ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বলার পর তওবা ও ক্ষমা চাওয়ার ইসলামী নির্দেশনা।

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 1938
Questioner: Johora's cooking world
Question Asked: 23 Jun 2026, 01:25 PM
Reviewed & Published: 23 Jun 2026, 01:28 PM
Views: 10
Tokens: 5,020
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি ইচ্ছাকৃত ভাবে পরিকল্পিত পথে মিথ্যা বলেছি একজন বা একাধিক মানুষের কাছে।এখন আমি কি করবো। প্রচুর অনুশোচনা হচ্ছে,মরে যাবো এমন লাগছে।হয়তো তারা ধরেও ফেলেছে আমি মিথ্যা বলেছে। এখন আমার কি করনীয়।
আমি যদি এখন আল্লাহ তায়ালার কাছে তাওবা করি তবে কি অই সকল মানুষের কাছেও ক্ষমা চাইতে হবে।
নফসের ধোকা থেকে বাচতে পারছি না।শয়তানের ওয়াসওয়াসা আমাকে আটকে রাখছে। নিয়তে পরিশুদ্ধ আনতে পারছি না।যে বিষয়ে মিথ্যা বলেছে যেটা অনেকদিন ধরে পরিকল্পনা করেছি প্রোরচনা বসত।একেরপর এক মিথ্যা বলেছি অশ্বিকার করেছি। তারা বুঝেছে আমি মিথ্যা বলছি, প্রমান ও পেয়েছে হয়তো।এখন আমারবকি করনীয়।আমি বিবেকের দংশনে পুরে যাচ্ছি,অপরাধবোধ হচ্ছে। কি করবো আমি।

Answer

উত্তর

প্রশ্নকারী ভাই/বোন, আপনার অনুশোচনা ও অপরাধবোধ আপনার ঈমানের আলামত। শয়তান আপনাকে হতাশায় ডুবিয়ে রাখতে চায়, কিন্তু আল্লাহর রহমত অপরিসীম। নিচে ইসলামী সমাধান দেওয়া হলো—


১. মিথ্যা বলার ভয়াবহতা ও তওবার শর্ত

মিথ্যা বলা কবিরা গুনাহ। হাদীসে এসেছে, “মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ থেকে বেঁচে থাকো। কারণ মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।” (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬০৯৪)

তওবা কবুল হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত আছে:

  1. গুনাহ ত্যাগ করা।
  2. অনুতপ্ত হওয়া (যা আপনি আছেন)।
  3. ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

কিন্তু যদি গুনাহ অন্যদের অধিকার (হুকুকুল ইবাদ) নষ্ট করে থাকে, তাহলে চতুর্থ শর্ত হলো – তাদের কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়া বা তাদের পাওনা আদায় করা। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৩৫; রদ্দুল মুহতার, ৬/৪২৪)


২. আপনার ক্ষেত্রে করণীয়

আপনি মিথ্যা পরিকল্পিতভাবে বলেছেন, যা তাদের মনে কষ্ট বা ক্ষতি দিয়েছে। তাই আল্লাহর কাছে তওবার পাশাপাশি যাদের কাছে মিথ্যা বলেছেন, তাদের কাছেও ক্ষমা চাইতে হবে। এটি ‘হুকুকুল ইবাদ’ এর অংশ।

কিভাবে করবেন?

  • যদি সম্ভব হয়, সরাসরি তাদের কাছে গিয়ে বলুন: “আমি আপনাদের সাথে এ বিষয়ে মিথ্যা বলেছি, দয়া করে আমাকে মাফ করে দিন।” (যদি মিথ্যা কোনো জিনিসের ক্ষতি বা অপবাদ দিয়ে থাকে, তাহলে প্রকৃত সত্য বলে ক্ষতিপূরণ করুন)

  • যদি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে গিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়ে বা আপনার ইজ্জত আরও নষ্ট হয়, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে চান। প্রয়োজনে উপহার-সদকা দিয়ে বা দোয়া করে তাদের সন্তুষ্ট করুন।

  • যদি তারা জানেই যে আপনি মিথ্যা বলেছেন এবং আপনি লজ্জায় মরে যাচ্ছেন, তবুও তাদের সামনে নত হওয়া জরুরি। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের উপর জুলুম করে থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়, কারণ দিরহাম-দীনার ছাড়া (পরকালে) কোনো হিস্যা থাকবে না।” (সহীহ বুখারী, ২৪৪৯)


৩. নফস ও শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার উপায়

  • অপরাধবোধকে দুর্বলতা মনে করবেন না – বরং এটিকে তওবার শক্তি হিসেবে ব্যবহার করুন। কোরআনে এসেছে: “নিশ্চয়ই যারা তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের পাপকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন।” (সূরা ফুরকান: ৭০)

  • শয়তানের ওয়াসওয়াসা ঠেলে দিন – যখন ‘ক্ষমা চাওয়া ফরজ নয়’ এর মতো চিন্তা আসে, তখন বুঝে নিন এটি শয়তানের ধোঁকা। হাদীসে আছে: “মুমিনের ফিতনা (পরীক্ষা) তার দ্বীন ও মালে আসে, এবং সে তাওবা করে।” (সহীহ মুসলিম)

  • প্রথমে তাওবা করে ফেলুন – এখনই আল্লাহর কাছে তাওবা করুন, তারপর যাদের কাছে ক্ষমা চাইতে পারবেন, ধীরে ধীরে চান। আল্লাহ বলেন: “আর যারা জেনে-শুনে কোনো গুনাহ করে, অতঃপর তাওবা করে নেয়, নিশ্চয় আল্লাহ তাদের ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (সূরা বাকারা: ২২২)

  • নিয়ত পরিশুদ্ধ করার আমল – প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি...’ দোয়াটি পড়ুন (আবু দাউদ)। নিয়তের বিশুদ্ধতার জন্য লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বেশি পড়ুন।


৪. একটি গুরুত্বপূর্ণ নোট

যদি মিথ্যার কারণে কারও উপর অপবাদ বা আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া ফরজ। যদি অপবাদ দিয়ে থাকেন, তাহলে নিজের ভাষায় পরিষ্কার করে সত্য বলুন এবং মাফ চান। হানাফী ফিকহের কিতাবে এসেছে: “যদি কারও নামে মিথ্যা কথা বলে বদনাম করা হয়, তবে তওবা তখনই সম্পূর্ণ হবে যখন সে তার কাছে গিয়ে বলে: ‘আমি আপনার ব্যাপারে মিথ্যা বলেছি, আমাকে মাফ করুন।’ আর যদি তা না করে, তবে তার তওবা কবুল হবে না।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২২৪)


সংক্ষেপে করণীয় তালিকা

  1. এখনই আল্লাহর কাছে তওবা করুন – কান্নাকাটি করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন এবং ইস্তিগফার করুন।
  2. যাদের কাছে মিথ্যা বলেছেন, তাদের কাছে ক্ষমা চান – যদিও তারা বুঝে ফেলেছে, তবুও মুখে বলুন।
  3. ভবিষ্যতে আর মিথ্যা না বলার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন – সৎকাজ ও সত্যবাদী কোম্পানিতে থাকার চেষ্টা করুন।
  4. ভয়ের বদলে আশা রাখুন – আল্লাহ বলেন: “বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেন।” (সূরা যুমার: ৫৩)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.