Islamic ruling on government allowance obtained through bribery and whether to return or give as sadaqah.
Halal and Haram · Hanafi
Question
১.আমার ছেলের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছিলো সমাজ কল্যাণ অফিসের এক কর্মচারীকে ঘুষ খাওয়ানোর মাধ্যমে।কিন্তু পরবর্তীতে আমি আমার ভুল বুঝতে পারি যে আমার এমন করা উচিত হয়নি।আমার ছেলে বর্তমানে এই ভাতা ভোগ করার যোগ্যও না।আমি পরবর্তীতে এই ভাতা দেওয়া যেন বন্ধ করে দেওয়া হয় জানিয়ে দিয়েছিলাম।কিন্তু তার পরও এ বছর দশ হাজারের বেশি ভাতার টাকা নগদ একাউন্টে চলে এসেছে।এই টাকা গুলো আমরা এখন কি করবো?সমাজ কল্যাণ অফিসে যদি এই টাকার বিষয়ে জানানো হয় তাহলে এই টাকা গুলো নিয়ে তারা আত্মসাৎ করে ফেলবে এর সম্ভাবনা খুব বেশি।তাই উনাদের টাকার বিষয়টি জানাতে চাচ্ছিনা।আমাদের এখন করনীয় কি?এগুলো কি সাদাকাহ্ করে দিব?
আমার বড় ভাসুরের মেয়ের জামাই অসুস্থ অবস্থায় আছে।ভাসুরের মেয়ের সম্পদ আছে কিন্তু সেই সম্পদ থেকে তিনি তেমন সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারছেনা তার মা,ভাইদের কারণে।আর ভাসুরের মেয়ের জামাইর অর্থিক অবস্থা বেশি ভালোনা কোনমতে চলেন।এই অবস্থায় ভাসুরের মেয়ের জামাইকে এই ভাতার টাকা গুলো কি সাদাকাহ্ করা যাবে?
২.আমার স্বামী মদ পান করেন।তো তিনি যেদিন মদ পান করবেন ঐদিন আমাকে মুরগী,ছোলা বা আলুর দম এগুলো রান্না করতে বলেন যদিও তিনি এটা উল্লেখ করেননা যে এগুলো মদ পানের সময় খাবেন কিন্তু আমি ঠিকই বুঝতে পারি তার উদ্দেশ্য কি।এই অবস্থায় আমার করনীয় কি?আমি কি তার জন্য এগুলো রান্না করে দিব?
Answer
উত্তর
প্রশ্নটি দুটি অংশে বিভক্ত। নিচে প্রতিটি অংশের শরয়ী সমাধান দেওয়া হলো।
১. প্রতিবন্ধী ভাতা সংক্রান্ত প্রশ্ন
প্রথম অংশ:
আপনার ছেলের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা রেজিস্ট্রেশন করানোর সময় আপনি ঘুষ দিয়েছেন। ঘুষ (রিশওয়াত) দেওয়া ও নেওয়া ইসলামে স্পষ্ট হারাম। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে:
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ
“তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না এবং বিচারকদের কাছে (ঘুষরূপে) তা পেশ করো না, যাতে তোমরা জেনেশুনে অন্যদের কিছু সম্পদ অন্যায়ভাবে খেতে পার।” (সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৮)
এছাড়া হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَعَنَ اللَّهُ الرَّاشِيَ وَالْمُرْتَشِيَ
“আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতাকে।” (আবু দাউদ, সুনান, কিতাবুল আকদিয়াহ, হাদীস নং ৩৫৮০; তিরমিযী, সুনান, হাদীস নং ১৩৩৭)
দ্বিতীয়ত:
আপনার ছেলে বর্তমানে ভাতা পাওয়ার যোগ্য নয়। অথচ সরকারি অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে। যেহেতু এটি অন্যায়ভাবে (ঘুষের মাধ্যমে) প্রাপ্ত টাকা এবং আপনার ছেলে এর হকদার নয়, তাই এই টাকা আপনার জন্য হালাল নয়। আপনাকে তা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
তৃতীয়ত:
আপনি বলছেন যে সমাজ কল্যাণ অফিসে জানালে কর্মচারীরা টাকা আত্মসাৎ করতে পারে। এই আশঙ্কা সঠিক হলে, সরাসরি তাদের হাতে টাকা ফেরত দেওয়া জায়েয হবে না, কারণ এতে টাকা নষ্ট হওয়ার এবং পুনরায় অন্যায়ের আশ্রয় লাভের সম্ভাবনা থাকে। সেক্ষেত্রে শরীআহর নীতি হলো:
إذا تعذر الرد إلى المالك فتصدق به
“যখন প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া অসম্ভব বা কঠিন হয়, তখন তা সদকা করে দেওয়া উচিত।” (ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, ৫/৩৪৪; রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৮৫)
অতএব, আপনি উক্ত টাকা সদকা করে দিন। তবে সদকা করার সময় নিম্নোক্ত শর্তাবলী খেয়াল রাখবেন:
- টাকাটি নিজের জন্য ব্যবহার করবেন না, বরং সম্পূর্ণভাবে দান করে দিন।
- দানের মাধ্যমে আপনি সওয়াবের নিয়ত করবেন না, বরং এটা হারাম সম্পদ থেকে মুক্তি পাওয়ার নিয়তে করুন।
- দান করবেন এমন গরীব-মিসকীনকে, যারা টাকার প্রকৃত মালিক (সরকার) নয়। আপনার আত্মীয়-স্বজনকে দিলেও চলবে, তবে শর্ত হলো তারা সত্যিকার অর্থে অভাবগ্রস্ত ও গ্রহণযোগ্য হকদার হবেন।
আপনার ভাসুরের মেয়ের জামাইকে টাকা দেওয়া প্রসঙ্গে:
