থিসিসের বাজেটের অতিরিক্ত টাকা নিজের জন্য ব্যবহার করা কি জায়েজ?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2042
Questioner: Forhad miah tuhin
Question Asked: 26 Jun 2026, 05:49 AM
Reviewed & Published: 26 Jun 2026, 06:18 AM
Views: 32
Tokens: 4,608
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমাদের versity থেকে thesis এর জন্য টাকা দেয়া হয়,,, senior এর কাছ থেকে শুনা যে কিছুটা budget বেশি দেখান দরকার,, কারণ টাকা বেশি দেয় না,,
আমি সেই কথামত বেশি দেখায়,,, আলহামদুলিল্লাহ আমাকে Budget ভালো amount ও দেই,,,,
টাকা দেওয়ার দিন VC sir বলতেও ছিল তোমাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য এই টাকা,,,

ত যাইহোক,,, সবাই extra টাকা নিজের জন্য ব্যবহার করে,,

এখন আমি বুঝতেছিনা এই extra টাকা আমি নিজের জন্য ব্যবহার করব কি না,,,

আমার পারিশ্রমিক হিসেবে রাখব কিনা?

Answer

উত্তর

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আধুনিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আপনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিসিসের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের অতিরিক্ত অংশ নিজের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন কিনা, তা জানতে চেয়েছেন। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এর স্পষ্ট সমাধান নিম্নরূপ:

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, আপনি এই অতিরিক্ত টাকা নিজের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন না। এটি আপনার জন্য হালাল নয় বরং এটি জালিমানা (আমানত খেয়ানত) ও প্রতারণার শামিল। আপনাকে এই টাকা ফেরত দিতে হবে অথবা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে থিসিসের কাজেই খরচ করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে এটি সদকা করে দেওয়া জরুরি।


বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দলিল

১. টাকার প্রকৃতি ও শর্ত

বিশ্ববিদ্যালয় থিসিসের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করে, তা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে (কেবলমাত্র থিসিসের কাজের জন্য) প্রদান করা হয়। এই টাকা একটি আমানত (trust) হিসেবে আপনার কাছে থাকে, যা আপনি শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট কাজেই খরচ করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই তা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা জায়েজ নয়।

  • আল-কুরআন: আল্লাহ তাআলা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার যথাযোগ্য হকদারের কাছে পৌঁছে দাও।" (সূরা আন-নিসা: ৫৮)
  • হাদীস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (সহীহ মুসলিম)
  • হানাফি ফিকহ: আল-হিদায়া ও রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রদত্ত অর্থ (যেমন ওয়াকফের তহবিল, দান-সদকার অর্থ, বা সরকারি/প্রাতিষ্ঠানিক বৃত্তি) তার নির্ধারিত উদ্দ্যেশ্যের বাইরে খরচ করা জায়েজ নয়। ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন, "শর্তানুযায়ী আমানত আদায় করা ওয়াজিব। শর্ত ভঙ্গ করা জায়েজ নয়।" (রদ্দুল মুহতার, ৫/১৫২)

২. বাজেট বেশি দেখানোর বিষয়টি

আপনি সিনিয়রের পরামর্শে এবং বাস্তব চাহিদার চেয়ে বেশি বাজেট দেখিয়েছেন। এটি একটি প্রতারণা (গিশ)মিথ্যা তথ্য প্রদান। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে টাকা কাটছাঁট করা হয়, তাই বেশি দেখানো একটি সাধারণ প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ইসলামী দৃষ্টিকোণে এটি বৈধ নয়।

  • হাদীস: রাসূল (সা.) বলেছেন, "প্রতারক জান্নাতে যাবে না।" (সুনান আত-তিরমিযী)
  • ফতোয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মাদ তাকি উসমানী): তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারি অফিস থেকে যদি কোনো কাজের জন্য বাজেট অনুমোদিত হয়, তাহলে প্রকৃত খরচের বেশি অর্থ গ্রহণ করা এবং তা নিজের কাছে রাখা জায়েজ নয়। একে "খেয়ানত" (গচ্ছিত অর্থের বিশ্বাসঘাতকতা) বলা হবে। (ফতোয়া উসমানী, ২/৩৪২)

