কোনো প্রতিষ্ঠানের PDF কপি করে বিলি করা কি জায়েজ হবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 1843
Questioner: Mohammad Masum
Question Asked: 20 Jun 2026, 04:01 PM
Reviewed & Published: 20 Jun 2026, 04:05 PM
Views: 42
Tokens: 4,795
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,
ওস্তাদ, আমাদের আইওএম থেকে কিংবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের দেয়া পিডিএফ কাউকে দিয়ে আমি কি হাদিয়া নিতে পারব?
-, আর যদি অনুমতি না থাকে তাহলে উক্ত পিডিএফ এর তথ্যগুলো আমি আমার পরিশ্রমে আবার নতুন করে পিডিএফ বানিয়ে কি কাউকে দিয়ে হাদিয়া নিতে পারবো?
মানে, ওই পিডিএফ গুলোই আমি নতুন করে আমার পরিশ্রমে পিডিএফ বানিয়ে কাউকে দিয়ে হাদিয়া নিতে পারব কিনা?

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ: আপনি জানতে চেয়েছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান (যেমন: IOM বা অন্য কোনো সংস্থা) থেকে প্রাপ্ত PDF কাউকে দিয়ে তার বিনিময়ে হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করা জায়েজ কি না? আর যদি তা না জায়েজ হয়, তাহলে ঐ PDF-এর তথ্যগুলো নিজের পরিশ্রমে নতুন করে PDF তৈরি করে কাউকে দিয়ে হাদিয়া নেওয়া কি জায়েজ হবে?

ফতওয়া:

১. প্রতিষ্ঠানের PDF অন্যকে দিয়ে হাদিয়া নেওয়া

প্রথমে বুঝতে হবে, PDF-টি প্রতিষ্ঠানের মেধাস্বত্ব (copyright) দ্বারা সুরক্ষিত কি না? সাধারণত: প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পরিশ্রম ও খরচে PDF তৈরি করে এবং তা বিনামূল্যে বিতরণ করলেও অধিকার (rights) নিজেদের কাছেই রাখে। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে মেধাস্বত্ব একটি বৈধ সম্পদ। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের নীতি অনুসারে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিশ্রম ও বিনিয়োগের ফল ভোগ করার অধিকার রয়েছে (রদ্দুল মুহতার, ৪/৩৬৪; ফতোয়া উসমানী, ২/৪৬৩)।

এমতাবস্থায় আপনি যদি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া তাদের PDF অন্যকে দেন এবং বিনিময়ে হাদিয়া (যা মূলত: পারিশ্রমিকের বিকল্প) গ্রহণ করেন, তাহলে তা প্রতিষ্ঠানের অধিকার হরণ ও অনুমতিবিহীন বাণিজ্যের শামিল। হাদিসে এসেছে,

«لا يحل مال امرئ مسلم إلا بطيب نفس منه» “কোনো মুসলিমের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ছাড়া হালাল নয়।” (আহমদ, সহিহ)

এমনকি PDF বিনামূল্যে বিতরণ করা হলেও যদি প্রতিষ্ঠান তার বাণিজ্যিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে থাকে (যেমন ‘Not for Sale’ বা ‘Personal Use Only’ লেখা থাকে), তাহলে তা মেনে চলা ওয়াজিব। আধুনিক হানাফি ফকিহগণ (যেমন: মুফতি তকি উসমানি, মুফতি মুহাম্মদ শফি) মেধাস্বত্বকে “মালিয়াত” (আর্থিক মূল্য) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর লঙ্ঘনকে হারাম বলেছেন (ফতোয়া উসমানী, ২/৪৬৪; বাইয়্যিনাত, ৫/৮৫)।

সুতরাং,

  • প্রথম প্রশ্নের উত্তর: প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া তাদের PDF কাউকে দিয়ে হাদিয়া নেওয়া জায়েজ নয়। কারণ এটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদের অবৈধ ব্যবহার ও সম্ভাব্য প্রতারণা।