তিনি যদি সত্যিই অভাবী ও অসুস্থ হন এবং তার নিজস্ব সম্পদ থেকে তিনি উপকৃত হতে না পারেন, তাহলে তাকে এই সদকার টাকা দেওয়া জায়েয। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তার স্ত্রীর (ভাসুরের মেয়ের) নিজস্ব সম্পদ থাকলেও তা থেকে তিনি যদি প্রকৃতপক্ষে সুবিধা না পান, তবে তিনি নিঃস্ব হিসেবেই গণ্য হবেন। সুতরাং তাকে সদকা দেওয়া যাবে। তবে আপনার নিজের জন্য এই টাকা ব্যবহার বা নিজের পরিবারের অন্য কাউকে হাদিয়া দেওয়া জায়েয নয়।
সারসংক্ষেপ:
- টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো নিরাপদ ও ন্যায়পরায়ণ কর্তৃপক্ষ থাকলে (যেমন উচ্চতর সরকারি দপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন ইত্যাদি) তাদের মাধ্যমে ফেরত দিন।
- যদি তা সম্ভব না হয় এবং আত্মসাতের আশঙ্কা থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ টাকা নিষ্কণ্টকভাবে সদকা করে দিন।
- সদকার টাকা আপনার ভাসুরের মেয়ের জামাইকে দেওয়া যেতে পারে, যদি তিনি প্রকৃত অভাবী হন।
২. স্বামী মদ পান করলে তাঁর জন্য রান্না করা
প্রশ্ন:
আপনার স্বামী মদ পান করেন। তিনি যে দিন মদ পান করেন, সেদিন আপনাকে মুরগি, ছোলা বা আলুর দম রান্না করতে বলেন। আপনি বুঝতে পারেন যে এটি মদপানের সময় খাওয়ার জন্য। আপনার করণীয় কী?
উত্তর:
ইসলামে মদ পান করা স্পষ্ট হারাম। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মুমিনগণ! নিশ্চয় মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীর—এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (সূরা আল-মায়িদা, ৫:৯০)
স্বামীকে মদ পান করতে সহযোগিতা করা বা তাঁর জন্য মদপানের সময় ভোজন-সামগ্রী তৈরি করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
“তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় সহযোগিতা করো, পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না।” (সূরা আল-মায়িদা, ৫:২)
হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
لَعَنَ اللَّهُ الْخَمْرَ وَشَارِبَهَا وَسَاقِيَهَا وَبَائِعَهَا وَمُبْتَاعَهَا وَعَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِ
“আল্লাহ লানত করেছেন মদকে, পানকারীকে, পরিবেশনকারীকে, বিক্রেতাকে, ক্রেতাকে, উৎপাদনকারীকে, যার জন্য উৎপাদন করা হয়, বহনকারীকে এবং যার জন্য বহন করা হয়।” (আবু দাউদ, সুনান, কিতাবুল আশরিবাহ, হাদীস নং ৩৬৭৪; তিরমিযী, হাদীস নং ১২৯৫)
আপনার স্বামী যে দিন মদ পান করেন, সেদিন যদি তিনি আপনাকে রান্না করতে বলেন এবং আপনি নিশ্চিতভাবে জানেন যে তা মদপানের সময় খাওয়া হবে, তাহলে তা প্রস্তুত করা গুনাহের কাজে সহযোগিতা হওয়ার কারণে নাজায়েয। আপনি তাকে বিনয়ের সাথে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে এটি আপনার জন্য জায়েয নয়। যদি তিনি জোর করেন, তবুও আপনি তা করবেন না। কেননা স্বামীর আনুগত্য কেবল বৈধ কাজেই ফরয, হারাম কাজে নয়। হাদীসে এসেছে:
لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
“সৃষ্টিকর্তার নাফরমানীতে সৃষ্টির কোনো আনুগত্য নেই।” (বুখারী, সহীহ, কিতাবুল আহকাম, হাদীস নং ৬৭২৫; মুসলিম, সহীহ, হাদীস নং ১৮৪০)
করণীয়:
- আপনি যদি নিশ্চিত হন যে তিনি ঐ খাবার মদপানের সময় খাবেন, তবে তা রান্না করা থেকে বিরত থাকুন।
- এর বদলে অন্য কোনো সময়ের জন্য বা পরিবারের জন্য সাধারণ রান্না করে দিতে পারেন।
- ধৈর্যের সাথে স্বামীকে বুঝান, মদের ক্ষতি ও কবীরা গুনাহ সম্পর্কে সচেতন করুন এবং তাওবার প্রতি উৎসাহিত করুন।
- আপনি নিজে নামায, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন।
মনে রাখবেন:
যদি তিনি সরাসরি না বলেন যে এটি মদপানের জন্য, কেবল সাধারণ রান্নার অনুরোধ করেন, তাহলে আপনি তা রান্না করে দিতে পারেন। কিন্তু এখানে আপনার অন্তর্নিহিত জ্ঞান থাকার কারণে আপনি বুঝতে পারছেন যে এটি সেই উদ্দেশ্যে। তাই সন্দেহ ও নিশ্চিততার ভিত্তিতে আপনার জন্য উত্তম হলো পরিহার করা। তবে যদি তিনি একান্তই জোর দেন এবং আপনি অস্বীকার করলে ঝগড়া বা মারপিটের আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি শরীয়তের বাধ্যবাধকতার আওতায় তাকে খাবার দিতে পারেন, কিন্তু এতে আপনার গুনাহ হবে না, বরং গুনাহ হবে তাঁর। তবে সর্বোত্তম হলো আল্লাহর ভয়ে বিরত থাকা এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা।