২জন সাক্ষী সামনে রেখে বর যদি খুতবা পরে মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং কনে কবুল করে তাহলে কি বিয়ে হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1954
Questioner: Mas Um
Question Asked: 23 Jun 2026, 09:46 PM
Reviewed & Published: 23 Jun 2026, 09:57 PM
Views: 105
Tokens: 3,573
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ছেলে ও মেয়ে উভয়ই প্রাপ্তবয়স্ক। ২জন সাক্ষী সামনে রেখে বর যদি খুতবা পরে মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, যে আমি অমুক,আমি তোমাকে এত টাকা মোহরানা দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছি,তুমি কি রাজি, আর মেয়ে কবুল বলে সাক্ষীর সামনে,তাহলে কি বিবাহ হয়ে যায়

Answer

উত্তর: হ্যাঁ, উল্লিখিত পদ্ধতিতে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে এবং তা শুদ্ধ হয়েছে। যেহেতু বর ও কনে উভয়ই প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ), সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং দুজন মুসলিম পুরুষ সাক্ষীর সামনে পরিষ্কার ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) সম্পন্ন হয়েছে, তাই হানাফি মাজহাব অনুযায়ী এই বিবাহ সহীহ (বৈধ)।

দলিল ও রেফারেন্স:

১. কুরআন:

  • আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রীহীন, তাদের বিবাহ দাও...” (সূরা আন-নূর: ৩২)। আয়াতটি বিবাহের বৈধতার নির্দেশ দেয়, তবে শর্তগুলো হাদিস ও ফিকহের কিতাবে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

২. হাদিস:

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “কোনো বিবাহ বৈধ নয় ওলী ও দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া।” (সুনানুল কুবরা লিল-বায়হাকী, হাদিস: ১৪২৮২; এছাড়া দারাকুতনী, ইবনে হিব্বান)। হানাফি মাজহাবে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্য ওলী শর্ত নয়, তবে সাক্ষী শর্ত। উক্ত বিবাহে দুজন সাক্ষী উপস্থিত ছিল, তাই এটি শর্ত পূরণ করে।

৩. হানাফি ফিকহের কিতাব:

  • আল-হিদায়া: “বিবাহের জন্য ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) জরুরি। ইজাব হচ্ছে বর বা কনের পক্ষ থেকে ‘আমি বিবাহ করলাম’ বা ‘আমি গ্রহণ করলাম’ জাতীয় শব্দ বলা। আর কবুল হচ্ছে অপর পক্ষের সম্মতি।” (আল-হিদায়া, ২/৩২৫)
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): “বিবাহের সঠিকতার শর্ত: দুজন পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি, যারা মুসলিম, বালেগ, আকল (সুস্থ মস্তিষ্কের) ও হুর (স্বাধীন)। ইজাব ও কবুল অবশ্যই একই মজলিসে হতে হবে।” (রদ্দুল মুহতার, ৩/১০)
  • ফতোয়া আলমগিরি: “সাক্ষীদ্বয়ের সামনে ইজাব ও কবুলের পর বিবাহ সম্পন্ন হয়। খুতবা পাঠ করা সুন্নত, তবে তা শর্ত নয়।” (ফতোয়া আলমগিরি, ১/২৭৫)

৪. ইজাব ও কবুলের শর্তানুযায়ী বিশ্লেষণ:

  • বর স্পষ্ট বলেছে: “আমি অমুক, আমি তোমাকে এত টাকা মোহরানা দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছি, তুমি কি রাজি?” — এটি ইজাব বা প্রস্তাব।
  • মেয়ে সাক্ষীর সামনে “কবুল” বলেছে — এটি কবুল বা গ্রহণ।
  • ইজাব ও কবুল একই মজলিসে (সভায়) সম্পন্ন হয়েছে।
  • মোহরানা নির্ধারিত হয়েছে।
  • দুজন সাক্ষী উপস্থিত ছিলেন।

সারসংক্ষেপ: উপরোক্ত শর্তসমূহ পূর্ণ হওয়ায় বিবাহটি সহীহ হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা কার্যকর হয়েছে। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে বিবাহ ঘোষণা করা (إعلان النكاح) সুন্নত, তাই জানাজানি হলে ভালো। আহকামে মিরাস (উত্তরাধিকার), মাহর (মোহরানা) ইত্যাদি এখন থেকে প্রযোজ্য হবে।

সতর্কতা: হানাফি মাজহাবে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজেই নিজের বিবাহ দিতে পারেন, তবে ওলীর অনুমতি নেওয়া উত্তম। এতে কোনো সমস্যা না থাকলেও, সামাজিকভাবে ওলীর মাধ্যমে বিবাহ করাই বেশি সমীচীন।

আল-হিদায়া (২/৩২৫), ফতোয়া আলমগিরি (১/২৭৫), রদ্দুল মুহতার (৩/১০) ও ইমদাদুল ফতোয়া (২/২৭) দ্রষ্টব্য।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.