জামাত ছাড়া একটা মেয়ের পেছনে আরেকটা মেয়ের দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া চলে কি?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
উত্তর: হ্যাঁ, জামাত ছাড়া এক মেয়ে আরেক মেয়ের পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া জায়েয। তবে এভাবে না করে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পড়া উত্তম।
দলিল ও বিশ্লেষণ
মেয়েদের জন্য জামাত সহীহ হলেও হানাফী মাযহাবে তা মাকরূহে তাহরীমী (ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মতে)। তবে যদি কেউ জামাত করে, তাহলে ইমাম মেয়ে সবার মাঝখানে দাঁড়াবে, সামনে নয়। কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে ‘জামাত ছাড়া’ অর্থাৎ প্রত্যেকে নিজ নিজ নামাজ পড়ছে, কেউ কাউকে ইমামত করছে না।
এমতাবস্থায় এক মেয়ে যদি আরেক মেয়ের পেছনে দাঁড়িয়ে নিজের নামাজ আদায় করে, তাহলে তা জায়েয। কারণ প্রত্যেকের নামাজ স্বতন্ত্র। তবে এটি মাকরূহে তানযীহী (অপছন্দনীয়) হতে পারে, কারণ দেখতে জামাতের মতো লাগে এবং পুরুষদের নামাজের সাথে সাদৃশ্য হয়। তাই উত্তম হলো পাশাপাশি বা আলাদা আলাদা জায়গায় দাঁড়ানো।
হানাফী কিতাবের উদ্ধৃতি
- রদ্দুল মুহতার (২/২৯৬): মেয়েদের জামাত সম্পর্কে উল্লেখ আছে যে, তাদের জন্য ইমাম মাঝখানে দাঁড়াবে। তবে পৃথক পৃথকভাবে নামাজ পড়লে কোনো বাঁধা নেই।
- ফাতাওয়া উসমানী (১/২৩৪): জামাত ছাড়া কোনো নারীর পেছনে আরেক নারী দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে তা জায়েয, কিন্তু এটি পরিহার করা উচিত।
- বেহেশতী জেওর (১/১৭৫): মেয়েদের জন্য জামাত করা মাকরূহ। তবে যদি আলাদাভাবে নামাজ পড়ে, তাহলে একে অপরের পেছনে দাঁড়ালে নামাজ ভঙ্গ হবে না, তবে সতর্কতা হলো পাশাপাশি দাঁড়ানো।
সারসংক্ষেপ
- জামাত ছাড়া এক মেয়ে আরেক মেয়ের পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া জায়েয।
- তবে শরীয়তের পছন্দনীয় পদ্ধতি হলো পাশাপাশি বা আলাদা জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া, যাতে জামাতের ভুল ধারণা না হয়।
হ্যাঁ, উত্তরটি সমর্থিত। কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে উত্তম পদ্ধতি অনুসরণ করাই শ্রেয়।