নন মারহাম দিয়ে নিজের কাজ করানো কি যাবে?
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমি একজন মেয়ে, আমি আমার কোনো অতি জরুরি কাজ, কোন মেয়ে ফ্রেন্ডের ছেলে ক্লাসমেট দিয়ে করাই তাহলে কি আমার গুনাহ হবে? উল্লেখ্য আমার মেয়ে ফ্রেন্ড টি মাহরাম ননমাহরাম মেনে চলে না।
তার ছেলে ক্লাসমেটের সাথে আমার সরাসরি কোনো কথা সাক্ষাৎ হবে না।
এর দরুন কি আমি গুনাহগার হবো?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার আগে আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করতে চাই। ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক নির্ধারিত কিছু সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ। শরিয়তের দৃষ্টিতে, কোনো নারী তার মাহরাম না এমন পুরুষের সাথে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ, কথা বলা বা কোনো প্রকার লেনদেন করা নিষেধ, যদি না তা জরুরি অবস্থায় হয় এবং পর্দার শর্ত পূরণ করে।
আপনার প্রশ্নের উত্তর:
আপনি যে কাজটি করাতে চাচ্ছেন, সেটি হচ্ছে আপনার মেয়ে ফ্রেন্ডের মাধ্যমে তার ছেলে ক্লাসমেটকে দিয়ে জরুরি কাজ করানো। যেহেতু আপনার সাথে ঐ ছেলেটির সরাসরি কোনো কথা বা সাক্ষাৎ হচ্ছে না, তাই সরাসরি আপনার পক্ষ থেকে কোনো পাপ হচ্ছে না। তবে এখানে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি:
১. মাধ্যমের অবস্থা: আপনার মেয়ে ফ্রেন্ডটি নিজেই মাহরাম-ননমাহরামের সীমারেখা মানে না। এই অবস্থায় তার মাধ্যমে কোনো কাজ করানো ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে উচিত নয়, কারণ তার নিজের আমলই সঠিক নয় এবং তার মাধ্যমে ননমাহরাম পুরুষের সাথে যোগাযোগের আশঙ্কা থেকে যায়। তবে আপনার কাজটি যদি প্রকৃতপক্ষে অতি জরুরি হয় এবং কোনো মাহরাম (যেমন আপনার বাবা, ভাই, চাচা ইত্যাদি) উপলব্ধ না থাকে, তাহলে এই পদ্ধতি অবলম্বনে আপনার পাপ হবে না, শর্ত হলো আপনি যেন নিজে সরাসরি কোনো প্রকার যোগাযোগ না করেন।
২. নিয়ত ও পর্দা: আপনার নিয়ত যদি হয় শুধুমাত্র জরুরি কাজ সম্পাদন করা, আর আপনি পর্দার সীমারেখা (সরাসরি কথা না বলা, দেখা না করা ইত্যাদি) বজায় রাখেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ এতে আপনার কোনো পাপ হবে না। তবে যদি আপনি মনে করেন যে এতে করে ভবিষ্যতে ননমাহরামের সাথে আরও বেশি সম্পর্ক বা আসক্তি সৃষ্টি হতে পারে, তাহলে তা পরিত্যাগ করা উচিত।
৩. জরুরি অবস্থা: ইসলামে জরুরি অবস্থায় কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। কিন্তু সেই জরুরিয়াতের মাত্রা নির্ধারণ করবেন আপনি নিজেই। যদি কাজটি সত্যিই অত্যন্ত জরুরি হয় এবং বিকল্প কোনো মাহরাম পুরুষ না থাকে, তাহলে এই উপায় অবলম্বনে কোনো সমস্যা নেই।
হানাফি ফিকহের আলোকে:
-
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তাঁর শিষ্যদের মতে, ননমাহরাম পুরুষ ও নারীর মধ্যে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ, কথা বলা বা একাকী মিলিত হওয়া নিষেধ। তবে যদি কোনো জরুরি প্রয়োজনে (যেমন চিকিৎসা, কেনাকাটা বা জরুরি কাজ) পর্দার সঙ্গে কথা বলা বা দেখা করা জায়েয আছে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৪০৬; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২২৭)
-
ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন, জরুরি অবস্থায় যদি কোনো নারী ননমাহরাম পুরুষের সাহায্য নেয়, তবে তা জায়েয, তবে শরিয়তের সীমারেখা ভঙ্গ না করে। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭০)
-
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) ও মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) এর মতে, ননমাহরাম পুরুষের সাথে কোনো প্রকার সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে জরুরি অবস্থায় যদি কোনো মাহরাম উপলব্ধ না থাকে, তাহলে পর্দার সঙ্গে সাহায্য নেওয়া জায়েয। (মা’আরিফুল কুরআন, ৬/৭৩৩; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২২৭)
উপসংহার:
আপনার কাজটি যদি সত্যিই অতি জরুরি হয় এবং আপনি নিজে সরাসরি কোনো প্রকার যোগাযোগ বা দেখা না করেন, তাহলে আপনার পাপ হবে না। তবে আপনার মেয়ে ফ্রেন্ডটি নিজে যদি মাহরাম-ননমাহরামের সীমা না মানে, তাহলে তার মাধ্যমে কোনো কাজ করানো ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নয়। তাই চেষ্টা করবেন:
- যেকোনো প্রয়োজনে আপনার নিজের মাহরাম পুরুষদের (যেমন বাবা, ভাই) মাধ্যমে কাজ করানোর।
- যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে জরুরি কাজের জন্য কোনো বিশ্বস্ত মাহরাম পুরুষ আত্মীয় বা প্রতিবেশীর সাহায্য নিন।
- যদি কোনো উপায় না থাকে, তাহলে ফ্রেন্ডের মাধ্যমে কাজ করালেও নিজে সরাসরি কোনো যোগাযোগ করবেন না এবং পর্দা বজায় রাখবেন।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আপনার জরুরি কাজ সহজ করে দিন। আমিন।
সূত্র ও তথ্যসূত্র:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), ১/৪০৬; ৬/৩৭০
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানি), ২/২২৭
- মা’আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি), ৬/৭৩৩
- সূরা নূর (২৪:৩০-৩১)
- সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১৬৬ (নারী-পুরুষের পর্দার গুরুত্ব)
উত্তরটি সংক্ষেপে: আপনার সরাসরি ননমাহরামের সাথে যোগাযোগ না থাকলেও, মাহরাম-ননমাহরামের সীমা না মানা এমন ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ করানো থেকে বিরত থাকাই ভালো। তবে জরুরি অবস্থায় এবং পর্দার শর্ত পূরণ করলে আপনার পাপ হবে না। চেষ্টা করুন যেকোনো মাহরাম পুরুষের সাহায্যে কাজটি করানোর।