অমুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা যাবে কি?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
মুহতারাম প্রশ্নকারী, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী। নিচে কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।
প্রথম বিষয়: দেশের মর্যাদা (দারুল ইসলাম বা দারুল কুফর)
ইসলামী ফিকহে কোনো দেশকে দারুল ইসলাম বা দারুল কুফর বলার মানদণ্ড হলো সেখানকার শাসনব্যবস্থা ও আইন।
- যদি দেশে ইসলামী আইন (শরিয়াহ) প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং মুসলিমগণ নিরাপদে দ্বীন পালন করতে পারেন, তবে তা দারুল ইসলাম।
- যদি দেশে কুফরী আইন প্রচলিত থাকে এবং মুসলিমগণ দ্বীন পালনে বাধাগ্রস্ত হন, তবে তা দারুল কুফর।
তবে বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ দেশই দারুল কুফর হলেও সেখানে মুসলিম কমিউনিটি, মসজিদ ও হালাল জীবিকার সুযোগ থাকলে বসবাস জায়েজ - এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে উত্তমও হতে পারে, যদি দ্বীন পালন সহজ হয়। (ফাতাওয়া উসমানী, ১/৩৪৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৩১)
দ্বিতীয় বিষয়: দীর্ঘদিন বসবাসের বিধান
দারুল কুফরে বসবাস করলে ঈমানের জন্য ক্ষতিকর হবে কি না, এটি নির্ভর করে ব্যক্তির ঈমান ও আমলের দৃঢ়তার ওপর। যদি কেউ নিম্নোক্ত শর্তগুলো পালন করে, তবে ঈমানের জন্য ক্ষতিকর নয়:
- দ্বীনী শিক্ষা ও আমল বজায় রাখা (নামাজ, রোজা, হালাল রিজিক)।
- হারাম থেকে দূরে থাকা (সুদ, জিনা, মদ ইত্যাদি)।
- মুসলিম কমিউনিটির সাথে সম্পর্ক রাখা এবং স্থানীয় কুফরী সংস্কৃতি গ্রহণ না করা।
- সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা দেওয়া।
হাদিসে এসেছে:
"যে ব্যক্তি মুশরিকদের সাথে বসবাস করে এবং তাদের সাথে মিলেমিশে থাকে, সে তাদেরই একজন।" (আবু দাউদ, হাদিস: ২৬৪৫)
তবে এই হাদিসের অর্থ হলো সেখানে দ্বীন পালন অসম্ভব হলে কিংবা কুফরী সংস্কৃতিতে আত্তীকৃত হলে; নিছক বসবাস করলে নয়। (শরহু মাআনিল আসার, ২/৩৭২)
তৃতীয় বিষয়: নজরে হেফাজত ও উপকারিতা
আপনি যেমনটি বলেছেন, কানাডার মতো দেশে জনসংখ্যা কম এবং রাস্তাঘাটে বেগানা নারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় নজরে হেফাজত সহজ হয়। এখানে থাকার সুবিধা:
- নারীরা পর্দা ও ইসলামী পোশাক সহজে মেনে চলতে পারেন।
- মসজিদ ও ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রচুর।
- হালাল জীবিকার সুযোগ বেশি।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, "যদি মুসলিমগণ দারুল কুফরে নিরাপদে দ্বীন পালন করতে পারেন, তবে সেখানে বসবাস মাকরুহ নয়।" (রদ্দুল মুহতার, ৪/২৬৭)
চূড়ান্ত মতামত
- কানাডার মতো দেশকে দারুল কুফর গণ্য করা হবে, কারণ সেখানে শরিয়াহ আইন প্রচলিত নয়।
- তবে সেখানে বসবাস হারাম বা নাজায়েজ নয়, বরং যদি দ্বীন পালন সহজ হয় এবং ঈমানী দুর্বলতা না থাকে, তাহলে তা জায়েজ।
- দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে মনে রাখবেন: দ্বীন রক্ষা এবং কুফরী সংস্কৃতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
সতর্কতা:
- সতর ও পর্দা সংক্রান্ত ইসলামী বিধান কঠোরভাবে মেনে চলা।
- স্থানীয় আইনের প্রতি আনুগত্য রাখা কিন্তু ইসলামী বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হলে দ্বীনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
- সবসময় তওবা ও আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া।
উপসংহার: আপনার মতামত সঠিক। দ্বীন পালন সহজ হলে সেখানে বসবাস করা জায়েজ এবং এটি ঈমানের জন্য ক্ষতিকর নয়, যদি ব্যক্তি সতর্ক থাকে। (বেহেশতি জেওর, ২/৪৫; ফাতাওয়া আলমগীরী, ২/২৫০)
আল্লাহ আমাদের সকলকে দ্বীনের ওপর অটল রাখুন এবং ফিতনা থেকে হেফাজত করুন।