২. নিজের পরিশ্রমে তথ্যগুলো নতুন করে PDF তৈরি করে হাদিয়া নেওয়া

এ বিষয়টি নির্ভর করছে আপনি কীভাবে নতুন PDF তৈরি করছেন তার ওপর।

  • যদি আপনি প্রতিষ্ঠানের PDF-এর হুবহু পাঠ্য, চিত্র, ডিজাইন বা কম্পোজিশন কপি করেন, তাহলেও প্রতিষ্ঠানের মেধাস্বত্ব ভঙ্গ হবে। এ অবস্থায় হাদিয়া নেওয়া জায়েজ নয়।
  • কিন্তু যদি আপনি শুধুমাত্র সাধারণ ইসলামি জ্ঞান (যেমন: কুরআন-হাদিসের আলোচনা, ফিকহের মাসআলা ইত্যাদি) নিজস্ব ভাষায় ও নিজস্ব পরিশ্রমে সংগ্রহ ও সাজিয়ে একটি নতুন PDF তৈরি করেন – যেটি প্রতিষ্ঠানের PDF-এর স্বতন্ত্র সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন – তাহলে এই PDF আপনার নিজস্ব সম্পদ। কাউকে দিয়ে বিনিময়ে হাদিয়া নেওয়া জায়েজ হবে। কেননা ইসলামি জ্ঞান কারো একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়, তবে কোনো নির্দিষ্ট রচনা ও কম্পাইলেশন তার রচয়িতার অধিকারভুক্ত।

ইমাম কারাখি (রহ.) বলেন,

“পুঁথি বা গ্রন্থের উপকরণ (মাদ্দা) সকলের জন্য সাধারণ; কিন্তু তার বিশেষ সংকলন ও বিন্যাস রচয়িতার হক।” (আল-মাবসুত, ১৪/৪২)

অর্থাৎ তথ্য ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু অন্য কারো স্বতন্ত্র সৃষ্টির প্রতিলিপি তৈরি করা যাবে না। নিজের পরিশ্রমে নতুন আঙ্গিকে তৈরি করা বৈধ।

সুতরাং,

  • দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: প্রতিষ্ঠানের PDF-এর তথ্যগুলো নিজের ভাষায় ও নিজস্ব পরিশ্রমে নতুন করে সাজিয়ে PDF তৈরি করলে তা বৈধ হবে এবং কাউকে দিয়ে হাদিয়া নেওয়া জায়েজ। তবে শর্ত হলো, ১. তথ্যগুলো যেন সাধারণ ইসলামি জ্ঞান হয়, যা সবার জন্য উন্মুক্ত। ২. আপনার PDF যেন প্রতিষ্ঠানের PDF-এর সরাসরি অনুলিপি না হয়। ৩. কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য (লোগো, বিন্যাস, বিশেষ মন্তব্য) ব্যবহার না করা।

সারসংক্ষেপ:

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া তাদের PDF বিলিয়ে দিয়ে হাদিয়া নেওয়া | হারাম / নাজায়েজ | | নিজের পরিশ্রমে তথ্যগুলো নতুন করে PDF তৈরি করে হাদিয়া নেওয়া | জায়েজ (যদি সরাসরি কপি না হয়) |

উপদেশ: কোনো প্রতিষ্ঠানের PDF ব্যবহার করতে চাইলে তাদের কাছ থেকে লিখিত বা স্পষ্ট অনুমতি নেওয়া উত্তম। আর নিজে নতুন PDF তৈরি করলে সেখানে ‘সংগৃহীত’ বা ‘উৎসঃ ...’ উল্লেখ করে দেওয়া ভালো।

والله أعلم بالصواب

গ্রন্থপঞ্জি:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) – ৪/৩৬৪
  • ফতোয়া উসমানী (মুফতি তকি উসমানি) – ২/৪৬৩-৪৬৪
  • ফতোয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) – ৫/৩৪১
  • ইমদাদুল ফতোয়া (মুফতি আশরাফ আলি থানভি) – ৪/২৪৭
  • বাইয়্যিনাত (মুফতি মুহাম্মদ শফি) – ৫/৮৫
  • আল-মাবসুত (ইমাম কারাখি) – ১৪/৪২


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.