পড়ে পাওয়া ফোন ব্যবহার করা সম্পর্কে

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2058
Questioner: Masuma Jannath
Question Asked: 26 Jun 2026, 01:15 PM
Reviewed & Published: 26 Jun 2026, 01:29 PM
Views: 82
Tokens: 4,825
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমেরিকার একটা মসজিদে কেউ একজন তার আইফোন ফেলে গিয়েছিলো ৬/৭ মাস আগে। মসজিদ কমিটি থেকে মালিককে খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্ত পাওয়া যায়নি।
সেখানের মেকানিক কে দেখানো হয়েছিলো, তারা এটা অন- ই করতে পারেনি এবং বলেছে এটা আমেরিকাতে আর ইউজ করা যাবেনা। কমিটি থেকে মোবাইল টা ইমামকে দিয়ে বলা হয়েছে উনি দেশে পাঠিয়ে যদি চালানো যায় তাহলে নিয়ে নিতে। দেশে এনে কান্ট্রি কোড চেইঞ্জ করে অকে করা হয়েছে।

এই ফোন টা কি ঐ ইমাম সাহেবের পরিবার ইউজ করতে পারবে?

Answer

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين

মূল বিধান:
যে কোনো মালিকবিহীন জিনিস (লুকতা) উদ্ধার করলে প্রথমে যথাসাধ্য মালিক খোঁজা ওয়াজিব। হানাফি মতে, অ-নশ্বর বস্তুর জন্য এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দেওয়া আবশ্যক। এক বছর পরও যদি মালিক না মেলে, তাহলে উদ্ধারকারী সেই জিনিস নিজে ব্যবহার করতে পারে অথবা সদকা করতে পারে, তবে মালিক এলে তার মূল্য ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়ত থাকতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, ৫/২৫৬–২৫৮; ফতোয়া হিন্দিয়া, ৪/২৫৬–২৫৮)

বর্তমান অবস্থার বিশ্লেষণ:
১. সময়: ফোনটি ৬/৭ মাস আগে পাওয়া গেছে, যা এক বছরের কম। হানাফি মতে পূর্ণ এক বছর ঘোষণার পরই ব্যবহার বৈধ হয়। কিন্তু যেহেতু মসজিদ কমিটি ও ইমাম মালিক খোঁজার চেষ্টা করেছেন এবং সে দেশে (আমেরিকায়) ফোনটি ব্যবহারের কোনো উপায় নেই, তাই মালিক ফিরে পাওয়ার আশা ক্ষীণ। এক্ষেত্রে কিছু বিশেষজ্ঞ ফুকাহা মনে করেন, যদি মালিক খোঁজার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয় এবং আশা না থাকে, তবে এক বছরের আগেও দরিদ্রদের সদকা করে দেওয়া যায় (ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৯৭)। তবে ব্যবহারের জন্য এক বছর অপেক্ষা উত্তম। কিন্তু ইমাম যদি এখনই ব্যবহার করেন, তাহলে তাকে এই নিয়ত রাখতে হবে যে মালিক এলে ফোনটি বা তার মূল্য ফেরত দেবে।

২. কান্ট্রি কোড পরিবর্তন: ফোনটি আনলক করা বা কান্ট্রি কোড পরিবর্তন করা মূলত একটি প্রযুক্তিগত সংস্কার। এটি ফোনের মূল অস্তিত্ব নষ্ট করে না, বরং উপযোগিতা বাড়ায়। হানাফি ফিকহে, উদ্ধারকৃত জিনিস যদি নষ্ট বা অচল অবস্থায় থাকে, তবে উদ্ধারকারী তা মেরামত করতে পারে, তবে খরচ নিজে বহন করলে তা মালিকের কাছ থেকে দাবি করতে পারবে না। যদি ফোনটি আনলক না করা থাকলে তা সম্পূর্ণ অকেজো ছিল, তাই ইমামের এ সংস্কার জরুরি ছিল এবং এটি অনুমোদিত। তবে এতে ফোনের মূল্য বাড়লে তা মালিকের অধিকারে যাবে; উদ্ধারকারী শুধু তার শ্রম ও খরচের জন্য ক্ষতিপূরণ পেতে পারে।

৩. পরিবারের ব্যবহার: ইমাম সাহেব (গরীব হলে) ফোনটি নিজে ব্যবহার করতে পারেন অথবা তার পরিবারকে দিতে পারেন। তবে দায়িত্ব একই থাকবে—মালিক এলে ফোনটি বা তার সমমূল্য ফেরত দিতে হবে। ফোনটি যদি মূলত অচল ছিল এবং এখন চলছে, তাহলে বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করে রাখা উচিত।

ফলাফল:
— ইমাম সাহেবের পরিবার গরীব হলে (যাকাতের হকদার হলে) ফোনটি ব্যবহার করতে পারবে, তবে নিম্নলিখিত শর্তে:

  • পুরো এক বছর (বা যতদিন পর্যন্ত মালিক ফেরার সম্ভাবনা থাকে) ঘোষণা অব্যাহত রাখা।
  • দৃঢ় নিয়ত করা যে মালিক এলে ফোনটি (অথবা তার সমতুল্য মূল্য) ফেরত দেওয়া হবে।
  • কান্ট্রি কোড পরিবর্তনের ফলে ফোনের মূল্য বাড়লে তা মালিকের প্রাপ্য হিসেবে গণ্য হবে; ইমাম শুধু মেরামতের প্রকৃত খরচ নিতে পারবেন।

আরো সতর্ক পন্থা হলো: এখনই ফোনটি ব্যবহার না করে আরো কিছুদিন (মোট এক বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত) অপেক্ষা করা। তারপর সদকা বা নিজে ব্যবহার করা।

মারকাযী ফতোয়া ও গ্রন্থসমূহ:

  • রদ্দুল মুহতার, ৫/২৫৬–২৫৮
  • ফতোয়া হিন্দিয়া, ৪/২৫৬–২৫৮
  • ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৯৭
  • ফতোয়া উসমানী, ২/৪৫৪
  • বেহেশতি জেওর, ৪/৯৫ (ফকীহদের মতামত)

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.