আমি তোমার সাথে থাকবো না বললে তালাক হবে কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2253
Questioner: Tinnj Akter
Question Asked: 03 Jul 2026, 01:31 AM
Reviewed & Published: 03 Jul 2026, 02:50 AM
Views: 63
Tokens: 4,016
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম। আমার স্বামী আমাকে বলেছে উনি আমার সাথে থাকবেনা।অনেকবার বলেছে তখন আমি উনাকে বলেছি আপনি এসব কি বলেন। উনি বলে কেন স্বামী স্ত্রী কি আলাদা থাকেনা?? তখন আমি উনাকে বলেছি আপনি কি ঐ উদ্দেশ্যে বলেছেন( মানে আমি তালাকের উদ্দেশ্যের কথা জিজ্ঞাসা করেছি যদি মুখ দিয়ে বলিনি)? উনি বলেছেন হ্যা ঐ উদ্দেশ্যেই বলেছি জানি না উনি বুঝে বলেছেন কিনা। পরে উনাকে আবার জিজ্ঞাসা করলে উনি বলে স্বামী স্ত্রী আলাদা বাসায় থাকার কথা বলেছে।তখন আমি বলি আমি তো ঐ বলতে তালাকের কথা জিজ্ঞাসা করছি। তখন উনি বলে তুমি কোন উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করছো তা জানার দরকার আছে??
এখানে কি তালাক হবে??

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আপনার বর্ণিত ঘটনায় আপনার স্বামী প্রথমে বলেছেন, "আমি তোমার সাথে থাকবো না।" তারপর যখন আপনি জিজ্ঞাসা করলেন যে তিনি তালাকের উদ্দেশ্যে বলেছেন কিনা, তিনি প্রথমে বলেছেন "হ্যাঁ, ঐ উদ্দেশ্যেই বলেছি।" কিন্তু পরে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে তিনি আলাদা বাসায় থাকার কথা বলেছেন, তালাকের উদ্দেশ্যে নয়।

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, "তোমার সাথে থাকব না" বা "আমি তোমার সাথে থাকব না"–এর মতো বাক্য সরাসরি তালাকের শব্দ নয় (সারিহ নয়), বরং এটি কিনায়া (অস্পষ্ট বা ইঙ্গিতবাহী) শব্দের অন্তর্ভুক্ত। এই ধরনের বাক্য তালাক গণ্য হবে না যতক্ষণ না বক্তার স্পষ্ট তালাকের ইচ্ছা (নিয়ত) প্রমাণিত হয়। ইবনে আবেদিন (রহ.) তাঁর famous কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার’-এ উল্লেখ করেছেন:

"كنايات الطلاق لا يقع بها الطلاق إلا بالنية أو بدلالة الحال"
"তালাকের কিনায়া (অস্পষ্ট শব্দ) দ্বারা তালাক পতিত হয় না, যতক্ষণ না নিয়ত থাকে বা পরিস্থিতি তা নির্দেশ করে।"

এখানে আপনার স্বামী প্রথমে তালাকের নিয়ত স্বীকার করলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তার উদ্দেশ্য ছিল আলাদা বাসায় থাকা, তালাক নয়। আর আপনি যখন জিজ্ঞাসা করছেন, তিনি আপনার জিজ্ঞাসার কারণ জানতে চেয়েছেন—এটি তালাকের কোনো প্রমাণ নয়। সুতরাং, তালাক পতিত হয়নি

মাসআলার সারসংক্ষেপ:

  • উক্ত বাক্য কিনায়া (অস্পষ্ট) হওয়ায় তালাকের জন্য স্পষ্ট নিয়ত বা পরিস্থিতি আবশ্যক।
  • স্বামী নিজেই পরে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁর উদ্দেশ্য তালাক ছিল না, বরং আলাদা থাকার ইচ্ছা ছিল।
  • তাই এতে কোনো তালাক হয়নি; বৈবাহিক সম্পর্ক অটুট আছে।

সতর্কতা:
তবে, স্বামী যদি ভবিষ্যতে আবার এ ধরনের কথা বলেন বা স্পষ্ট তালাকের শব্দ ব্যবহার করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুতর হবে। তাই উভয়ের উচিত ইসলামি পদ্ধতিতে পারিবারিক সমস্যা সমাধান করা এবং তালাকের মতো গুরুতর বিষয়ে সতর্ক হওয়া।

সূত্র:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদিন): কিনায়া শব্দের বিধান।
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ.)।
  • আল-হিদায়া: তালাকের শব্দ ও নিয়ত সম্পর্কিত অধ্যায়।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.