হায়েয কখন থেকে গণনা শুরু হবে, প্রভিডেন্ট ফান্ডের যাকাত কি দিতে হবে?
Taharah Purity · Hanafi
Question
১।একজন বোনের হাঁইজ শেষ হওয়ার হওয়ার পর 10/11তম দিনে একটু ব্লাড দেখা দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল।
তারপর 5/6 দিন পবিত্র থেকে আবার শুরু হলো।
প্রথমবারের ব্লাড যেহেতু ইসতিহাজা।
দ্বিতীয় বার যেদিন ব্লাড শুরু হলো সেদিন থেকে দ্বিতীয় হাইজের প্রথম দিন গণনা করব নাকি প্রথম হায়েয শেষ হওয়ার পর 16 তম দিন থেকে?
২। প্রতিষ্ঠান বেতন থেকে যে টাকা কেটে রাখে পড়ে একত্রে আরও বাড়িয়ে দেয়ার জন্য।
সে টাকার যাকাত দিতে হবে? যদিও সেটা আমার হাতে নেই?
৩। যদি ব্লিডিং অল্প অল্প এবং একমাসের কম গ্যাপে আসলে নিজের কাছে প্রবল ধারণা হয় যে এটা অসুস্থতা, সাভাবিক ব্লিডিং নয়, তাহলে কি এই সময় সালাত পড়বে? যদিও হিসেব অনুযায়ী এটা ১৫ দিন পবিত্রতার পর দেখে নামাজ ছাড়া যায়। তবে যেহেতু নরমাল ব্লিডিং না?
Answer
প্রশ্ন ১: হায়েজের গণনা – দ্বিতীয় রক্তস্রাব কখন থেকে হায়েজ গণনা করব?
উত্তর:
প্রথম হায়েজ শেষ হওয়ার পর ১০ম/১১তম দিনে সামান্য রক্ত দেখা দেওয়া ও তা বন্ধ হয়ে যাওয়া ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্ত) গণ্য হবে, কারণ তা কমপক্ষে ১৫ দিন পবিত্রতা (তুহর) পূর্ণ হওয়ার আগেই এসেছে। এরপর ৫/৬ দিন সম্পূর্ণ পবিত্র থাকার পর পুনরায় রক্ত শুরু হলে সেটি হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাজাই থাকবে। কারণ ইস্তিহাজার রক্তের পর মাত্র ৫/৬ দিন পবিত্রতা পাওয়া গেছে, যা কমপক্ষে ১৫ দিন নয়। তাই দ্বিতীয় রক্তস্রাবকে নতুন হায়েজ গণনা করা যাবে না।
হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
- দু’টি হায়েজের মধ্যকার সর্বনিম্ন পবিত্রতার ব্যবধান (তুহর) ১৫ দিন হতে হবে।
- যদি ইস্তিহাজা রক্ত আসে, তাহলে সেই দিনগুলো পবিত্রতার গণনায় আসে না; বরং সেই রক্ত বন্ধ হবার পরে নতুন করে পবিত্রতা গণনা শুরু হয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৪; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৩১)
ফলে:
- প্রথম হায়েজ → ১০-১১তম দিনে ইস্তিহাজা → ৫-৬ দিন পবিত্রতা → দ্বিতীয় রক্ত।
- এখানে পবিত্রতা মোট ১৫ দিন পূর্ণ হয়নি, তাই দ্বিতীয় রক্ত ইস্তিহাজা।
- তিনি ইস্তিহাজার শরয়ি বিধান অনুযায়ী নামাজ পড়বেন, রোজা রাখবেন; হায়েজের দিনগুলো শুধু সেই প্রথম নির্ধারিত দিনগুলোই গণনা করবেন।
প্রশ্ন ২: প্রতিষ্ঠানের বেতন হতে কেটে রাখা টাকার যাকাত দিতে হবে?
উত্তর:
যদি প্রতিষ্ঠান আপনার বেতন থেকে টাকা কেটে রাখে এবং তা আপনার মালিকানায় থেকে থাকে (যেমন: সঞ্চয় তহবিল, পিএফ), তাহলে তা আপনার সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত হলো:
- নেসাব পরিমাণ (সাড়ে ৫২ তোলা রূপার মূল্য) থাকা।
- এক বছর পূর্ণ হওয়া।
- সম্পদ হাতে না থাকলেও মালিকানায় থাকলে যাকাত ওয়াজিব। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৭২; রদ্দুল মুহতার, ২/২৬৭)
প্রফিট বা বৃদ্ধির নিয়ত: টাকাটি জমা করে পরে বড় করে তোলার জন্যই রাখা হোক না কেন, তা আপনার উপর যাকাত ওয়াজিব। তবে যদি টাকাটি বর্তমানে আপনার হাতে না থাকে (যেমন: আপনি তা তুলতে পারছেন না, বা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়), তবুও তা আপনার ঋণস্বরূপ। ঋণ গ্রহীতা যদি সচ্ছল হয় (এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান সচ্ছল), তাহলে ওই ঋণের যাকাত প্রতি বছর দিতে হবে। (বেহেশতী জেওর, যাকাত অধ্যায়; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৮৯)
সুতরাং: আপনার কাছ থেকে কেটে রাখা টাকার যাকাত দিতে হবে, যদিও তা বর্তমানে আপনার হাতে না থাকে, যদি তা নেসাব পরিমাণ হয় এবং এক বছর অতিবাহিত হয়।
প্রশ্ন ৩: যদি রক্ত অল্প অল্প আসে এবং মনে হয় এটি অসুস্থতা, তবে কি নামাজ পড়তে হবে?
উত্তর:
হানাফি মতে, কোনো নারীর রক্তস্রাব হায়েজ নাকি ইস্তিহাজা তা নির্ধারণের মূলনীতি হলো:
১. আদত (অভ্যাস): নিয়মিত মাসিকের চক্র ও সময়কাল।
২. তুহর (পবিত্রতার ব্যবধান): হায়েজের পর কমপক্ষে ১৫ দিন পূর্ণ পবিত্রতা ছাড়া নতুন রক্ত হায়েজ নয়।
৩. রক্তের প্রকৃতি: যদি নারীর প্রবল ধারণা হয় যে এটি শারীরিক অসুস্থতার কারণে (যেমন: রং, গন্ধ, পরিমাণ স্বাভাবিক মাসিকের মতো নয়), তাহলে সেটি ইস্তিহাজা গণ্য হবে।
নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে:
- এখানে রক্ত অল্প অল্প আসে এবং এক মাসের কম ব্যবধানে আসে, অর্থাৎ ১৫ দিনের কম পবিত্রতার পর।
- আপনার প্রবল ধারণা (গালিব ধারণা) যে এটি সাধারণ মাসিক নয় বরং অসুস্থতা।
- এই অবস্থায় আপনি ইস্তিহাজার বিধান মানবেন এবং নামাজ পড়বেন (ফরজ, সুন্নত সবই)। তবে প্রতি ওয়াক্তের নামাজের জন্য নতুন করে অজু করতে হবে এবং রক্ত আসা সত্ত্বেও নামাজগুলো পড়তে হবে।
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৪: "إذا غلب على ظنها أنه دم استحاضة لوجود علة تصلي" (যদি তার গালিব ধারণা হয় যে রক্ত ইস্তিহাজার, তবে সে নামাজ পড়বে)।
- বাহিশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী): ইস্তিহাজায় নামাজ পড়া ওয়াজিব।
সতর্কতা: আপনি যদি নিশ্চিত না হন বা আপনার আদতে মাসিকের একটি নির্দিষ্ট চক্র থাকে, তাহলে পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী আমল করা উচিত। কিন্তু আপনার এখানে প্রবল ধারণা থাকায় ইস্তিহাজা ধরে নামাজ পড়া শুদ্ধ।
সারসংক্ষেপ:
- দ্বিতীয় রক্ত হায়েজ নয়, ইস্তিহাজা। তাই নামাজ পড়তে থাকুন।
- বেতন থেকে কাটা টাকার যাকাত দিতে হবে (যদি নেসাব ও বছর পূর্ণ হয়)।
- ইস্তিহাজার ক্ষেত্রে নামাজ পড়তে হবে; প্রবল ধারণা অসুস্থতার হলে ইস্তিহাজার বিধান প্রযোজ্য।
আল্লাহু আলাম।