেত্রে যেই স্থানে পানির ছিটকি লেগেছে ঐ স্থানগুলোও নাপাক হবে? সেখানে তো ঠিক নির্ণয় করাও সম্ভব না যে ঠিক কোথায় কোথায় পানির ছিটকি লেগেছে। এক্ষেত্রে ঐ জায়গাগুলো কিভাবে পাক করবো?

Answer

উত্তর প্রদান করছি:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

☪️ প্রথম প্রশ্ন: পায়জামায় এক দিরহামের কম সাদা স্রাব তিনবার ধুতে হবে নাকি শুধু জায়গাটা ধুলেই হবে?

উত্তর:
হানাফী ফিকহে নাপাক কাপড়ের দাগ যদি এক দিরহাম পরিমাণ বা তার চেয়ে কম হয় (যার ব্যাস প্রায় ৩-৪ সেমি), তাহলে তা নামাযের জন্য মা’ফু (ক্ষমাযোগ্য)। কিন্তু কাপড়টিকে নাপাক বলেই গণ্য করা হয়, শুধু নামায সহিহ হয়ে যায়। অর্থাৎ উক্ত পরিমাণ নাপাকি নামাযকে নষ্ট করে না কিন্তু কাপড়টি এখনও নাপাক। ফলে তা নাপাক কাপড়ের মতোই ধৌত করতে হবে – একে ‘পাক কাপড়ের মতো’ ধোয়ার সুযোগ নেই। কেননা নাজাসাত (নাপাকি) কাপড়ে লেগেছে; সেটি দিরহামের কম হলেও তা দূর করতেই হবে (যদিও নামায পড়া যায়)।

ধৌত করার পদ্ধতি:

  • তরল নাপাকি (যেমন পেশাব, মযী, মাদ্হী ইত্যাদি) দূর করতে হলে তিনবার পানি ঢেলে চেপে পানি বের করতে হবে, অথবা প্রবাহমান পানির নিচে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে যাতে নাপাকির চিহ্ন চলে যায়।
  • আপনি বালতির পানিতে কাপড় চুবিয়ে শুধু জায়গাটা কচলিয়ে দিয়েছেন – এটি ঠিক নয়। কারণ বালতির পানি নাপাক হয়ে যাবে এবং পুরো কাপড়টি সেই নাপাক পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ায় পুরো কাপড় নাপাক হয়ে যাবে। আপনার উচিত:
    (ক) কলের নিচে বা প্রবাহিত পানির সাহায্যে কেবল নাপাক জায়গাটি ঘষে ধোয়া
    (খ) অথবা পৃথক পাত্রে পানি নিয়ে নাপাক জায়গায় বারবার ঢেলে চেপে চেপে ধোয়া এবং পানিটা ফেলে দেওয়া।
    (গ) এভাবে ধোয়ার সময় আশপাশের জায়গায় যে পানি লাগে, তা যদি নিম্নোক্ত শর্ত পূরণ করে তাহলে পুরো কাপড় নাপাক হবে না: শুধু নাপাক জায়গা থেকে পাতলা পানি (ধোয়ার পানি) যে পরিমাণ আশপাশে লাগে তা যদি নাপাকের চিহ্নমুক্ত হয় এবং বেয়ে পড়ে তবে সেটি অপবিত্র গণ্য হয় না। কিন্তু আপনি যদি নাপাক জায়গায় হাত দিয়ে পুরো কাপড় পানিতে চুবিয়ে ফেলেন, তাহলে পুরোটাই নাপাক হয়ে যাবে।

তাই আপনার প্রথম পদ্ধতিটি ত্যাগ করা জরুরি।


☪️ দ্বিতীয় প্রশ্ন: নাপাক জায়গায় পানি পড়ে স্রাব ছড়িয়ে পড়ার আশংকা

উত্তর:

  • আপনি নিশ্চিত ছিলেন যে শুরুতে নাপাকি এক দিরহামের কম ছিল।
  • পরে পানি পড়ার কারণে দাগের আকার ছোট ও হালকা হয়েছে – এটি বুঝায় যে নাপাকির কিছু অংশ ধুয়ে গেছে (অথবা ছড়িয়ে পড়া নাও থাকতে পারে)।
  • হানাফী ফিকহের নীতি: “يَقِينٌ لَا يَزُولُ بِالشَّكِّ” (নিশ্চিত জিনিস সন্দেহে দূর হয় না)।
    আপনি নিশ্চিত ছিলেন যে নাপাকির পরিমাণ দিরহামের কম। পানি লাগার পর সন্দেহ হচ্ছে যে তা বেড়ে গেছে কিনা – এ সন্দেহের কারণে পূর্বের নিশ্চিত অবস্থা পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ এখনও তা এক দিরহামের কমই গণ্য হবে।
  • কিন্তু পানি নিজেই যদি আগে থেকে নাপাক হয়ে থাকে (যেমন ইস্তিঞ্জার পানি), তাহলে সেই পানি নাপাক জায়গায় পড়ে তা নতুন করে নাপাকি ছড়াচ্ছে। তবে দাগ যদি আগের চেয়ে ছোট ও হালকা হয়, তাহলে বোঝা যায় নাপাকি কমেছে, বাড়েনি। তাই কাপড়টি নাপাক ধরা হবে না (বরং পূর্বের নাপাকি মুছে যাচ্ছে বলে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে)।

