মহররম মাসের রোজা ১টা রাখার পর অসুস্থতার কারণে আর না রাখতে পারলে কি গুনাহ হবে?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
Answer
ইসলামিক প্রশ্নোত্তর: মহররম মাসের রোজা ও অসুস্থতার কারণে অসম্পূর্ণ রাখা
প্রশ্ন:
মহররম মাসের রোজা ১টা রাখার পর যদি অসুস্থতা জনিত কারণে আর না করতে পারি তাহলে কি গুনাহ হবে?
উত্তর:
মহররম মাসের রোজা (বিশেষ করে আশুরার রোজা) নফল (ঐচ্ছিক) ইবাদত, যা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তাই আপনি যদি অসুস্থতার কারণে আর রোজা রাখতে না পারেন, তাহলে কোনো গুনাহ হবে না। বরং আপনি যেই ১টি রোজা রেখেছেন, তার জন্য আপনি সওয়াব পাবেন এবং অসুস্থতা একটি বৈধ ও শরয়ী ওজর (অজুহাত)।
ইসলামী শরিয়তে নফল রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। সুতরাং শারীরিক অসুস্থতা, দুর্বলতা বা অন্য কোনো বৈধ কারণে নফল রোজা না রাখলে গুনাহ হবে না। বরং যদি কেউ নফল রোজা শুরু করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে তিনি ইচ্ছা করলে তা ভাঙতেও পারেন (যদিও পূর্ণ করা উত্তম)। কিন্তু আপনার প্রশ্নে আপনি মাত্র ১টি রোজা রেখেছেন এবং অসুস্থতার কারণে আর রাখতে পারেননি – এতে কোনো পাপ নেই।
গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- আশুরার রোজা (১০ মহররম): এটি সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ নফল রোজা, তবে তা ফরজ নয়। আপনি ১টি রোজা (যেমন: শুধু ১০ তারিখের) রাখলেই যথেষ্ট সওয়াব পাবেন। অতিরিক্ত ৯ বা ১১ তারিখের রোজা রাখা সুন্নত, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়।
- অসুস্থতা একটি বৈধ ওজর: শরিয়তে অসুস্থতা, সফর, গর্ভাবস্থা ইত্যাদি কারণে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে তো আরও সহজ।
- নিয়ত ও সওয়াব: আপনি যে নিয়তে রোজা রেখেছেন, আল্লাহ তা কবুল করবেন এবং অসুস্থতার কারণে বাকি রোজা রাখতে না পারার জন্য আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে না।
হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): নফল রোজা ভাঙা জায়েজ, তবে তা মাকরুহে তানযিহি (অপছন্দনীয়)। কিন্তু যদি কোনো অপারগতা বা অসুস্থতা থাকে, তাহলে ভাঙার অনুমতি আছে এবং কোনো কাফফারা ওয়াজিব হয় না। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৫০)
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানি): নফল রোজা রাখার পর অসুস্থতার কারণে না রাখতে পারলে কোনো গুনাহ নেই। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২২৪)
- বেহেশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী): মহররমের রোজা নফল; শারীরিক অক্ষমতায় না রাখলে কোনও গুনাহ নেই। (বেহেশতি জেওর, খণ্ড ২, রোজার অধ্যায়)
সারসংক্ষেপ:
- আপনি ১টি রোজা রেখেছেন; এটি আপনার আমলনামায় নথিভুক্ত হয়েছে।
- অসুস্থতার কারণে বাকি রোজা না রাখা গুনাহ নয়।
- আপনি চাইলে সুস্থ হওয়ার পর এই মাসে আরও নফল রোজা রাখতে পারেন, কিন্তু তা আবশ্যক নয়।
আল্লাহ তাআলা আপনার নেক ইবাদত কবুল করুন এবং আপনাকে সুস্থতা দান করুন। আমিন।