পরিবারের সাথে রাগ করে যদি কেউ বলে রোযা রাখবো, ঘরের খাবার খাবোনা, এখন কি রোযা রাখা জরুরী?
Family Life · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
প্রথমে জেনে নিতে হবে ‘জব’ বলতে আপনি কী বোঝাতে চেয়েছেন। সাধারণত বাংলায় ‘জব’ শব্দটি ‘চাকরি’ বা ‘কাজ’-এর জন্য ব্যবহৃত হয়। আপনি লিখেছেন, আপনার বাবা বলছেন—“জব না করলে এতদিন যা খরচ হয়েছে তা ফেরত দাও।” ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পিতামাতার জন্য সন্তানের ভরণপোষণ দেওয়া ফরজ এবং তারা তা ফেরত দাবি করতে পারেন না। তবে পিতার আনুগত্য সন্তানের ওপর ওয়াজিব, কিন্তু তা কেবল বৈধ ও যুক্তিসঙ্গত বিষয়ে। আপনার জন্য চাকরি করা যদি জরুরি না হয় এবং আপনি নিজের ইচ্ছায় না করতে চান, তাহলে আপনি অস্বীকার করতে পারেন, তবে সম্মানের সাথে বুঝানোর চেষ্টা করবেন। বাবাকে বোঝান যে আপনি তাদের অবাধ্য হতে চান না, কিন্তু আপনার বর্তমান অবস্থায় চাকরি করা সম্ভব নয়। আপনি যেহেতু একজন মেয়ে, তাই বিনা জরুরতে ঘরের বাহিরে গিয়ে চাকুরী করা জায়েজ হবে না। এবং এ বিষয়ে পিতার আদেশ মান্য করাও জায়েজ হবে না। পিতা জোড়াজুড়ি করলে পিতার গোনাহ হবে।
দাউদ (আঃ)-এর রোজা রাখার প্রতিজ্ঞা:
আপনি বলেছেন, “আমি দাউদ আলাইহিস সালামের রোজা রাখব আজ থেকে।” যেহেতু এখানে আল্লাহর নামে কসম করেননি, বা শর্তযুক্ত কোনো বাক্য বলেননি, তাই এটা মান্নত হবে না। এবং রোযা রাখা জরুরী বা ওয়াজিব হবে না।
পরিবারকে বোঝানো:
আপনি লিখেছেন, পরিবার আপনাকে বুঝে না। আপনি চেষ্টা করুন ধৈর্য ও নম্রতার সাথে তাদের বোঝাতে। ইসলামে পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোটকথা:
১. বাবার কথা মতো চাকরি করা আপনার ওপর জরুরি নয়, তবে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করবেন।
২. দাউদ (আঃ)-এর রোজা রাখার মান্নত পূর্ণ করা আপনার ওপর ওয়াজিব নয়।
ইসলামী গ্রন্থের আলোকে:
- সন্তানের ওপর পিতার আনুগত্য তখনই ওয়াজিব, যখন তা আল্লাহর নাফরমানি না হয়। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৪১১)
- মান্নত পূর্ণ করা ওয়াজিব এবং তা ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩০৪)
- পিতামাতার জন্য সন্তানের ভরণপোষণ ফেরত নেওয়া জায়েজ নয়, বরং তা তাদের দায়িত্ব ছিল। (আল-হিদায়া, ২/২৯০)
পরামর্শ:
আপনার অবস্থা বিস্তারিত জানার পর স্থানীয় কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন। বাবাকে রাগিয়ে না দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করুন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।
আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য সহজ পথ দেখান।