স্বামীর 'থাকবো না', 'সম্পর্ক রাখা সম্ভব না' ইত্যাদি কথায় তালাক হয় কিনা?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2256
Questioner: Roman Tinni
Question Asked: 03 Jul 2026, 06:51 AM
Reviewed & Published: 03 Jul 2026, 07:25 AM
Views: 75
Tokens: 4,755
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম। আমার স্বামী আমাকে ঝগড়ার সময় অনেকবার বার থাকবো না বলে। পরে উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বলে আলাদা বাসায় থাকার কথা কিন্তু আমি যখন উনাকে ঐ উদ্দেশ্য মানে তালাক কিনা বুঝিয়েছি তখন উনি হ্যা ঐটাই বলেছে। পরে এগুলা নিয়ে কথা বলতে গেলে উনি বলে এভাবে সম্পর্ক রাখা সম্ভব না। তুমি তোমার মা বাবার সাথে কথা বলো।কিন্তু যখনই আমি রেগে জিজ্ঞাসা করি উনি তখনই বলে আলাদা বাসার কথা বলেছে। পরে উনি আল্লাহর নামে কসম করে বলেছে উনি দুজন দুই জায়গা থাকার কথা বলেছে।সম্পর্ক ঠিক থাকবে কিন্তু থাকবো ভিন্ন জায়গায়।

এখানে কি তালাক হয়েছে??

Answer

উত্তর: আপনার বিবাহিত জীবন এখনও বহাল রয়েছে। উল্লিখিত ঘটনায় কোনো তালাক হয়নি।

বিশ্লেষণ ও ফিকহী ব্যাখ্যা

তালাকের ক্ষেত্রে শব্দের স্পষ্টতা (সরীহ) বা ইঙ্গিত (কিনায়া) এবং নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। হানাফী ফিকহ অনুযায়ী:

  1. শব্দের প্রকৃতি:

    • আপনার স্বামী কর্তৃক উচ্চারিত “আমি থাকবো না” বা “এভাবে সম্পর্ক রাখা সম্ভব না” ইত্যাদি বাক্য সরীহ (স্পষ্ট) তালাকের শব্দ নয়। এগুলো কিনায়া (অস্পষ্ট/ইঙ্গিতবোধক) শব্দ।
    • কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক তখনই কার্যকর হয়, যখন উচ্চারণকারীর নির্দিষ্ট নিয়ত তালাকের থাকে। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৬০; ফতোয়া আলমগীরী, ১/৩৭৩)
  2. নিয়তের দ্বিধা:

    • প্রথমে স্বামী বলেন, তিনি ‘আলাদা বাসায় থাকা’ বুঝিয়েছেন (তালাক নয়)।
    • পরে স্ত্রীর জিজ্ঞাসায় তিনি বলেন, “হ্যা, ঐটাই বলেছি” – তবে পরবর্তীতে তিনি আল্লাহর নামে কসম করে স্পষ্টভাবে বলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল শুধু আলাদা বসবাস, সম্পর্ক ঠিক রাখা।
    • হানাফী ফিকহে এমন অবস্থায় স্বামীর পরবর্তী স্পষ্টীকরণ ও কসমকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কারণ, নিয়ত গোপন বিষয়; ব্যক্তি নিজের নিয়ত সম্পর্কেই সবচেয়ে ভালো জানেন। (ইমদাদুল ফতোয়া, ২/১৮৭; ফতোয়া উসমানী, ২/৪৫৬)
  3. তালাক না হওয়ার মূলনীতি:

    • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, কিনায়া শব্দে তালাকের সন্দেহ থাকলে তালাক পতিত হবে না। (আল-হিদায়া, ২/২৪৩)
    • ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, যদি নিয়ত স্পষ্ট না হয়, তাহলেও তালাক পতিত হবে না। (শরহু মা‘আনিল আসার, ২/১১৪)
    • বর্তমান অবস্থায় স্বামী নিজেই তার কথাকে ‘আলাদা বাসা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং আল্লাহর নামে কসম করেছেন। তাই তালাক অকার্যকর

গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • স্বামী কর্তৃক “এভাবে সম্পর্ক রাখা সম্ভব না” বলাও তালাকের ইঙ্গিত নয়, বরং এটি পারিবারিক সমস্যার প্রতি ইঙ্গিত।
  • আপনি যদি তালাকের ব্যাপারে নিশ্চিত না হন, তাহলে তালাক গণ্য হবে না। (বাহিশতী জেওর, ৮/৩২)

পরামর্শ

  • উভয়ে ধৈর্য ধরে পরস্পরের সঙ্গে বসে আলোচনা করুন।
  • ভবিষ্যতে গালিগালাজ, তালাকের হুমকি বা অস্পষ্ট কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
  • প্রয়োজনে পরিবারের বড়জন বা আলেমের মাধ্যমে মীমাংসা করুন।

সারসংক্ষেপ: প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী কোনো তালাক হয়নি। আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক আগের মতোই বহাল আছে।


সূত্র

  • রদ্দুল মুহতার (৩/২৬০, ২৬৪)
  • ফতোয়া আলমগীরী (১/৩৭৩)
  • ইমদাদুল ফতোয়া (২/১৮৭)
  • ফতোয়া উসমানী (২/৪৫৬)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.