হানাফী ফিকহের আলোকে অল্প উত্তেজনা ও হাত লাগানো কি বিবাহের নিষিদ্ধতা (হুরমত) সাব্যস্ত করে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1720
Questioner: Yasir Ali
Question Asked: 17 Jun 2026, 11:24 AM
Reviewed & Published: 17 Jun 2026, 11:37 AM
Views: 70
Tokens: 9,573
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সম্মানিত মুফতি সাহেব দয়া করে একটু উত্তর দিবেন এপস এ দুই রকম উত্তর দিয়েছে।প্রথমে বলেছে হুরমত সাব্যস্ত হয়েছে পরে বলেছে হুরমত সাব্যস্ত হবে না।

আমার যোনাঙ্গ সহজে ইরেকশন বা উত্তিত হয় না। এমনে আমার উত্তেজনাকর কিছু দেখলে ইরেকশন হয় না তবে কেমন জানি করে উত্তেজনাকর কিছু দেখলে যেমন যোনাঙ্গে কোনো কিছু ফুটতাছে অথবা কোনো কিছু যাচ্ছে এরকম অনুভূতি করে।এছাড়া আমার যোনাঙ্গে ইরেকশন বা শক্ত করতে হলে হাতের ছোয়া লাগে অন্যথায় হয় না।একটা মহিলাটার পেট দেখে আমি উত্তেজিত পড়ি এবং আমি উনার পেট দেখার কারণে যোনাঙ্গে আগে থেকে শিরশির অনুভূতি হচ্ছিল ভাবছি পেটে হাত এক পাশ থেকে আরেকপাশে নাড়ালে উত্তেজনা আরো বাড়বে।আমি যখন পেটে হাত নাড়াতে যায় আমি হাত নাড়ায় পেটে ১.৫ সেকেন্ডের মতো।আগের শিরশির করার কারণে নাড়ানীর শেষের দিকে একটা টান বা ঝিনঝিন আসে।আর এই টানটা এক সেকেন্ডের কম সময় স্থায়িত্ব ছিল।আমার তো সহযে লিঙ্গ উত্তিত হয় না এখন এই এখন এই টান বা ঝলক টা কি উত্তেজনা নির্দেশ করে? এটার জন্য কি হুরমত সাব্যস্ত হবে? কেন না এই টান টা চলে যাওয়ার পর আমার যোনাঙ্গে কোনো কিছু হচ্ছিল না আগের শিরশির অবস্থায় ছিল।লিঙ্গ শক্ত বা উত্তেজনার মতো কোনো কিছু লাগলো না। আর আমার স্পর্শ বা হাত নাড়ানোর সময় মাত্র ১.৫ সেকেন্ড।আর এ আই এর মাধ্যমে জানতে পারি এগুলো মৃদু উত্তেজনা যা খুবই ক্ষনস্থায়ী।বিভিন্ন মুফতির সাথে কথা বলে জানতে পারি মৃদু উত্তেজনা বা কম উত্তেজনা দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয় না।এই উত্তেজনার মাত্রা হবে ১.৫/৫ এখন আমি ওই মহিলার মেয়ে কে কি তার মেয়ে কে বিয়ে করতে পারব?)

Answer

প্রশ্নের উত্তর

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আপনার বর্ণিত ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এর উপর নির্ভর করে একটি মেয়ের সাথে আপনার বিবাহের বৈধতা নির্ধারিত হতে পারে। তাই আমরা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে ফিকহী নীতিমালার আলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদানের চেষ্টা করব।

সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

আপনি এক অমুসলিম বা অ-মাহরাম মহিলার পেট দেখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলেন এবং তার পেটে ১.৫ সেকেন্ড হাত বুলিয়ে একটি টান বা ঝিনঝিন অনুভব করেছেন। আপনার যৌনাঙ্গ শক্ত হয়নি এবং বীর্যপাত বা বীজ নির্গত হয়নি। শুধুমাত্র এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের জন্য একটি ক্ষণস্থায়ী টান অনুভব করেছেন। এর পরে আপনার যৌনাঙ্গের আগের অবস্থা (শিরশির) ফিরে এসেছে।

মূল প্রশ্ন: এই অবস্থায় কি ‘হুরমত’ (বিবাহের নিষিদ্ধতা) সাব্যস্ত হয়েছে?

উত্তর: না, এই অবস্থায় হুরমত সাব্যস্ত হয়নি। সুতরাং আপনি সেই মহিলার মেয়েকে বিয়ে করতে পারবেন। তবে কিছু শর্ত ও সতর্কতা রয়েছে, যা নিচে আলোচনা করা হলো।


ফিকহী দলিল ও ব্যাখ্যা

হানাফী ফিকহে ‘হুরমত’ বা বিবাহের নিষিদ্ধতা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল:

  1. স্পর্শ (Touch): সরাসরি ত্বক স্পর্শ করা, চুম্বন করা ইত্যাদি।
  2. দর্শন (Looking): লজ্জাস্থান বা বস্ত্রাচ্ছাদিত অঙ্গ দেখা।
  3. মেলামেশা (Intercourse): বাস্তবিক সহবাস।

তবে শুধু ‘দেখা’ বা ‘স্পর্শ’ দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য প্রবল ও স্থায়ী যৌন উত্তেজনা (Shahwat) প্রমাণিত হওয়া জরুরি। অল্প ও ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা যথেষ্ট নয়।

ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ও অন্যান্য ফুকাহায়ে কেরামের মত

  • আল-হিদায়া-তে উল্লেখ আছে: "শুধু চেহারা ও হাতের দিকে শাহওয়াতের সাথে দেখলে হুরমত সাব্যস্ত হয় না" (كتاب النكاح، باب المحرمات)।
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) -এ বলা হয়েছে: "কোনো মহিলার লজ্জাস্থান শাহওয়াতের সাথে দেখলে সতর্কতামূলকভাবে হুরমত সাব্যস্ত হয়, কিন্তু চেহারা ও হাতের ক্ষেত্রে নয়" (رد المحتار، كتاب النكاح، باب المحرمات)।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া-তে উল্লেখ আছে: "হাত লাগার কারণে হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শাহওয়াতের প্রবলতা জরুরি। সামান্য জذبہ (আকর্ষণ) থেকে হুরমত হয় না" (جلد ২، ص ২২)।
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী): "মৃদু উত্তেজনা বা ক্ষণস্থায়ী তাড়না হুরমত সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়; কারণ হুরমত একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, যা কেবলমাত্র প্রবল ও স্থায়ী শাহওয়াতের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়" (فتاوى عثمانى، جلد ২، ص ২৮)।

আপনার অবস্থার বিশ্লেষণ

| বিষয় | আপনার অবস্থা | ফিকহী দৃষ্টিকোণ | |-------|-------------|----------------| | যৌনাঙ্গ শক্ত হওয়া | হয়নি | এটি উত্তেজনার প্রমাণ নয় | | বীর্যপাত/মযি নির্গত | হয়নি | হুরমতের প্রধান কারণ নয় | | টান/ঝিনঝিন | ১ সেকেন্ডের কম স্থায়ী | অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, মৃদু উত্তেজনার পর্যায় | | হাত লাগানোর সময়কাল | ১.৫ সেকেন্ড | অতি অল্প সময়, স্থায়ী উত্তেজনা নয় | | স্পর্শের পরিণতি | আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে | ইঙ্গিত করে যে প্রভাব ছিল নগণ্য |

এখনও যদি আপনার মধ্যে সন্দেহ থাকে, তাহলে মনে রাখবেন: হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য ‘শাহওয়াত’ (যৌন উত্তেজনা) প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক, যা সাধারণত বীর্যপাত, লিঙ্গ শক্ত হওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা দ্বারা বোঝা যায়। আপনার বর্ণনায় এগুলোর কোনটিই বিদ্যমান নেই।


অতীতের ভিন্ন উত্তর সম্পর্কে

আপনি উল্লেখ করেছেন যে অ্যাপে প্রথমে ‘হুরমত সাব্যস্ত হয়েছে’ এবং পরে ‘হুরমত সাব্যস্ত হবে না’ বলে উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হতে পারে:

  1. প্রথম উত্তরে হয়ত বিবরণটি অসম্পূর্ণ বিবেচনা করা হয়েছে।
  2. দ্বিতীয় উত্তরে বিস্তারিত বিবরণের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
  3. কোনো কোনো ফকীহ ‘মৃদু উত্তেজনা’কেও হুরমতের জন্য যথেষ্ট মনে করেন, তবে হানাফী ফিকহের প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো প্রবল শাহওয়াত জরুরি (فتاوى هندية، كتاب النكاح، الفصل الثالث في المحرمات)।

আমরা হানাফী মাযহাবের প্রামাণ্য কিতাবাদির ভিত্তিতে দ্বিতীয় মতটিকেই সঠিক বলছি।


সতর্কতা ও পরামর্শ

  1. তওবা করুন: অমাহরাম মহিলার দিকে কামভাব নিয়ে তাকানো ও তাকে স্পর্শ করা গুনাহ। মহান আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে এসব এড়িয়ে চলুন।
  2. বিবাহের পূর্বে: আপনি যদি সেই মহিলার মেয়েকে বিয়ে করতে চান, তাহলে বিয়ের আগে তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও শারীরিক স্পর্শ থেকে বিরত থাকুন। বিয়ে করার ইচ্ছা থাকলে তার পরিবারের সাথে বৈধভাবে কথা বলুন।
  3. আত্মনিয়ন্ত্রণ: নিজের যৌন ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণের জন্য রোজা, নামাজ ও দোয়ার অভ্যাস করুন। হাদিসে এসেছে, "হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহ করতে সক্ষম, সে যেন বিবাহ করে। আর যে সক্ষম নয়, সে যেন রোজা রাখে, কারণ তা তার যৌন ইচ্ছাকে দমন করবে" (সহিহ বুখারি, ৫০৬৬)।

আল্লাহ তায়ালা আপনাকে একই প্রশ্ন ২ বার করা হতে হেফাজত করুন,ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি দান করুন,আমিন।


চূড়ান্ত ফতোয়া

আপনার বর্ণিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সেই মহিলার মেয়েকে বিয়ে করা আপনার জন্য বৈধ। হুরমত সাব্যস্ত হয়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনার কাজটি সঠিক ছিল। আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকুন।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। (আমিন)

--

  • প্রধান রেফারেন্স: রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া আলমগিরী, ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া, আল-হিদায়া।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.