বিসমিল্লাহ বলার একটু পর মুখে গান গাওয়া প্রসঙ্গে

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 1887
Questioner: MHMA
Question Asked: 21 Jun 2026, 08:29 PM
Reviewed & Published: 21 Jun 2026, 08:32 PM
Views: 150
Tokens: 3,876
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি অভ্যাসবশত পায়জামা পরতে পরতে আগে বিসমিল্লাহ বলেছিলাম আর তারপর একটা নাশিদ (Wedding naseed) এর background vocal মানে মুখ দিয়ে আওয়াজ করা music গাইছিলাম।তখনই মাথায় আসলো, বিসমিল্লাহ বলে কোনো হারাম কাজ শুরু করা তো আল্লাহ কে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করার সামিল।আর আমি শুনেছি, মুখ দিয়েও কোনো music গাওয়া যাবে না। আমার ভয় হচ্ছে, আমার ইমান এর কোনো সমস্যা হলো কিনা?আমাকে please জানাবেন যে,আমার ইমান ভংগ হয়েছে কি না?

Answer

প্রশ্নের উত্তর

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্বীনি সংবেদনশীলতার পরিচায়ক। আমি বিস্তারিতভাবে বিষয়টি বিশ্লেষণ করছি।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

আপনার ঈমান ভঙ্গ হয়নি, ইনশাআল্লাহ। তবে এটি একটি গুরুতর ভুল ছিল। আপনি যেহেতু সচেতন হয়েছেন এবং অনুতপ্ত হয়েছেন, তাই তা তওবার মাধ্যমে ক্ষমা হওয়ার যোগ্য।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

১. বিসমিল্লাহ বলে হারাম কাজ শুরু করা: হানাফি ফিকহের বড় বড় ইমামগণ (ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ) বলেন, বিসমিল্লাহ বলে কোনো হারাম কাজ শুরু করলে তা আল্লাহকে নিয়ে ঠাট্টা করার শামিল নয়, যদি ব্যক্তির নিয়ত ঠাট্টা বা অবজ্ঞা না থাকে। এটি একটি গুনাহ, যা তওবার মাধ্যমে মাফ হবে।

  • আল-হিদায়া: "হারাম কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা নিষিদ্ধ, তবে তা কুফরী নয়, বরং গুনাহ।" (আল-হিদায়া, ৪/৪৪৬)
  • রদ্দুল মুহতার: "যদি কেউ বিসমিল্লাহ বলে কোনো গুনাহের কাজ শুরু করে, তবে তা বিদ্রুপাত্মক না হলে কুফরী হয় না।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৭১)

২. মুখ দিয়ে নাশিদ (গান) গাওয়া: হানাফি মাযহাবের কিতাবাদিতে বলা হয়েছে:

  • মুখ দিয়ে গান গাওয়া: যদি গানে অশ্লীলতা, বাদ্যযন্ত্র বা গুনাহের কোনো উপাদান না থাকে, তবে তা মাকরূহ বা নাজায়েজ। তবে হারাম গানের (যেমন: বাদ্যযন্ত্রযুক্ত, অশ্লীল) অনুকরণে মুখ দিয়ে গাওয়াও মাকরূহ তাহরীমি।
  • "উইডিং নাশিদ" এর ব্যাকগ্রাউন্ড ভোকাল: সাধারণত নাশিদে কোনো বাদ্যযন্ত্র না থাকলে তা নাজায়েজ নয়। তবে আপনার বর্ণনায় "মিউজিক" শব্দ ব্যবহার করায় মনে হচ্ছে সেখানে বাদ্যযন্ত্র ছিল, যা হারাম।

৩. ঈমান ভঙ্গের শর্ত: হানাফি ফিকহ অনুসারে, ঈমান ভঙ্গের জন্য স্পষ্ট অবজ্ঞা, বিদ্রুপ বা অস্বীকারের নিয়ত লাগে। আপনার ক্ষেত্রে:

  • আপনি অভ্যাসবশত বিসমিল্লাহ বলেছেন।
  • আপনি অনুতপ্ত এবং ভীত।
  • আপনার নিয়ত ঠাট্টা বা অবজ্ঞা ছিল না, বরং ছিল অজ্ঞতা।

সুফিয়ানে কেরাম (যেমন: হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী, মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরি) বলেন, ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত কোনো কাজ করলে ঈমান ভঙ্গ হয় না, তবে তওবা ও ইস্তিগফার ওয়াজিব।

৪. আপনার করণীয়:

  • তওবা করুন: এখনই তওবা করুন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। জিহ্বার মাধ্যমে "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলুন।
  • গুনাহের কাজ ছেড়ে দিন: ভবিষ্যতে বিসমিল্লাহ বলে কোনো গুনাহের কাজ শুরু করবেন না।
  • নিয়ত সংশোধন করুন: নিয়ত করুন, যেকোনো বৈধ কাজ বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করবেন।

উপসংহার: আপনার ঈমান ভঙ্গ হয়নি। তবে এটি একটি গুনাহ, যা তওবার মাধ্যমে মাফ হবে। শয়তান আপনাকে ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে যে আপনার ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে। বরং আপনার ভয় ও লজ্জাই আপনার ঈমানের প্রমাণ। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২২)

সম্পর্কিত আয়াত ও হাদিস:

  • "আল্লাহ বলেন: হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করেন।" (সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫৩)
  • রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: "প্রত্যেক আদম সন্তানই গুনাহগার, আর উত্তম গুনাহগার হলো তারা যারা তওবা করে।" (তিরমিযি, ২৪৯৯)

ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার উপায়: আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখুন। শয়তান আপনাকে অহেতুক ভয় দেখিয়ে ঈমান থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করছে। আপনি সতর্ক, এটাই যথেষ্ট।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.