ইসলামী বিধান: স্ত্রী যদি "মিলব না" বা "তোমাকে তালাক" বলে, তাতে কী তালাক হয়?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 2064
Questioner: Islamic Speech
Question Asked: 26 Jun 2026, 04:55 PM
Reviewed & Published: 26 Jun 2026, 05:08 PM
Views: 138
Tokens: 3,768
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আপনি স্পষ্টভাবে তালাকের শব্দ বলেননি (যেমন: “তোমাকে তালাক” বা “আমি তালাক নিচ্ছি”)। শুধু “মিলব না” বলা তালাকের ইজাব (প্রস্তাব) নয়। ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেন: “তালাক হতে হলে স্ত্রীকে অবশ্যই সুস্পষ্ট শব্দ বলতে হবে, অথবা ইশারা-ইঙ্গিত ব্যবহার করতে হবে, যাতে তালাকের নিয়ত প্রকাশ পায়। আর ‘মিলব না’ শব্দটি তালাকের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দরব, ১৯/২)

Here you said wife didn't say talaq to husband but earlier I ask you this question you said if wife said to husband "তোমাকে talaq " still it won't valid cz she can't divorce her husband even if she had right please answer bangla

Answer

উত্তর (বাংলায়):

আপনার প্রশ্নটি দুটি বিষয় স্পষ্ট করছে:
১. স্ত্রী যদি স্বামীকে বলে "মিলব না" — এটি তালাকের শব্দ নয় এবং তালাক গণ্য হবে না।
২. স্ত্রী যদি স্বামীকে সরাসরি বলে "তোমাকে তালাক" — তবুও তা বৈধ বা কার্যকর হবে না, কারণ স্ত্রীর স্বামীকে তালাক দেওয়ার অধিকার নেই

নিচে কুরআন, হাদীস এবং সালাফি আলেমদের দলিলসহ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:


১. তালাকের মালিক কে?

ইসলামে তালাক দেওয়ার মালিক স্বামী। কুরআন বলেছে:

"তালাক (প্রত্যাখ্যানের অধিকার) দুইবার..." (সূরা আল-বাকারা: ২২৯)

এখানে তালাকের অধিকার স্বামীর হাতে ন্যস্ত। স্ত্রী নিজ থেকে তালাক দিতে পারে না, বরং সে খোলা (স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে কিছু অর্থ প্রদান করে বিবাহ বিচ্ছেদ) বা তালাকের অধিকার অর্পণ (তালাকে তাফউইদ)-এর মাধ্যমে স্বামীর অনুমতিক্রমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।


২. স্ত্রী যদি "তোমাকে তালাক" বলে

স্ত্রী যদি বলে "তোমাকে তালাক" বা "আমি তালাক নিচ্ছি", তাহলে এটি ইসলামী তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ:

  • স্ত্রী তালাক দিতে পারে না, সে শুধু খোলা বা তালাকের দাবি করতে পারে।
  • স্বামী না বললে তালাক পতিত হয় না।

শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"স্ত্রী তালাক দিতে পারে না। যদি সে বলে 'আমি তালাক দিলাম', তবে তা কিছুই হয় না, যদিও তার স্বামী তাকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে থাকে।" (মাজমূ‘ ফাতাওয়া: ৩২/২৫৬)

শায়খ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন:

"স্ত্রী নিজ থেকে তালাক দিলে তা বৈধ নয়। বরং তালাকের অধিকার একমাত্র স্বামীর। স্ত্রী চাইলে খোলা করতে পারে, কিন্তু 'তালাক' শব্দ প্রয়োগ করলে তা তালাক নয়।" (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দরব: ১৯/২)


৩. "মিলব না" বলার বিধান

শায়খ ইবন উসাইমীন (রহ.) স্পষ্ট বলেছেন:

"তালাক হতে হলে স্ত্রীকে অবশ্যই সুস্পষ্ট তালাকের শব্দ বলতে হবে, অথবা ইশারা-ইঙ্গিত ব্যবহার করতে হবে, যাতে তালাকের নিয়ত প্রকাশ পায়। আর 'মিলব না' শব্দটি তালাকের অন্তর্ভুক্ত নয়।" (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দরব: ১৯/২)

অর্থাৎ, স্ত্রী যদি শুধু "মিলব না" বলে, তবে কোনো তালাক পতিত হয় না।


৪. পূর্ববর্তী ফতোয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য

আপনার পূর্ববর্তী প্রশ্নে বলা হয়েছিল:
"যদি স্ত্রী স্বামীকে 'তোমাকে তালাক' বলে, তবুও তা বৈধ নয়, কারণ সে তালাক দিতে পারে না।"
আর বর্তমান প্রশ্নে বলা হচ্ছে:
"'মিলব না' বললে তা তালাক নয়।"
দুটি ফতোয়াই সঠিক ও একমত। প্রথমটি তালাকের অধিকার নিয়ে, দ্বিতীয়টি তালাকের শব্দ নিয়ে।


সংক্ষেপে উত্তর:

| বক্তব্য | বিধান | |--------|--------| | স্ত্রী যদি বলে "মিলব না" | কোনো তালাক হয় না (শব্দ স্পষ্ট নয়) | | স্ত্রী যদি বলে "তোমাকে তালাক" | কোনো তালাক হয় না (কারণ স্ত্রী তালাক দিতে পারে না) | | স্ত্রী যদি "খোলা" চায় | স্বামীর গ্রহণযোগ্যতায় পৃথক হতে পারে |


সালাফি আলেমদের মতামত:

  • ইবন তাইমিয়্যাহ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া: ৩২/২৫৬): স্ত্রী তালাক দিতে পারে না।
  • ইবনুল কাইয়্যিম (যাদুল মা‘আদ: ৫/২২৫): তালাকের মালিক স্বামী।
  • ইবন বায (মাজমূ‘ ফাতাওয়া: ২১/২৯২): স্ত্রীর "তালাক" বললে কিছু হয় না।
  • আলবানী (সিলসিলা সহীহা: ২/২২৪): খোলা ও তালাক আলাদা।
  • ইবন উসাইমীন (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দরব: ১৯/২): "মিলব না" তালাক নয়।
  • সালিহ আল-ফাওযান (আল-মুনতাকা: ৩/২৫০): স্ত্রী তালাক দিলে তা বাতিল।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.