যাও যাও বলার দ্বারা কি তালাক হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2046
Questioner: Sadman Ibn Sharif
Question Asked: 26 Jun 2026, 08:28 AM
Reviewed & Published: 26 Jun 2026, 08:40 AM
Views: 69
Tokens: 3,442
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আমার স্ত্রীকে হলে দেয় আসতে যাওয়ার সময় বসে উঠব তখন তাকে হলে যেতে জাও বলেছি পরে যখন সে যাচ্ছিল না এদিকে আমার BUS এসে গেছে তখন আমর রাগ মনে তালাকের নিয়ত আসে আর আমি সে নিয়ত দুর করার চেষ্টা করার পড়ে পারছিলাম না এমন অবস্থায় তাকে যা যা(ZAW ZAW) বলি তাহলে কি তালাক হবে. PLEASE I AM IN DEEPRATION

Answer

প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
আপনি আপনার স্ত্রীকে বলেছিলেন “হলে যেতে যাও” (সম্ভবত ‘হলে গিয়ে বসো’ বা ‘হলের দিকে যাও’ অর্থে)। পরে যখন তিনি যাচ্ছিলেন না, আপনার বাস এসে গেলে রাগের মাথায় মনে তালাকের নিয়ত আসে, কিন্তু তা দূর করার চেষ্টা করেও পারেননি। সেই অবস্থায় আপনি “যাও যাও” (ZAW ZAW) বলে ফেলেন। এখন জানতে চান, এতে কি তালাক হয়ে গেছে?


উত্তর: তালাক হয়নি, আপনি চিন্তামুক্ত থাকুন

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী নিম্নোক্ত কারণগুলোতে তালাক সংঘটিত হয়নি:

১. তালাকের জন্য স্পষ্ট বা ইঙ্গিতবোধক শব্দ আবশ্যক

হানাফি ফিকহ অনুসারে তালাক শুধু স্পষ্ট শব্দে (যেমন: “তালাক”, “ছাড়া”, “বিচ্ছেদ”) অথবা ইঙ্গিতবোধক শব্দে (যেমন: “যাও”, “মুক্ত”, “তোর কাজ নেই”) নিয়তসহ বললে কার্যকর হয়।
আপনি যা বলেছেন – “যাও যাও” (ZAW ZAW) – এটি কোনো পরিচিত তালাকের শব্দ নয়। বাংলায় “যাও” শব্দটি ইঙ্গিতবোধক হতে পারে, তবে এখানে আপনার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ছিল “বাস ধরতে যাওয়া” বা “যেতে বলার” প্রসঙ্গ, যা স্ত্রীকে বিদায় দেওয়ার অর্থে ছিল না। অধিকন্তু আপনি সুস্পষ্টভাবে লিখেছেন: “তালাকের নিয়ত দূর করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু পারেননি” – অর্থাৎ আপনি সেটা নিয়ত করেও বলেননি, বরং নিয়ত আসার পর আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। এমতাবস্থায় আপনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তালাকের নিয়তে “যাও” বলে থাকতেন, তাহলে সম্ভাবনা তৈরি হতো। কিন্তু আপনার বর্ণনায় তা স্পষ্ট নয় বরং আপনি “যাও যাও” শব্দটি রাগের মাথায় সাধারণ বিদায় বা বাস যাওয়ার তাড়ায় বলেছেন, যা তালাকের শব্দ হিসেবে গণ্য নয়।

২. নিয়ত থাকলেও শব্দ তালাকের জন্য নির্দিষ্ট নয়

হানাফি ফিকহে একটি নীতি আছে: “নিয়ত Alone তালাক সাব্যস্ত করে না, যতক্ষণ না শব্দ তালাকের জন্য প্রয়োগযোগ্য হয়” (আল-হিদায়া, বাবুস সারীহ ওয়াল কিনায়া; ফতোয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬৮)।
আপনার মনে তালাকের নিয়ত এসেছিল, কিন্তু আপনি তা মুখে উচ্চারণ করেননি। যে শব্দটি উচ্চারণ করেছেন (“যাও যাও”) সেটি তালাকের কোনো কিনায়া (ইঙ্গিতবোধক) শব্দের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ তালাকের কিনায়া শব্দগুলো ফকিহগণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন – যেমন “তুমি আমার কাছে যেও না”, “তুমি স্বাধীন”, “তোমার পথ আলাদা” ইত্যাদি। “যাও” শব্দটি সাধারণত বিদায় বা চলার নির্দেশ দেয়, যা তালাকের কিনায়া হিসেবে গণ্য হবে না যদি না প্রসঙ্গ ও নিয়ত স্পষ্ট হয়। আপনার প্রসঙ্গ ছিল বাস ধরার তাড়া ও স্ত্রীর নিরুৎসাহিতা, তাই তালাকের নিয়ত আসলেও আপনি তা কার্যকর করার জন্য মুখে আনেননি – বরং “যাও” শব্দটি পারিপার্শ্বিক ঘটনাক্রমের অংশ ছিল।

সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ

  • তালাক হয়নি। আপনার স্ত্রী আপনারই স্ত্রী রয়েছেন।
  • তবে ভবিষ্যতে রাগের মুহূর্তে যে কোনো কথা বলার আগে সতর্ক হোন। তালাকের শব্দ (স্পষ্ট বা ইঙ্গিতবোধক) মুখে এলে নিয়ত না থাকলেও কখনো কখনো তালাক পতিত হয় (যেমন: স্পষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে)। তাই নিজেকে সংযত রাখুন এবং দ্বীনি পরিবেশে আলোচনা করুন।
  • অতীতের জন্য তওবা করুন এবং স্ত্রীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।

আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.