সুন্নাহ পদ্ধতি: আপনাকে নাপাক জায়গাটি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে যাতে সরাসরি নাপাকি দূর হয়। তিনবার ধোয়ার প্রয়োজন নেই যদি একবারেই দাগ চলে যায়। তবে পেশাবের মতো নাজাসাত হলে তিনবার চেপে ধোয়া সুন্নাত।

উপসংহার: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী এখনও তা দিরহামের কমই আছে বলে ধরে নেওয়া হবে, এবং নামায সহিহ হবে। তবে উত্তম হলো পুরো জায়গাটি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা।


☪️ তৃতীয় প্রশ্ন: পায়খানা লেগে থাকা জিন্স প্যান্ট এবং আশপাশের পানি ছিটকির বিধান

প্যান্ট পাক করার নিয়ম:
১. প্রথমে শক্ত পায়খানা একটি টিস্যু বা পাতার সাহায্যে সরিয়ে ফেলুন।
২. তারপর প্যান্টের নাপাক স্থায় প্রবাহমান পানির নিচে ঘষে ধুয়ে ফেলুন অথবা মগ থেকে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। যেহেতু জিন্স মোটা ও শক্ত, তাই চেপে পানি বের করা কষ্টকর। এই ক্ষেত্রে আপনি বারবার পানি দিয়ে ঘষে ধুতে থাকুন যতক্ষণ না নাপাকির রং, গন্ধ ও দেহাবশেষ সম্পূর্ণভাবে চলে যায়। জিন্স প্যান্টের জন্য ‘তিনবার চেপে পানি বের করা’ শর্ত নয়; বরং নাপাকি দূর হওয়াই শর্ত। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৪)
৩. ধোয়ার সময় যে পানি ছিটকে আশপাশের টিউবওয়েলের পাড়, ইট বা মাটিতে পড়বে – তা সে স্থানকে নাপাক করে দেবে।

ছিটকি পড়া জায়গা পাক করার নিয়ম:

  • যদি জায়গাটি মাটি বা কাঁচা হয় তবে সেটি শুকিয়ে গেলে নাপাকি চলে যায় (ইসতিহালাহ)। কিন্তু আপনার উল্লেখিত ইট বা সিমেন্টের শক্ত জায়গা – তা শুকালে পবিত্র হয় না। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন:
    (ক) দৃশ্যমান নাপাকির চিহ্ন যদি থাকে (যেমন রং, গন্ধ), তাহলে তা দূর করতে হবে।
    (খ) যদি চিহ্ন না থাকে কিন্তু আপনি নিশ্চিত যে সেখানে নাপাক পানি লেগেছে, তবে সেই জায়গায় তিনবার পানি ঢেলে ধুয়ে ফেলতে হবে অথবা এমন পরিমাণ পানি ঢালতে হবে যাতে পানি বয়ে যায় এবং সেই পানি তুলে ফেলা হয়।
    (গ) কিন্তু যদি ঠিক কোথায় ছিটকি লেগেছে তা নির্ণয় করা অসম্ভব হয়, তাহলে সাধারণত ধরে নেওয়া হবে যে ইটের ওপরে শুকিয়ে গেলে তা পাক হয়ে গেছে। কেননা হানাফী ফিকহে “البلوى” (অনিবার্য সংকট) হিসেবে ক্ষমা করা হয়। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/১১২)
    তবে উত্তম হলো: যে সমস্ত ইট বা স্থানে পানি পড়ার সম্ভাবনা আছে, সেগুলতেও পানি ঢেলে দিয়ে ধুয়ে নেওয়া।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

  • পায়খানা বা পেশাব ধোয়ার পর পাইপের নিচে বা টিউবওয়েল পাড়ের যে জায়গা ভিজে যায়, তা আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে আরও পানি ঢেলে পরিষ্কার করতে পারেন
  • প্যান্ট যখন ধোবেন, তখন ফেলে দেওয়া নাপাক পানি যেন অন্য পবিত্র জায়গায় না লাগে, সেদিকে লক্ষ রাখুন।

☪️ সংক্ষেপে উত্তর:

| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|-------| | ১. দিরহামের কম স্রাব কি ‘পাক কাপড়ের মতো’ ধোয়া যাবে? | না, আপনাকে নাপাক কাপড়ের সঠিক নিয়মে (প্রবাহিত পানি বা তিনবার চেপে) ধুতে হবে। বালতিতে ডুবিয়ে শুধু ঘষা যথেষ্ট নয়; তা পুরো কাপড় নাপাক করে দিতে পারে। | | ২. পানি লেগে দাগ ছড়ানোর আশংকা | পূর্বে কম ছিল বলে নিশ্চিত থাকলে পানি লাগার পরও তা কমই থাকবে (ইসতিহসাব)। তবে দূর করার জন্য নাপাক জায়গা আবার ধুয়ে নিন। | | ৩. জিন্সে পায়খানা লেগে ধুতে গেলে পানি ছিটকে যাওয়া | প্যান্ট ধৌত করে নিন, চাপ দিতে না পারলেও দাগ চলে গেলেই পাক। ছিটকে পড়া পানি ইট-পাথরে তিনবার পানি ঢেলে ধুয়ে ফেলুন যদি জানা যায়। সম্ভব না হলে ক্ষমা যোগ্য। |

সর্বোত্তম পন্থা: আপনি যদি নিশ্চিত না হন, তাহলে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করুন। কিন্তু নাজাসাতের ব্যাপারে عين (দৃশ্যমান) বা یقین (নিশ্চিত) ছাড়া বাড়াবাড়ি করার প্রয়োজন নেই।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.