থাকবো আমি তোর সাথে এই কথা বললে তালাক হবে কি??
Marriage and Divorce · Hanafi
Question No:
2249
Questioner:
Romana Akter
Question Asked:
02 Jul 2026, 11:47 PM
Reviewed & Published:
02 Jul 2026, 11:51 PM
Views:
73
Tokens:
4,727
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামুআলাইকুম। আমার স্বামী আমাকে বলেছে উনি আমার সাথে থাকবেনা।অনেকবার বলেছে তখন আমি উনাকে বলেছি আপনি এসব কি বলেন। উনি বলে কেন স্বামী স্ত্রী কি আলাদা থাকেনা?? তখন আমি উনাকে বলেছি আপনি কি ঐ উদ্দেশ্যে বলেছেন( মানে আমি তালাকের উদ্দেশ্যের কথা জিজ্ঞাসা করেছি যদি মুখ দিয়ে বলিনি)? উনি বলেছেন হ্যা ঐ উদ্দেশ্যেই বলেছি জানি না উনি বুঝে বলেছেন কিনা। পরে উনাকে আবার জিজ্ঞাসা করলে উনি বলে স্বামী স্ত্রী আলাদা বাসায় থাকার কথা বলেছে।তখন আমি বলি আমি তো ঐ বলতে তালাকের কথা জিজ্ঞাসা করছি আপনি তো হ্যা বলে দিয়েছেন।তখন স্বামী উত্তরে বলে তুমি কোন উদ্দেশ্য বুঝিয়েছো আমার জানার দরকার আছে??.
আমার এখন অনেক ভয় হচ্ছে।আমাদের কি তালাক হয়েছে
আমার এখন অনেক ভয় হচ্ছে।আমাদের কি তালাক হয়েছে
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনায় আপনার স্বামীর কথাগুলো ছিল কিনায়া (অস্পষ্ট/ইঙ্গিতপূর্ণ) শব্দ, যেমন— “আমি তোমার সাথে থাকব না”, “স্বামী-স্ত্রী কি আলাদা থাকে না?” ইত্যাদি। হানাফি ফিকহ অনুসারে কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য স্বামীর স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট নিয়ত প্রয়োজন, যা বলার সময়ই তার মনে ছিল কিনা তা বিবেচ্য।
মূলনীতি
- কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক হয় না যতক্ষণ না স্বামী সে সময় তালাকের নিয়ত করে (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭২)।
- স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করার পর স্বামী যদি প্রথমে “হ্যাঁ, তালাকের উদ্দেশ্যেই বলেছি” বলে, কিন্তু পরে স্পষ্ট করে বলে যে তার উদ্দেশ্য ছিল শুধু আলাদা বসবাস করা— তাহলে পরবর্তী স্পষ্টীকরণই গ্রহণযোগ্য হবে, কারণ নিয়ত ভেতরের বিষয় এবং তিনি নিজেই তা ব্যাখ্যা করেছেন।
- স্বামী যদি কোনও সময় স্বীকার করে যে তালাকের নিয়ত ছিল, তবে তা প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কিন্তু এখানে স্বামী প্রথম স্বীকার করলেও পরে তা ফিরিয়ে নিয়েছে এবং স্পষ্ট করে বলেছে যে তার উদ্দেশ্য ছিল আলাদা থাকার কথা। তাই মূল কথাটি কিনায়া হওয়ায় এবং তার স্পষ্ট ব্যাখ্যার কারণে তালাক সংঘটিত হয়নি।
আপনার পরিস্থিতির বিশ্লেষণ
- প্রথমে স্বামী “আমি তোমার সাথে থাকব না” বলেছিলেন— এটি কিনায়া।
- আপনি জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রথমে “হ্যাঁ, ঐ উদ্দেশ্যেই বলেছি” বলে স্বীকার করেন।
- পরে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, “আমি আলাদা বাসায় থাকার কথা বলেছি”— অর্থাৎ তিনি তালাকের নিয়ত অস্বীকার করে বসবাসের পৃথকীকরণ বোঝাতে চেয়েছেন।
- আপনার স্বামীর শেষ বক্তব্য “তুমি কোন উদ্দেশ্য বুঝিয়েছো আমার জানার দরকার আছে?” — এটি নিয়ত স্বীকার না করে বরং আপনার প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়ার মতো।
সুতরাং, হানাফি ফিকহের আলোকে আপনাদের তালাক হয়নি। আপনার ভয় পাওয়ার কারণ নেই। স্বামীর কথাগুলো তালাকের স্পষ্ট শব্দ (সরীহ) ছিল না এবং তিনি পরে তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে তার উদ্দেশ্য তালাক ছিল না।
প্রাসঙ্গিক হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি
- রদ্দুল মুহতার (৩/২৯২): “কিনায়া শব্দে তালাক বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত; আর নিয়তের ব্যাপারে স্বামীর কথাই গ্রহণযোগ্য, যদি না কোনো প্রমাণ তার বিপরীতে যায়।”
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৭২): “যদি স্বামী কিনায়া শব্দ উচ্চারণ করে, পরে নিয়ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে ‘আমি তালাকের নিয়ত করিনি’ তবে তার কথাই বিশ্বাসযোগ্য।”
- ফাতাওয়া উসমানি (২/৪১৫): “কিনায়া শব্দের পর স্বামী যদি নিয়ত অস্বীকার করে, তবে তালাক পতিত হবে না।”
উপসংহার
- আপনাদের তালাক হয়নি।
- স্বামীর কথাগুলোকে তালাক গণ্য করবেন না এবং স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যান।
- ভবিষ্যতে এ ধরনের অস্পষ্ট কথা এড়িয়ে চলা ভালো। প্রয়োজনে দ্ব্যর্থহীনভাবে কথা বলার জন্য স্বামীকে বোঝান।
والله أعلم بالصواب