অমুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা যাবে কি?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 176
Questioner: Al shariya shawon
Question Asked: 16 May 2026, 10:58 PM
Reviewed & Published: 16 May 2026, 11:35 PM
Views: 26
Tokens: 3,107
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বাংলাদেশের ঘনবসতি ও জনসংখ্যা বেশি তাই ঘর থেকে বের হলে নজরে হেফাজত করা কঠিন আর দিন দিন বেগানা নারীদের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু বিদেশে এরকম কিছু দেশ আছে যেগুলোতে লোক সংখ্যা কম এবং রাস্তাঘাটের লোক বেশি একটা দেখা যায় না এবং দেশগুলোতে কিছু মুসলিম কমিউনিটিও আছে এরকম দেশে থাকা কি না জায়েজ হবে এরকম দেশকে কি কাফেরদের দেশ বলে গণ্য করা হবে এবং এরকম দেশে লং টাইম থাকা কি ঈমানের জন্য ক্ষতিকর মনে করা হবে আমি তো মনে করি ওরকম দেশে নজরে হেফাজত আরো বেশি হবে মুসলিম কমিউনিটি থাকলে তো মসজিদের সংখ্যা ভালোই থাকে যেমন কানাডা হতে পারে একটি উদাহরণ।

Answer

উত্তর:
মুহতারাম প্রশ্নকারী, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী। নিচে কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।


প্রথম বিষয়: দেশের মর্যাদা (দারুল ইসলাম বা দারুল কুফর)

ইসলামী ফিকহে কোনো দেশকে দারুল ইসলাম বা দারুল কুফর বলার মানদণ্ড হলো সেখানকার শাসনব্যবস্থা ও আইন।

  • যদি দেশে ইসলামী আইন (শরিয়াহ) প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং মুসলিমগণ নিরাপদে দ্বীন পালন করতে পারেন, তবে তা দারুল ইসলাম
  • যদি দেশে কুফরী আইন প্রচলিত থাকে এবং মুসলিমগণ দ্বীন পালনে বাধাগ্রস্ত হন, তবে তা দারুল কুফর

তবে বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ দেশই দারুল কুফর হলেও সেখানে মুসলিম কমিউনিটি, মসজিদ ও হালাল জীবিকার সুযোগ থাকলে বসবাস জায়েজ - এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে উত্তমও হতে পারে, যদি দ্বীন পালন সহজ হয়। (ফাতাওয়া উসমানী, ১/৩৪৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৩১)


দ্বিতীয় বিষয়: দীর্ঘদিন বসবাসের বিধান

দারুল কুফরে বসবাস করলে ঈমানের জন্য ক্ষতিকর হবে কি না, এটি নির্ভর করে ব্যক্তির ঈমান ও আমলের দৃঢ়তার ওপর। যদি কেউ নিম্নোক্ত শর্তগুলো পালন করে, তবে ঈমানের জন্য ক্ষতিকর নয়:

  1. দ্বীনী শিক্ষা ও আমল বজায় রাখা (নামাজ, রোজা, হালাল রিজিক)।
  2. হারাম থেকে দূরে থাকা (সুদ, জিনা, মদ ইত্যাদি)।
  3. মুসলিম কমিউনিটির সাথে সম্পর্ক রাখা এবং স্থানীয় কুফরী সংস্কৃতি গ্রহণ না করা।
  4. সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা দেওয়া।

হাদিসে এসেছে:
"যে ব্যক্তি মুশরিকদের সাথে বসবাস করে এবং তাদের সাথে মিলেমিশে থাকে, সে তাদেরই একজন।" (আবু দাউদ, হাদিস: ২৬৪৫)
তবে এই হাদিসের অর্থ হলো সেখানে দ্বীন পালন অসম্ভব হলে কিংবা কুফরী সংস্কৃতিতে আত্তীকৃত হলে; নিছক বসবাস করলে নয়। (শরহু মাআনিল আসার, ২/৩৭২)


তৃতীয় বিষয়: নজরে হেফাজত ও উপকারিতা

আপনি যেমনটি বলেছেন, কানাডার মতো দেশে জনসংখ্যা কম এবং রাস্তাঘাটে বেগানা নারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় নজরে হেফাজত সহজ হয়। এখানে থাকার সুবিধা:

  • নারীরা পর্দা ও ইসলামী পোশাক সহজে মেনে চলতে পারেন।
  • মসজিদ ও ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রচুর।
  • হালাল জীবিকার সুযোগ বেশি।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, "যদি মুসলিমগণ দারুল কুফরে নিরাপদে দ্বীন পালন করতে পারেন, তবে সেখানে বসবাস মাকরুহ নয়।" (রদ্দুল মুহতার, ৪/২৬৭)


চূড়ান্ত মতামত

  • কানাডার মতো দেশকে দারুল কুফর গণ্য করা হবে, কারণ সেখানে শরিয়াহ আইন প্রচলিত নয়।
  • তবে সেখানে বসবাস হারাম বা নাজায়েজ নয়, বরং যদি দ্বীন পালন সহজ হয় এবং ঈমানী দুর্বলতা না থাকে, তাহলে তা জায়েজ
  • দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে মনে রাখবেন: দ্বীন রক্ষা এবং কুফরী সংস্কৃতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।

সতর্কতা:

  • সতর ও পর্দা সংক্রান্ত ইসলামী বিধান কঠোরভাবে মেনে চলা।
  • স্থানীয় আইনের প্রতি আনুগত্য রাখা কিন্তু ইসলামী বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হলে দ্বীনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
  • সবসময় তওবা ও আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া।

উপসংহার: আপনার মতামত সঠিক। দ্বীন পালন সহজ হলে সেখানে বসবাস করা জায়েজ এবং এটি ঈমানের জন্য ক্ষতিকর নয়, যদি ব্যক্তি সতর্ক থাকে। (বেহেশতি জেওর, ২/৪৫; ফাতাওয়া আলমগীরী, ২/২৫০)

আল্লাহ আমাদের সকলকে দ্বীনের ওপর অটল রাখুন এবং ফিতনা থেকে হেফাজত করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.