থাকবো না বললে কি তালাক হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2247
Questioner: Romana Akter
Question Asked: 02 Jul 2026, 11:35 PM
Reviewed & Published: 02 Jul 2026, 11:48 PM
Views: 108
Tokens: 4,590
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম আমার আর আমার স্বামীর মধ্যে ঝগড়া হয় তখন উনি আমাকে বলে আমি তোমার সাথে থাকবো না অনেকবার বলে।আমি উনাকে বলি আপনি এসব কি বলেন।তখন উনি বলে কেন জামাই বউ কি আলাদা বাসায় থাকে না?? আমি তখন উনাকে বলি আপনি কি উদ্দেশ্যে বললেন আপনি কি ঐ উদ্দেশ্যে বললেন(মানে আমি তালাকের কথা বুঝিয়েছি ঐ উদ্দেশ্য দ্বারা?) কিন্তু জানিনা উনি কি বুঝে বললেন হ্যা ঐ উদ্দেশ্যেই থাকবো না বলেছি। একটু পরে আমি উনাকে ভালোভাবে উদ্দেশ্যের কথা জিজ্ঞাসা করাতে উনি বলেছে উনি আলাদা বাসায় থাকার কথা বলেছে।এমনকি আমি বলেছি আমি তো আপনার জন্য হারাম আমি চলে যাই উনি বলেছে এই না।

এখানে কি তালাক হয়েছে উনি মুখে তালাকের কোন শব্দ বলেননি

Answer

উত্তর:
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

প্রশ্নে উল্লিখিত বিবরণ অনুযায়ী, আপনার স্বামী বারবার বলেছেন, "আমি তোমার সাথে থাকবো না" — এটি তালাকের স্পষ্ট (সরীহ) শব্দ নয়, বরং কিনায়া (অপ্রকাশ্য/ইঙ্গিতবোধক) শব্দ। কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক হওয়ার জন্য উচ্চারণের সময় তালাকের নিয়ত (ইচ্ছা) থাকা আবশ্যক।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

  • কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক তখনই হবে যখন উচ্চারণকারীর নিয়ত তালাকের হয়। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৭১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬৮)
  • "থাকবো না" বলা সাধারণত স্বামী-স্ত্রীর পৃথক বসবাসের ইচ্ছা প্রকাশের জন্য ব্যবহার করা হয়, সরাসরি তালাকের জন্য নয়। তাই এটি কিনায়া গণ্য।
  • যদি স্বামী বলেন, "আমি তোমার সাথে থাকবো না" এবং পরে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রথমে বলেছেন যে তার উদ্দেশ্য তালাক ছিল, কিন্তু পরে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তার উদ্দেশ্য ছিল আলাদা বাসায় থাকা, তাহলে এখানে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

হানাফি ফিকহে নিয়ম:

  • সন্দেহের ক্ষেত্রে তালাক না হওয়াই মূলনীতি। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৮৫)
  • যদি স্বামী প্রথমে তালাকের নিয়ত স্বীকার করে, কিন্তু পরে তা প্রত্যাহার করে এবং একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেয় (যেমন আলাদা বাসায় থাকা), তাহলে সেই ব্যাখ্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যতক্ষণ না তার কথার সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত প্রমাণ থাকে।
  • আপনার স্বামী "তালাক" শব্দটি মুখে উচ্চারণ করেননি এবং তিনি শেষ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তার উদ্দেশ্য ছিল আলাদা বাসায় থাকা। তাই এখানে কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি।

আপনার বক্তব্য:

আপনি বলেছেন, "আমি আপনার জন্য হারাম, আমি চলে যাই" — এটি আপনার পক্ষ থেকে বলা হলেও স্বামী তা অস্বীকার করেছেন এবং তিনি তালাক দেননি। এতেও কোনো তালাক হয়নি।

সিদ্ধান্ত:

  • আপনার বিবাহ অটুট রয়েছে। কোনো তালাক হয়নি।
  • ভবিষ্যতে এ ধরনের অস্পষ্ট কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। ঝগড়ার সময় ধৈর্য ধারণ করুন এবং প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন।
  • যদি স্বামী সত্যিই তালাক দিতে চান, তাহলে তাকে স্পষ্টভাবে "তালাক" বলতে হবে অথবা সাক্ষীদের উপস্থিতিতে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আপনাদের মধ্যে মিল ও ভালোবাসা দান করুন।

রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার, ৩/২৭১-২৭২
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬৮
  • ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৮৫


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.