হুরমতে মুসাহারাত: লিঙ্গ উত্থান না হলে এবং ক্ষণস্থায়ী ঝিনঝিন অনুভূতি হলে কি বিবাহ হারাম হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1719
Questioner: Al Naser Al Naser
Question Asked: 17 Jun 2026, 10:03 AM
Reviewed & Published: 17 Jun 2026, 10:11 AM
Views: 72
Tokens: 7,544
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার যোনাঙ্গ সহজে ইরেকশন বা উত্তিত হয় না। এমনে আমার উত্তেজনাকর কিছু দেখলে ইরেকশন হয় না তবে কেমন জানি করে উত্তেজনাকর কিছু দেখলে যেমন যোনাঙ্গে কোনো কিছু ফুটতাছে অথবা কোনো কিছু যাচ্ছে এরকম অনুভূতি করে।এছাড়া আমার যোনাঙ্গে ইরেকশন বা শক্ত করতে হলে হাতের ছোয়া লাগে অন্যথায় হয় না।একটা মহিলাটার পেট দেখে আমি উত্তেজিত পড়ি এবং আমি উনার পেট দেখার কারণে যোনাঙ্গে আগে থেকে শিরশির অনুভূতি হচ্ছিল ভাবছি পেটে হাত এক পাশ থেকে আরেকপাশে নাড়ালে উত্তেজনা আরো বাড়বে।আমি যখন পেটে হাত নাড়াতে যায় আমি হাত নাড়ায় পেটে ১.৫ সেকেন্ডের মতো।নাড়ানীর শেষের দিকে একটা টান বা ঝিনঝিন আসে।আর এই টানটা এক সেকেন্ডের কম সময় স্থায়িত্ব ছিল।আমার তো সহযে লিঙ্গ উত্তিত হয় না এখন এই এখন এই টান বা ঝলক টা কি উত্তেজনা নির্দেশ করে? এটার জন্য কি হুরমত সাব্যস্ত হবে? কেন না এই টান টা চলে যাওয়ার পর আমার যোনাঙ্গে কোনো কিছু হচ্ছিল না আগের শিরশির অবস্থায় ছিল।লিঙ্গ শক্ত বা উত্তেজনার মতো কোনো কিছু লাগলো না। আর আমার স্পর্শ বা হাত নাড়ানোর সময় মাত্র ১.৫ সেকেন্ড।আর এ আই এর মাধ্যমে জানতে পারি এগুলো মৃদু উত্তেজনা যা খুবই ক্ষনস্থায়ী।বিভিন্ন মুফতির সাথে কথা বলে জানতে পারি মৃদু উত্তেজনা বা কম উত্তেজনা দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয় না।এই উত্তেজনার মাত্রা হবে ১.৫/৫ এখন আমি ওই মহিলার মেয়ে কে কি তার মেয়ে কে বিয়ে করতে পারব?)

Answer

উত্তর:

আপনার বর্ণিত ঘটনায় যে ‘টান’ বা ‘ঝিনঝিন’ অনুভূতি হয়েছে তা কোনো শারীরিক উত্তেজনা (ইরেকশন) সৃষ্টি করেনি। আপনি নিজেই স্পষ্ট বলেছেন যে, “লিঙ্গ শক্ত বা উত্তেজনার মতো কোনো কিছু লাগলো না।” তাই ইসলামি ফিকহের দৃষ্টিতে এটি হুরমতে মুসাহারা (বিবাহ হারাম হওয়ার কারণ) সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে আপনি ঐ মহিলার মেয়েকে বিয়ে করতে পারেন।


হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

হুরমতে মুসাহারা (শাশুড়ি, ননদ, সৎমা ইত্যাদির সাথে বিবাহ চিরদিনের জন্য হারাম হওয়া) সাব্যস্ত হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত শর্তগুলোর কোনো একটি পাওয়া জরুরি:

