ছেলের নাম “মুত্তাকিন মেহমেদ” ও মেয়ের নাম “আমতুল্লাহ মিহরিমা” ইসলামী শরীয়তে জায়েজ কিনা?

Family Life · Hanafi

Question No: 1932
Questioner: Muhammad Shantoo
Question Asked: 23 Jun 2026, 10:28 AM
Reviewed & Published: 23 Jun 2026, 10:38 AM
Views: 101
Tokens: 4,147
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,
আমার একটি নামকরণ-সংক্রান্ত প্রশ্ন আছে।
আমি আমার ছেলের নাম "মুত্তাকিন মেহমেদ" রেখেছি। এছাড়া ভবিষ্যতে মেয়ে সন্তান হলে তার নাম "আমতুল্লাহ মিহরিমা" রাখার ইচ্ছা আছে।
জানতে চাই, "মেহমেদ" এবং "মিহরিমা" নাম দুটি ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ কি না? নামগুলোর অর্থ ও ব্যবহার সম্পর্কে শরয়ি কোনো আপত্তি আছে কি?
এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানিয়ে উপকৃত করলে কৃতজ্ঞ থাকব।
জাযাকাল্লাহু খাইরান।

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রথমেই আপনাকে জানাচ্ছি, সন্তানের নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (সা.) ভালো অর্থবোধক নাম রাখতে উৎসাহিত করেছেন। আপনার উত্থাপিত নাম দুটি সম্পর্কে শর‘ঈ দৃষ্টিকোন থেকে নিম্নরূপ বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

১. ছেলের নাম: “মুত্তাকিন মেহমেদ”

  • “মুত্তাকিন” (আরবি: مُتَّقِينَ) শব্দটি কুরআনে বহুবার এসেছে, যার অর্থ “মুত্তাকী” বা “আল্লাহভীরু”। এটি একটি উত্তম ও অর্থবহ নাম।
  • “মেহমেদ” (তুর্কি: Mehmed) মূলত আরবি “মুহাম্মাদ” (প্রশংসিত) নামের তুর্কি রূপ। ইসলামের ইতিহাসে বহু বড় বড় আলেম, ওলী ও সুলতানের নাম “মেহমেদ” ছিল (যেমন: উসমানী সুলতান মেহমেদ ফাতিহ)। এটি শর‘ঈ দৃষ্টিতে জায়েজ এবং নবী (সা.)-এর নামের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখায় অধিক পছন্দনীয়।

সতর্কতা:
শুধু “মুহাম্মাদ” নাম রাখলে সন্তানের প্রতি অসম্মান বা অপমান করা যাবে না (যেমন: তাকে থাপ্পড় দেওয়া, গালি দেওয়া ইত্যাদি)। নাম হিসেবে এটি রাখা সম্পূর্ণ বৈধ।

তবে নামের মধ্য তুর্কি শব্দ (মেহমদ) না নিয়ে এসে পুরাটাই আরবী শব্দ নিয়ে আসলে কতইনা ভালো হতো।

২. মেয়ের নাম: “আমতুল্লাহ মিহরিমা”

  • “আমতুল্লাহ” (আরবি: أَمَةُ الله) অর্থ “আল্লাহর দাসী”। এটি অত্যন্ত পছন্দনীয় ও মর্যাদাপূর্ণ নাম। সাহাবী ও সালাফে সালেহীনের যুগে এ নাম বহুল প্রচলিত ছিল।
  • “মিহরিমা” (কিভাবে লেখা হচ্ছে?) – এটি তুর্কি বা আরবি ভাষায় “মিহরিমাহ” (Mihrimah) নামে পরিচিত, যার অর্থ “সূর্য ও চাঁদ” অথবা “আলো-উজ্জ্বল” (তুর্কি উসমানী)। ঐতিহাসিকভাবে উসমানী সুলতান সুলাইমানের কন্যার নাম ছিল “মিহরিমাহ সুলতান”। এটি ইসলামী নাম হিসেবে জায়েজ, কারণ অর্থ ভালো এবং কোনো নেতিবাচক ধারণা বহন করে না।

তবে নামের মধ্য তুর্কি শব্দ (মিহরিমা) না নিয়ে এসে পুরাটাই আরবী শব্দ নিয়ে আসলে কতইনা ভালো হতো।

শর‘ঈ শর্ত:
কোনো নাম যদি কুফরী, শিরকী, মূর্তিপূজার নাম, বদঅর্থ বা অশালীন অর্থ বহন করে, তবে তা নিষিদ্ধ। আপনার বাছাইকৃত নামদ্বয়ের কোনোটিই এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত নয়।

হানাফী ফিকহের আলোকে নামকরণের মূলনীতি:

  1. নামের অর্থ সুন্দর ও প্রশংসনীয় হতে হবে।
  2. আল্লাহর গুণবাচক নাম (যেমন: রহমান, রহীম) বা শুধু “আব্দুল্লাহ” ছাড়া “আব্দুর রহমান” ইত্যাদি রাখা উত্তম।
  3. নবী (সা.)-এর নাম রাখলে সম্মান করতে হবে।
  4. কোনো বিদেশি বা অমুসলিম নাম রাখা মাকরূহ, কিন্তু “মেহমেদ” বা “মিহরিমা” ইসলামী ইতিহাসের অংশ, তাই কোনো সমস্যা নেই।

রেফারেন্স:

  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী) – নামকরণ অধ্যায়।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী) – ৪/২২২।
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) – ১/৪২৬।
  • বাহিশতী জেওর (মুফতি মুহাম্মদ শফী) – নামকরণের নিয়ম।

সারকথা:
“মুত্তাকিন মেহমেদ” এবং “আমতুল্লাহ মিহরিমা” উভয় নামই ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ, বৈধ।

তবে নামের মধ্য তুর্কি শব্দ (মিহরিমা,মেহমেদ) না নিয়ে এসে পুরাটাই আরবী শব্দ নিয়ে আসলে কতইনা ভালো হতো।

জাযাকাল্লাহু খাইরান। আপনার সন্তানের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ তাদেরকে সৎ, নেককার ও দ্বীনদার করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.