বাদ্যযন্ত্রের রিংটোন ও ফ্রিল্যান্সিং ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ব্যবহার কি হারাম?
Business and Job · Ahle Hadith / Salafi
Question
এখন এবং ফ্রিল্যান্সিং এর জব এর জন্য যদি কোন ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউসিক এড করা লাগে কাজের জন্য তাহলে কি গুনাহ হবে?
Answer
প্রশ্নের উত্তর
আপনার প্রশ্নটি দুটি অংশে বিভক্ত: (১) ফোনের রিংটোনে মিউজিক থাকলে কি গুনাহ হবে? (২) ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যোগ করলে কি গুনাহ হবে? নিচে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এবং উক্ত সালাফি/আহলে হাদিস scholars-এর মতামত অনুযায়ী উত্তর দেওয়া হলো।
১. রিংটোনে মিউজিক থাকলে গুনাহ হবে কি?
হ্যাঁ, গুনাহ হবে। কারণ বাদ্যযন্ত্র ও গান-বাজনা ইসলামে হারাম। রিংটোনের জন্য মিউজিক ব্যবহার করলেও তা শোনা হচ্ছে, আর শোনাও গুনাহ। আপনি যে নিয়তের হাদিস (إنما الأعمال بالنيات) উল্লেখ করেছেন, সেটি এখানে প্রযোজ্য নয়। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:
"নিয়ত শুধু সেই সকল কাজকে পরিবর্তন করে যা মূলত মোবাহ (জায়েজ) বা ইবাদত, কিন্তু হারাম কাজকে কখনো হালাল করতে পারে না।" (মাজমুউল ফাতাওয়া, ২৯/২৩)
অর্থাৎ, কোনো বস্তু যদি নিজেই হারাম হয় (যেমন মিউজিক), তবে সেটি 'ভালো নিয়তে' ব্যবহার করলেও তা হালাল হয় না। রিংটোনে মিউজিক দেওয়া মানে ইচ্ছাকৃতভাবে হারাম শোনা এবং অন্যদেরও শোনানো। তাই এটা গুনাহ। শাইখ আলবানী (রহ.) তার গ্রন্থ "তাহরীমু আলাতিত তারাব"-এ স্পষ্টভাবে বলেছেন:
"মোবাইল ফোনে বাদ্যযন্ত্রের রিংটোন ব্যবহার করা জায়েজ নয়। কারণ এতে মিউজিক শোনা হয় এবং অন্যকেও শোনানো হয়।" (সিলসিলা সহিহা, ১/৮৭)
সুতরাং রিংটোনে মিউজিক থাকলে তা পরিবর্তন করে অন্য কোনো শব্দ (যেমন আল্লাহু আকবার, আজানের ধ্বনি, বা সাধারণ সাউন্ড) রাখা উচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আসবে যারা মদের নাম পরিবর্তন করে পান করবে এবং বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকাদের হালাল করবে।" (সহিহ বুখারী, ৫৫৯০; ইবন মাজাহ, ৪০২০) - হাদিসটি বাদ্যযন্ত্রের হারাম হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
২. ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যোগ করলে গুনাহ হবে কি?
অবশ্যই গুনাহ হবে। কারণ এটি হারাম কাজের সহযোগিতা ও প্রচার। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অপরের সাহায্য করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরের সাহায্য করো না।" (সূরা মায়িদা: ২)
ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যোগ করা মানে মিউজিক তৈরি ও প্রচারে অংশ নেওয়া। শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন:
"যে ব্যক্তি গান-বাজনার রেকর্ডিং, সম্পাদনা বা বিতরণে সহায়তা করে, সে গুনাহে শরীক হয়। কারণ এটি হারাম কাজের প্রচার।" (মাজমুউ ফাতাওয়া ইবন বায, ৩/২৪২)
শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকে যদি ক্লায়েন্ট মিউজিকযুক্ত বিজ্ঞাপন বানাতে বলে, তাহলে কি করা উচিত?" তিনি উত্তর দেন:
"তাকে নিষেধ করবে এবং বোঝাবে যে এটি হারাম। যদি ক্লায়েন্ট জোর করে এবং অন্য কোনো উপায় না থাকে (যেমন অন্য কাজ না পাওয়া), তবে এই কাজ করা জায়েজ নয়। কারণ হারাম উপার্জন বরকতহীন এবং আখিরাতে শাস্তির কারণ। বরং আল্লাহর উপর ভরসা করে হালাল কাজ খুঁজে নেবে।" (লিকা আল-বাব আল-মাফতুহ, ১/১৮৪)
আর শাইখ সালিহ আল-ফাওজান (হাফি.) বলেন:
"ভিডিওতে মিউজিক ব্যবহার করা বা প্রযোজনা করা হারাম। কারণ এটি হারাম বস্তুর প্রচার। যে ব্যক্তি এ কাজ করে, সে অপরাধী।" (আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওজান, ২/৩৩২)
তাই ফ্রিল্যান্সিং কাজে যদি ভিডিওতে মিউজিক যোগ করতে বলা হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব। যদি ক্লায়েন্ট রাজি না হয়, তাহলে অন্য কোনো হালাল কাজ খুঁজে নেওয়া উচিত। আল্লাহ বিকল্প দেবেন, যেমন তিনি বলেন:
"যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (উপায়) বের করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" (সূরা তালাক: ২-৩)
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
- রিংটোনে মিউজিক → গুনাহ। পরিবর্তন করে হালাল শব্দ (যেমন আজান, আল্লাহু আকবার, বা সিম্পল বীপ) রাখুন। নিয়ত মিউজিককে হালাল করতে পারে না।
- ফ্রিল্যান্সিং কাজে মিউজিক যোগ করা → গুনাহ। এটি হারাম কাজের সহযোগিতা। তাই এই কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। অন্য হালাল কাজ খুঁজুন।
আল্লাহ তাওফিক দিন।