২ মাসের বাচ্চা নষ্ট হলে নামায পড়ার বিধান
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
৬ সপ্তাহের (৪২ দিনের) গর্ভপাত হলে যেহেতু ভ্রূণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হয়নি এবং পূর্ণ মানবাকৃতি ধারণ করেনি, তাই এ রক্ত নিফাস নয়, বরং ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে। হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ১২০ দিনের পূর্বে গর্ভপাত হলে সে রক্ত নিফাস নয়; বরং ইস্তিহাজা। (রদ্দুল মুহতার: ১/৪৪৯, ফাতাওয়া উসমানী: ২/৫৩৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/৩৭)
এই অবস্থায় কী করণীয়:
- ১৫ দিন বা তার বেশি সময় ধরে রক্ত আসলে ধরে নিতে হবে যে এটি ইস্তিহাজা (অর্থাৎ মাসিক বা নিফাসের রক্ত নয়)।
- যদি কোনো নির্দিষ্ট মাসিকের অভ্যাস না থাকে, তাহলে প্রথম ১০ দিনকে মাসিক ধরে বাদ দিয়ে বাকি দিনগুলো ইস্তিহাজা গণ্য করতে হবে।
- ইস্তিহাজার রক্ত আসা অবস্থায় নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, মসজিদে যাওয়া ইত্যাদি সবই জায়েজ। তবে প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য নতুন করে অজু করতে হবে।
- রক্ত বন্ধ হওয়ার পর গোসল করে নামাজ শুরু করবে।
সে কি নামাজ পড়তে পারবে?
হ্যাঁ। যেহেতু এটি ইস্তিহাজার রক্ত, তাই নামাজ পড়া জরুরি। বরং নামাজ ত্যাগ করা গুনাহ হবে। তবে শর্ত হলো—প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য অজু করা। ইস্তিহাজার রক্ত অজু নষ্ট করে না, তবে নামাজের সময় প্রবেশের পর অজু করতে হবে।
প্রয়োজনীয় ফিকহি উদ্ধৃতি:
- ফাতাওয়া উসমানী: "যদি ভ্রূণ এত ছোট হয় যে, তার কোনো অঙ্গ পরিষ্কার দেখা যায় না, তাহলে মহিলার রক্ত ইস্তিহাজা হিসেবে গণ্য হবে।" (২/৫৩৭)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া: "৬ সপ্তাহের বাচ্চা নষ্ট হলে তা নিফাস নয়; বরং ইস্তিহাজা। নামাজ ও রোজা আদায় করবে।" (১/২৮৪)
- রদ্দুল মুহতার: "নিফাসের সর্বনিম্ন সময় নির্ধারিত নয়, কিন্তু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট হওয়া জরুরি। অন্যথায় এ রক্ত ‘ইসতিহাজা’।" (১/৪৪৯)
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার যেহেতু চার মাসের পূর্বেই গর্ভপাত হয়েছে,সুতরাং এখন যদি রক্ত আসে,তাহলে সেটি নেফাস নয়।
সে রক্তকে হায়েয গণ্য করা হবে যদি তা তিনদিন বা তার চেয়ে বেশী সময় অতিবাহিত হয়। হায়েজের এ দিন গুলিতে নামাজ ও প্রশ্নে উল্লেখিত অন্যান্য ইবাদত করা যাবেনা।
আর তিনদিনের কম বা দশদিনের বেশী সময় অতিবাহিত হলে সে রক্তকে ইস্তেহাযার রক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। সেক্ষেত্রে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত চালু রাখবে।