গর্ভপাতের পর কতদিন নামাজ পড়া যাবে না

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 200
Questioner: Tamanna
Question Asked: 17 May 2026, 10:02 AM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 04:05 PM
Views: 41
Tokens: 2,026
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

দের মাসের গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর কতদিন পর থেকে ওই মহিলা নামাজ পড়তে পারবে?

Answer

উত্তর: দেরি মাসের গর্ভপাতের পর নামাজ শুরু করার বিধান

প্রশ্নে উল্লেখিত "দের মাসের গর্ভাবস্থা" বলতে সাধারণত এমন গর্ভপাত বোঝানো হয় যেখানে ভ্রূণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হয়ে গেছে (অর্থাৎ চার মাস বা ১২০ দিন পর)। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, এই অবস্থায় গর্ভপাতের পর যে রক্তপাত হয় তা নিফাস (সন্তান প্রসবের পরের রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে। নিচে হানাফি মাযহাবের আলোকে বিশদ বিধান দেওয়া হলো:


১. নিফাসের সংজ্ঞা ও সময়সীমা

  • নিফাস: সন্তান প্রসবের পর বা গর্ভপাতের পর যে রক্তপাত হয়, তাকে নিফাস বলে। হানাফি মাযহাবে নিফাসের সর্বোচ্চ সময় ৪০ দিন
    (রদ্দুল মুহতার, ১/৪৪৫; ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/৩৬)
  • নূন্যতম সময়: কোনো নির্দিষ্ট নূন্যতম নেই; রক্ত বন্ধ হলে সঙ্গে সঙ্গে নিফাস শেষ হয়।

২. নামাজ শুরু করার সময়

  • যদি ৪০ দিনের আগে রক্ত বন্ধ হয়: রক্ত সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পর পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করে নামাজ শুরু করবে।
  • যদি ৪০ দিন পূর্ণ হয়: ৪০ দিন পরও যদি রক্ত চলতে থাকে, তাহলে ৪০ দিনের শেষে গোসল করে নামাজ শুরু করবে। অতিরিক্ত রক্তকে ইস্তিহাজা (অসুস্থতার রক্ত) গণ্য করা হবে, এবং প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন ওযু করলেই চলবে।
    (বাহিশতি জেওর, নিফাস অধ্যায়; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১২৩)

৩. প্রাথমিক গর্ভপাতের (৪ মাসের আগে) ক্ষেত্রে

  • যদি গর্ভপাত এমন হয় যে ভ্রূণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠিত হয়নি (১২০ দিনের আগে), তবে সে রক্ত ইস্তিহাজা হিসেবে গণ্য হবে। এই অবস্থায় মহিলা গোসল করে সঙ্গে সঙ্গেই নামাজ পড়তে পারবেন, তবে প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য নতুন ওযু করতে হবে।
    (ফাতাওয়া উসমানি, ২/২২৫; শারহু মাআনি আল-আসার, ১/২৭৫)

৪. গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • নিফাসের রক্ত স্বাভাবিক ঋতুস্রাবের মতোই নামাজ, রোজা, কুরআন স্পর্শ ইত্যাদি থেকে বিরত রাখে।
  • গর্ভপাতের পর যদি কোনো টুকরো বা ঝিল্লি পড়ে, তাহলেও তা নিফাসের অন্তর্ভুক্ত।
  • রক্ত বন্ধ হওয়ার পর নিশ্চিত হয়ে গোসল করবে; রক্ত বন্ধ না হলে গোসল করলে নামাজ শুদ্ধ হবে না।
    (রদ্দুল মুহতার, ১/৪৪৯)

সারসংক্ষেপ

উত্তর:
৬ সপ্তাহের (৪২ দিনের) গর্ভপাত হলে যেহেতু ভ্রূণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হয়নি এবং পূর্ণ মানবাকৃতি ধারণ করেনি, তাই এ রক্ত নিফাস নয়, বরং ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে। হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ১২০ দিনের পূর্বে গর্ভপাত হলে সে রক্ত নিফাস নয়; বরং ইস্তিহাজা। (রদ্দুল মুহতার: ১/৪৪৯, ফাতাওয়া উসমানী: ২/৫৩৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/৩৭)

এই অবস্থায় কী করণীয়:

  • ১৫ দিন বা তার বেশি সময় ধরে রক্ত আসলে ধরে নিতে হবে যে এটি ইস্তিহাজা (অর্থাৎ মাসিক বা নিফাসের রক্ত নয়)।
  • যদি কোনো নির্দিষ্ট মাসিকের অভ্যাস না থাকে, তাহলে প্রথম ১০ দিনকে মাসিক ধরে বাদ দিয়ে বাকি দিনগুলো ইস্তিহাজা গণ্য করতে হবে।
  • ইস্তিহাজার রক্ত আসা অবস্থায় নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, মসজিদে যাওয়া ইত্যাদি সবই জায়েজ। তবে প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য নতুন করে অজু করতে হবে।
  • রক্ত বন্ধ হওয়ার পর গোসল করে নামাজ শুরু করবে।

সে কি নামাজ পড়তে পারবে?
হ্যাঁ। যেহেতু এটি ইস্তিহাজার রক্ত, তাই নামাজ পড়া জরুরি। বরং নামাজ ত্যাগ করা গুনাহ হবে। তবে শর্ত হলো—প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য অজু করা। ইস্তিহাজার রক্ত অজু নষ্ট করে না, তবে নামাজের সময় প্রবেশের পর অজু করতে হবে।

প্রয়োজনীয় ফিকহি উদ্ধৃতি:

  • ফাতাওয়া উসমানী: "যদি ভ্রূণ এত ছোট হয় যে, তার কোনো অঙ্গ পরিষ্কার দেখা যায় না, তাহলে মহিলার রক্ত ইস্তিহাজা হিসেবে গণ্য হবে।" (২/৫৩৭)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: "৬ সপ্তাহের বাচ্চা নষ্ট হলে তা নিফাস নয়; বরং ইস্তিহাজা। নামাজ ও রোজা আদায় করবে।" (১/২৮৪)
  • রদ্দুল মুহতার: "নিফাসের সর্বনিম্ন সময় নির্ধারিত নয়, কিন্তু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট হওয়া জরুরি। অন্যথায় এ রক্ত ‘ইসতিহাজা’।" (১/৪৪৯)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার যেহেতু চার মাসের পূর্বেই গর্ভপাত হয়েছে,সুতরাং এখন যদি রক্ত আসে,তাহলে সেটি নেফাস নয়।

সে রক্তকে হায়েয গণ্য করা হবে যদি তা তিনদিন বা তার চেয়ে বেশী সময় অতিবাহিত হয়। হায়েজের এ দিন গুলিতে নামাজ ও প্রশ্নে উল্লেখিত অন্যান্য ইবাদত করা যাবেনা।

আর তিনদিনের কম বা দশদিনের বেশী সময় অতিবাহিত হলে সে রক্তকে ইস্তেহাযার রক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। সেক্ষেত্রে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত চালু রাখবে।

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ১/৪৪৫-৪৫০
  • ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/৩৬-৩৭
  • বাহিশতি জেওর (আশরাফ আলী থানভী), নিফাস অধ্যায়
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১২৩
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি), ২/২২৫

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.