স্ত্রী হিসেবে স্বামীর অবহেলা ও উদাসীনতা মোকাবেলায় ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কী করা উচিত?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1763
Questioner: Mafia Juthi
Question Asked: 18 Jun 2026, 01:30 PM
Reviewed & Published: 18 Jun 2026, 01:44 PM
Views: 59
Tokens: 6,449
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Assalamualaikum, আমার বিয়ে হয়েছে সাত মাস। arranged marriage l আমার husband আমার প্রতি যে খোঁজ খবর রাখা, যত্ন নেওয়া, কিছুই করে না l আমার কোনো কিছু খারাপ হয়ে গেলেও তার যায় আসে না l তিনি তার মত দূরে থাকে চাকরি করে, তার মা কে জানালে তার এই অবহেলা আমার প্রতি, তিনি তার ছেলে কে ভালো বলেন আর আমার দোষ আমার আবেগ বেশি indirectly বুঝায় l আমার বাবা মা কে জানিয়ে ছিলাম তারা বলছেন বিয়ে করার দরকার ছিল হয়ে গেসে, এখন পড়াশুনা কর l

আমার প্রশ্ন গুলো হচ্ছে যে, আমি কী খুব বেশি কিছু চেয়ে ফেলেছি husband এর কাছে? যেহেতু তার সাথে আমার call video call e কথা হয় না শুধু message এ আর তিনি message দেয় যে ওগুলো দায় ঠেকে দেয় শুধু good morning r ki koro er বেশি কিছু না, এক্ষেত্রে আমার ও এখন তার খোঁজ খবর নিতে ইচ্ছা করে না, আমিও message এখন দেই না নিজ থেকে আমার কি গুনাহ হবে এমন করার জন্য?
আমার husband কে সবাই অনেক ভালো জানে তিনি সবার সাথেই অনেক ভালো আচরণ করে আর তিনি তার মায়ের প্রতি অনেক যত্নশীল কিন্তু আমার প্রতি তার কোন কিছু নেই ,আমার এখন তাকে ছেড়ে দেওয়ার ও সুযোগ নেই, বাবা মা ,শাশুড়ি কেউই আমার কথা শুনবে বা বুঝার নেই l আমার এ ক্ষেত্রে কী করণীয়? আমি যদি আমার husband কে ignore করে নিজের মত করে থাকি নিজের জীবন একাই চালাই তাহলে কি আমার গুনাহ হবে?

Answer

উত্তর: স্বামীর প্রতি আপনার অধিকার এবং করণীয়

وعلیکم السلام و رحمة الله و بركاته

প্রথমেই জেনে রাখুন, আপনার অনুভূতি এবং আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও বৈধ। ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ভালোবাসা, সহানুভূতি ও পারস্পরিক যত্নের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে নির্দেশ দিয়েছে।

আপনার প্রশ্নের জবাব:

১. আপনি কী খুব বেশি কিছু চেয়েছেন?

আপনি অতিরিক্ত কিছু চাননি। বরং আপনি যা চেয়েছেন তা আপনার বৈবাহিক অধিকার। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً "আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আর-রুম: ২১)

স্বামীর জন্য স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল হওয়া, তার খোঁজখবর রাখা, তার সাথে সদ্ব্যবহার করা ওয়াজিব পর্যায়ের একটি দায়িত্ব। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, স্বামীর জন্য স্ত্রীর সাথে সদ্ব্যবহার করা ফরজ। (বাদায়েউস সানায়ে, ৪/৩০২)

২. আপনি যদি নিজ থেকে মেসেজ না দেন, তাহলে কি গুনাহ হবে?

যদি স্বামী তার দায়িত্বে অবহেলা করে এবং আপনি শুধু প্রতিক্রিয়া হিসেবে নিজ থেকে মেসেজ না দেন, তবে এতে আপনার গুনাহ হবে না। তবে উত্তম পন্থা হলো:

  • আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করবেন এবং আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা রাখবেন।
  • পরামর্শ: সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ না করে বরং একটি শালীন দূরত্ব বজায় রাখা উত্তম। ইচ্ছাকৃতভাবে স্বামীকে উপেক্ষা করা (ignore) ইসলামী দৃষ্টিতে উচিত নয়, কারণ এতে সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে।

৩. আপনি যদি স্বামীকে ইগনোর করে নিজের মত করে থাকেন, তাহলে গুনাহ হবে কি?

হ্যাঁ, যদি আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে স্বামীকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন এবং তার সাথে কোনো সম্পর্ক না রাখেন, তাহলে তা গুনাহের কারণ হতে পারে। তবে আপনার পরিস্থিতি বিবেচনায়, আপনি যদি শুধু তার অবহেলার প্রতিক্রিয়ায় সাড়া না দেন, সেটি ভিন্ন বিষয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثٍ "কোনো মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা জায়েয নয়।" (বুখারী: ৬০৭৭, মুসলিম: ২৫৬০)

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন না করে, নিজের দায়িত্ব পালন করতে থাকা এবং ধৈর্য ধরা উত্তম।

আপনার করণীয়:

ক. স্বামীর সাথে সরাসরি কথা বলুন:

আপনার স্বামীকে সুন্দরভাবে বোঝান যে আপনার তার মনোযোগ ও যত্ন প্রয়োজন। তাকে বলুন যে শুধু "গুড মর্নিং" পাঠানো যথেষ্ট নয়, আপনাদের মধ্যে আরও গভীর সম্পর্ক ও যোগাযোগ প্রয়োজন।

খ. পরিবারের মাধ্যমে সমাধান:

আপনার বাবা-মা বা স্বামীর পরিবারের অন্য কাউকে (যারা বোঝেন) মধ্যস্থতা করতে বলুন। যদি শাশুড়ি বোঝেন না, তবে অন্য কাউকে খুঁজুন।

গ. ধৈর্য ও ইবাদত:

এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরা এবং বেশি বেশি ইবাদতে মনোযোগী হওয়া জরুরি। কুরআনে বলা হয়েছে:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ "হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।" (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)

ঘ. দ্বীনি আলেমের শরণাপন্ন হন:

আপনার এলাকার কোনো বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির কাছে বিষয়টি তুলে ধরুন। তারা স্বামীকে বোঝাতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ:

  • আপনার স্বামী বাইরের সবার সাথে ভালো ব্যবহার করলেও আপনার প্রতি অবহেলা করছেন, এটি ঠিক নয়। ইসলামে স্ত্রীর প্রতি সদ্ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম।
  • তালাক বা বিচ্ছেদ চূড়ান্ত পদক্ষেপ। বর্তমানে এই সুযোগ না থাকলেও, ভবিষ্যতে চরম প্রয়োজন হলে ইসলামী পদ্ধতিতে (যেমন: খুলা) বিচ্ছেদের অনুমতি রয়েছে।
  • আপনি যদি নিজের জীবন একা চালান এবং স্বামীর প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন হন, তাহলে এটি ইসলামী দৃষ্টিতে উচিত হবে না।

সর্বোত্তম পন্থা: ধৈর্য ধরা, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং স্বামীকে বোঝানোর চেষ্টা করা। আপনার চাওয়াটি অন্যায় নয়, বরং আপনার অধিকার।

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ "হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মাধ্যমে চোখের শীতলতা দান করুন।" (সূরা আল-ফুরকান: ৭৪)

আল্লাহ আপনাকে উত্তম সমাধান দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.