"তুমি বাপের বাড়ি চলে যাও" ও "২০০০০ টাকা দিবো পরে চলে যাবে" বলার দ্বারা তালাকের বিধান।
Family Life · Hanafi
Question
২/আরেক বার বলেছিলাম।তুমাকে ২০০০০ টাকা দিবো পরে তুমি চলে যাবে।মনে হয় তখন নিয়ত ছিলো।এতে কি তালাক হবে।
Answer
উত্তর: হানাফি ফিকহের আলোকে
প্রশ্নকারী ভাই, আপনার উল্লিখিত দুটি বক্তব্য কোনো সুস্পষ্ট (সরীহ) তালাকের শব্দ নয়, বরং এগুলো কিনায়া (অস্পষ্ট/ইঙ্গিতমূলক) শব্দ। কিনায়া শব্দের মাধ্যমে তালাক হওয়ার জন্য নিয়ত (ইচ্ছা) বা দালালত (পরিস্থিতিগত প্রমাণ) আবশ্যক। নিচে প্রতিটি ঘটনার পৃথক বিধান দেওয়া হলো:
১ম ঘটনা: "তুমি বাপের বাড়ি চলে যাও, তোমাকে আর লাগবে না, সংসারের আর দরকার নাই।"
-
হানাফি ফিকহের মূলনীতি: কিনায়া শব্দে তালাক তখনই ঘটে যখন স্বামী তালাকের নিয়ত করে অথবা বক্তব্যের প্রেক্ষাপট (যেমন ঝগড়া, তালাকের আলোচনা) স্পষ্টভাবে তালাকের ইঙ্গিত বহন করে। যদি নিয়ত না থাকে এবং পরিস্থিতি তালাকের প্রমাণ না করে, তাহলে তালাক হয় না।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার ৩/২৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৭৫; বাহিশ্তি জেওয়ার, তালাক অধ্যায়) -
আপনার ক্ষেত্রে: আপনি বলেননি যে তখন আপনার তালাকের নিয়ত ছিল কি না। সাধারণত, ঝগড়ার সময় এমন কথা বললে তালাকের নিয়ত ছাড়া তালাক হয় না। তবে আপনি যদি সত্যিই তালাকের ইচ্ছা করে থাকেন, তাহলে একটি রজয়ী তালাক (যা ইদ্দতের মধ্যে ফিরিয়ে নেওয়া যায়) পতিত হয়েছে। আর যদি নিয়ত না থাকে, তাহলে কোনো তালাক হয়নি।
উপদেশ: আপনি যদি নিয়ত নিয়ে সন্দেহে থাকেন, তবে নিজেকে তালাক পতিত হওয়ার মতো মনে করবেন না, বরং একজন বিশ্বস্ত আলেমের কাছে বিস্তারিত অবস্থা বলুন।
২য় ঘটনা: "তোমাকে ২০০০০ টাকা দিবো পরে তুমি চলে যাবে। মনে হয় তখন নিয়ত ছিলো।"
-
বিধান: এটিও কিনায়া শব্দ। আপনি নিজেই বলছেন "মনে হয় তখন নিয়ত ছিলো"—এটি নিশ্চিত নয়। হানাফি ফিকহে সন্দেহের ক্ষেত্রে তালাক পতিত হওয়ার চেয়ে না হওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। যতক্ষণ না নিশ্চিত হন যে আপনার নিয়ত তালাকের ছিল, ততক্ষণ তালাক গণ্য হবে না।
(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী ২/৮৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৩০০) -
মনে রাখবেন: কিনায়া শব্দে তালাকের নিয়ত সুস্পষ্ট হতে হবে; শুধু "মনে হয়" বা "ধারণা" যথেষ্ট নয়। আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনি তখন তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন, তাহলে একটি রজয়ী তালাক পতিত হয়েছে। অন্যথায় না।
সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ
- তালাক পতিত হওয়ার শর্ত: নিশ্চিত নিয়ত বা তালাকের প্রমাণ।
- আপনার জন্য করণীয়:
১. প্রথম ঘটনায় নিয়ত না থাকলে, কোনো তালাক হয়নি।
২. দ্বিতীয় ঘটনায় নিয়ত থাকলে তালাক পতিত হবে, অন্যথায়, কোনো তালাক হয়নি।
৩. যদি আপনি নিশ্চিত হন কোনো একটিতে তালাকের নিয়ত ছিল, তাহলে একটি তালাকে বায়েন পতিত হয়েছে এবং ইদ্দতের (তিন মাসিক) ওর মধ্যে আপনি চাইলে ফিরিয়ে নিতে পারেন (রজয়ী তালাক)।
সর্তকতা: দাম্পত্য জীবনে তালাকের শব্দ ব্যবহার যেকোনোভাবে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন
তথ্যসূত্র:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) – ৩/২৬৪
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী) – ১/৩৭৫
- বাহিশ্তি জেওয়ার (আশরাফ আলী থানভী) – তালাক অধ্যায়
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ শফী) – ২/৮৭
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী) – ২/৩০০