৩. 'উৎসাহের টাকা' বলার বিষয়টি

VC সাহেব যদি বলেও থাকেন যে, এটি "উৎসাহ দেওয়ার জন্য", তবুও এর অর্থ এই নয় যে, আপনি বাজেটের অতিরিক্ত টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। কারণ টাকা দেওয়ার মূল শর্ত ও নিয়ম ছিল থিসিসের কাজ সম্পাদনের জন্য। উৎসাহের কথাটি শুধুমাত্র প্রকৃত ব্যয়ভার বহনের পরিস্থিতিকে উৎসাহিত করার জন্য বলা হয়েছে, টাকা নিজের মতো করে খরচ করার জন্য নয়।

  • মা’আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মাদ শফি): তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, কোনো কাজের জন্য অর্থ প্রদানের সময় যদি কর্তৃপক্ষ উদ্বৃত্ত অর্থ নিজের কাছে রাখার অনুমতি না দেয়, তবে তা গ্রহণ করা জায়েজ নয়। মুখে উৎসাহের কথা বলা শর্ত ভঙ্গের বৈধতা দেয় না।

৪. 'সবাই করছে' - এই অজুহাত

বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এই অতিরিক্ত টাকা নিজেদের কাজে ব্যবহার করলেও, এটি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল। ভুল কাজের কারণে তা হালাল হয় না। ইসলামে প্রতিটি ব্যক্তি নিজের কাজের জন্য দায়ী।

  • হাদীস: রাসূল (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই প্রত্যেকটি কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" (সহীহ বুখারী) আপনার নিয়ত যদি হয় প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে বেশি টাকা ফিরিয়ে না দেওয়া, তাহলে এটি নাজায়েজ হবে।

করণীয় কী?

আপনার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও শরিআতসম্মত পথ হলো:

  1. তওবা করুন: আপনি মিথ্যা বাজেট দেখিয়ে টাকা নেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
  2. টাকা ফেরত দিন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। এটি সর্বোত্তম পদ্ধতি।
  3. অবহিত করুন: কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিন যে আপনি প্রকৃত খরচের চেয়ে বেশি পেয়েছেন, এবং আপনি তা ফেরত দিতে চান।
  4. সদকা করুন: টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে (যেমন অ্যাকাউন্টিং জটিলতা), তাহলে এই উদ্বৃত্ত টাকা নিয়ত করুন যে এটি জোরপূর্বক নেওয়া মাল (মালে গাসবী) এর মতো। অতএব, এটি নিজের জন্য ব্যবহার করা জায়েজ নয়। বরং এই টাকা নিয়ত করুন থিসিসের ব্যয়ভার মেটানোর জন্য নয়, বরং আল্লাহর রাস্তায় দান (সদকা) করার জন্য। তবে উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে আপনি নিজে এই টাকা থেকে কোনো সওয়াব লাভ করবেন না, বরং এটি আপনার সম্পদ থেকে বের করে দেওয়া জরুরি ছিল।
  5. ভবিষ্যতে সতর্ক থাকুন: ভবিষ্যতে কখনোই প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে বেশি বাজেট দেখাবেন না এবং প্রতারণামূলক কোনো কাজ থেকে বিরত থাকুন।

সারসংক্ষেপ

| বিষয় | ইসলামী দৃষ্টিকোণ | | :--- | :--- | | টাকার উদ্দেশ্য | শুধুমাত্র থিসিসের কাজে খরচ করা। | | বাজেট বেশি দেখানো | প্রতারণা ও মিথ্যা, যা জায়েজ নয়। | | উদ্বৃত্ত টাকা নিজের রাখা | জালিমানা ও খেয়ানত, সম্পূর্ণ হারাম। | | সবাই করছে | ভুল কাজ বৈধ হওয়ার কারণ নয়। | | করণীয় | টাকা ফেরত দিন বা সদকা করুন। |

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রতারণা, খেয়ানত ও আমানতে খিয়ানত থেকে হেফাজত করুন। আমাদেরকে সৎ ও হালাল পথে চলার তাওফিক দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.