  1. স্পর্শ (মুবাশারাহ) কামোত্তেজনার সাথে হওয়া
  2. স্পর্শের ফলে পুরুষাঙ্গ শক্ত হয়ে ওঠা (ইন্তিশার) অথবা বীর্য বা মযী বের হওয়া
  3. দৃষ্টি বা কল্পনার মাধ্যমে বীর্য বের হওয়া (অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে)

হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে এসেছে:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন):

    “যদি কোনো ব্যক্তি কোনো মহিলাকে কামনার সাথে স্পর্শ করে এবং তার পুরুষাঙ্গ উত্থিত হয়, তবে ঐ মহিলার মা ও মেয়ে তার উপর হারাম হয়ে যায়।”
    (রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৬৮, কিতাবুন নিকাহ)

  • ফতোয়ায়ে আলমগিরী:

    “إذا مس امرأة بشهوة فانتصف ذكره حرمت عليه أمها وابنتها”
    (ফতোয়ায়ে আলমগিরী, ১/২৭৪)

  • ইমদাদুল ফতোয়া (আশরাফ আলী থানভী):

    “হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হতে স্পর্শের সময় পুরুষাঙ্গের উত্থান জরুরি। কেবলমাত্র হালকা চুলকানি বা শিরশিরানি যথেষ্ট নয়।”
    (ইমদাদুল ফতোয়া, ২/৪২২)

  • ফতোয়ায়ে উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী):

    “স্পর্শের পর যদি পুরুষাঙ্গ শক্ত না হয় বা কোনো নিঃসরণ না হয়, তবে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হবে না।”
    (ফতোয়ায়ে উসমানী, ২/৪২৮)


আপনার অবস্থার বিশ্লেষণ:

| বিষয় | আপনার বর্ণনা | ফিকহি বিধান | |--------|--------------|--------------| | উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য দেখা | পেট দেখা | শুধু দেখার কারণে হুরমত হয় না (যতক্ষণ বীর্য না বের হয়) | | স্পর্শ | পেটে হাত বুলানো (১.৫ সেকেন্ড) | স্পর্শ কামনার সাথে ছিল | | উত্থান (ইরেকশন) | হয়নি | নেই – এটি মূল শর্ত | | টান/ঝিনঝিন অনুভূতি | খুব ক্ষণস্থায়ী, ১ সেকেন্ডের কম, এর পর লিঙ্গ শক্ত হয়নি | এটি উত্তেজনা নির্দেশ করলেও উত্থান নয়; তাই হুরমত সাব্যস্ত করবে না | | নিঃসরণ (মযী/বীর্য) | হয়নি | নেই |

আপনার উল্লেখিত “টান” বা “ঝলক” অনুভূতি যদি উত্তেজনার কারণেও হয়, কিন্তু যেহেতু এর ফলে পূর্ণাঙ্গ উত্থান (ইন্তিশার) ঘটেনি এবং কোনো নিঃসরণ হয়নি, তাই হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হবে না।

আপনার শারীরিক অবস্থা (সহজে ইরেকশন না হওয়া) একটি পৃথক বিষয়। এ কারণে হুরমতের বিধান অপরিবর্তিত থাকে – যতক্ষণ না উত্থান বা নিঃসরণ ঘটে।


সিদ্ধান্ত:

আপনি ঐ মহিলার মেয়েকে বিয়ে করতে পারবেন।
জরুরি নয় যে আপনি আগে কোনো মুফতির সাথে কথা বলেছেন; বর্তমান ফিকহি নীতিমালা অনুযায়ী আপনার বিবাহ বৈধ হবে।

তবে পরামর্শ থাকবে: ভবিষ্যতে আপনি যদি কোনো গায়রে মাহরাম মহিলাকে কামনার সাথে স্পর্শ করার প্রয়োজন মনে করেন, তবে তা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এটি গুনাহের কাজ এবং এর মাধ্যমে নানা ফিতনার সম্ভাবনা থাকে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ এবং সর্বোত্তম জ্ঞানী।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.