থাকবো না আর তোর সাথে, এই কথা বললে কি তালাক হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2244
Questioner: ruhani binte
Question Asked: 02 Jul 2026, 10:11 PM
Reviewed & Published: 02 Jul 2026, 10:14 PM
Views: 78
Tokens: 3,372
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম।
আমার আর আমার স্বামীর মধ্যে ঝগড়া হয়। তখন উনি আমাকে বলে আমি তোর সাথে থাকবো না।এর কিছুক্ষন পরে আমি উনাকে বলি আপনি আমাকে এসব কেন বলেন। তখন উনি আবারো বলে আমি থাকবো না তোর সাথে। তারপর আমি বলি আপনি এসব কি বলেন। আর উনি বলে কেন জামাই বউ কি আলাদা বাসায় থাকে না?? আমি তখন বলি আপনি তো অন্য উদ্দেশ্য বুঝাইছেন। তখন উনি বলে হ্যা আমি অন্য উদ্দেশ্যই বুঝাইছি।

এখানে কি তালাক হয়েছে??

Answer

প্রশ্নের উত্তর:
আপনার স্বামী কর্তৃক ‘আমি তোর সাথে থাকবো না’ এই কথাটি বলার দ্বারা কোনো তালাক (طلاق) হয়নি। এটি তালাকের স্পষ্ট বা কিনায়াহ (অস্পষ্ট) শব্দ নয়, বরং এটি রাগের মুহূর্তে বলা একটি সাধারণ উক্তি। তালাক হওয়ার জন্য স্পষ্ট নিয়ত বা তালাকের ইচ্ছা জরুরি, যা এখানে অনুপস্থিত।

হানাফি ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ:

  1. তালাকের শর্ত:
    তালাকের জন্য এমন শব্দ ব্যবহার করতে হবে যা স্পষ্ট (সরিহ) বা অস্পষ্ট (কিনায়াহ) হয়।

    • সরিহ শব্দ: যেমন ‘তোমাকে তালাক দিলাম’, ‘তুমি তালাক’ ইত্যাদি।
    • কিনায়াহ শব্দ: যেমন ‘তুমি আমার জন্য হারাম’, ‘তোমার পথ ছাড়লাম’ ইত্যাদি। কিনায়াহ শব্দ দ্বারা তালাক হওয়ার জন্য নিয়ত অপরিহার্য।

    আপনার স্বামীর ‘থাকবো না’ কথাটি কোনো কিনায়াহ শব্দের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি বরং জীবনের সাধারণ ঘটনা (যেমন আলাদা থাকা) ইঙ্গিত করে, যা তালাকের ইচ্ছা ছাড়া বলা হয়েছে।

  2. স্বামীর ব্যাখ্যা:
    স্বামী নিজেই বলেছেন যে তিনি ‘অন্য উদ্দেশ্যে’ (অর্থাৎ রাগ বা ঝগড়ার সময় সাময়িক বিচ্ছেদের কথা বুঝিয়ে) কথাটি বলেছেন। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, এই ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য এবং তালাক গণ্য হবে না।
    রদ্দুল মুহতার (৪/৫৪৩) এ উল্লেখ আছে:

    “যদি স্বামী কোনো অস্পষ্ট শব্দ বলে এবং পরে বলে ‘আমি তালাকের নিয়ত করিনি’, তবে তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে।”

  3. প্রাসঙ্গিক ফতোয়া:

    • ফাতাওয়া উসমানী (২/৫২৬): ‘আমি তোমার সাথে থাকবো না’ বা ‘আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম’-এর মতো কথা তালাক নয়, যতক্ষণ না স্বামী তালাকের নিয়ত করে।
    • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৪৭): রাগের বশে বলা ‘তুমি আমার জন্য কিছুই না’-এর মতো কথা তালাক সাব্যস্ত হয় না যদি না তা তালাকের নিয়তে বলা হয়।

আপনার পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত:

  • স্বামীর কথায় তালাকের ইচ্ছা বা নিয়ত ছিল না, বরং তিনি ঝগড়ার সময় অস্থায়ী বিচ্ছেদ (যেমন আলাদা থাকা) বুঝিয়েছেন।
  • স্বামীর পরবর্তী ব্যাখ্যা (‘অন্য উদ্দেশ্যে বুঝিয়েছি’) স্পষ্ট যে তিনি তালাক দেননি।
  • সুতরাং কোনো তালাক হয়নি।

পরামর্শ:

  • ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝগড়ার সময় মুখ থেকে বেরিয়ে আসা কথায় তালাকের ভয় না করে বরং ধৈর্য ধারণ করুন।
  • স্বামীর সাথে একসাথে বসে সমস্যার সমাধান করুন এবং ইসলামের নির্দেশনা মোতাবেক সম্পর্ক মজবুত করুন।
  • তালাক একটি গুরুতর বিষয়, এটি শুধুমাত্র চরম প্রয়োজনে ব্যবহার করা উচিত।

উপসংহার:
আপনাদের মধ্যে তালাক হয়নি। আপনার দাম্পত্য জীবন বৈধ ও বর্তমান অবস্থায় অটুট রয়েছে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.