ওয়ার্ড (শব্দার্থ) খেলা সম্পর্কিত।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 3268
Questioner: Tasnim Islam Samiha
Question Asked: 30 Jul 2026, 07:36 PM
Reviewed & Published: 30 Jul 2026, 08:30 PM
Views: 33
Tokens: 6,085
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

চোর পুলিশ খেলা:- এমন একটা খেলা যেখানে,চারটা চিরকুটে বাবুই, পুলিশ,চোর,ডাকাত ।
এখানে বাবুই এমনিই নাম্বার পায়, পুলিশকে নির্ণয় করতে হয় কে চোর চিরকুট পেয়েছে কে ডাকাত চিরকুট পেয়েছে।নির্ণয় করতে পারলে সে নাম্বার পায়।

চোখ টিপ খেলা:-এখানে অনেক জন খেলা যায়। এখানে সবগুলো চিরকুট থেকে একটায় চোখ থাকে যে এটা পায় সে ইশারায় যেকোনো একজনকে বুঝায়।সে বাদ দিয়ে সবাই নির্ণয় করার চেষ্টা করে কে চোখ পেয়েছে নির্ণয় করতে পারলে সে জিতে।
এখানে দুইটা খেলা গেইসিং টাইপ।

ওয়ার্ড এর খেলা:-এখানে অনেক গুলো ঘর খাতায় বানিয়ে সেখানে ইংরেজি শব্দার্থ বসাতে হয়। এভাবে অনেক নতুন শব্দ জানা যায়।

এখন আমার প্রশ্ন হল,এই খেলাগুলো অনেক জন একসাথে বসে খেলে। এখানে হারাম কিছু থাকে না, বাদ্যযন্ত্র থাকে না।
১.এই খেলা গুলো কি জায়েয?
২.আমি একজনের সাথে ৯মাস পরে কথা বলেছি এখনো স্বাভাবিক হতে পারছি না,তাই এই খেলাগুলোর মাধ্যমে স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করছি।
সেই ক্ষেত্রে কি খেলাগুলো খেলা যাবে?

Answer

উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين

আপনার বর্ণিত তিনটি খেলা—চোর পুলিশ খেলা, চোখ টিপ খেলা এবং ওয়ার্ড (শব্দার্থ) খেলা—সাধারণত বৈধ খেলার অন্তর্ভুক্ত, যদি সেগুলো শর‘ঈ নিষেধাজ্ঞা (যেমন জুয়া, মিথ্যা, গীবত, অশ্লীলতা, বাদ্যযন্ত্র, সময়ের অপচয় ইত্যাদি) থেকে মুক্ত থাকে। নিচে প্রতিটি খেলার হুকুম হানাফী ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো।


১. খেলাগুলোর শর‘ঈ হুকুম

ক. চোর পুলিশ খেলা

এই খেলায় চিরকুটের মাধ্যমে ভূমিকা নির্ধারণ করে একজন (পুলিশ) অন্যদের ভূমিকা (চোর/ডাকাত) অনুমান করে। এতে কোনো জুয়া নেই (অর্থের বাজি নেই), মিথ্যা বলা বা প্রতারণা বাধ্যতামূলক নয়, বরং অনুমান ও পর্যবেক্ষণ দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে। ইসলামে এমন অনুমাননির্ভর খেলা বৈধ, যতক্ষণ পর্যন্ত তা গায়রুল্লাহর নামে ভাগ্যপরীক্ষা না হয় এবং জুয়ার শামিল না হয়। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৯৯; ফাতাওয়া উসমানী, ১/৫৮০)

তবে খেলায় ‘চোর’, ‘ডাকাত’ ইত্যাদি নাম ব্যবহার করাতে কোনো গুনাহ নেই, কারণ তা বাস্তব অপরাধকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং কল্পনাভিত্তিক খেলার অংশ। যেমন শিশুরা ‘পুলিশ-চোর’ খেলে, তা জায়েয। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২১৪)

উল্লেখ্য, চোর পুলিশ খেলা কোনো কোনো ইসলামী স্কলারদের মতে অবৈধ।

খ. চোখ টিপ খেলা

এটা এক প্রকার ‘গেসিং গেম’ যেখানে একজন চিরকুট পাওয়ার পর অন্যজনকে ইশারা করে, আর বাকিরা অনুমান করে কে আসলে ‘চোখ’ পেয়েছে। এটিও অনুমাননির্ভর খেলা, জুয়া বা প্রতারণা জড়িত নয়, তাই জায়েয। তবে খেলার সময় যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সংকেত দেয়, তবে সেটা মিথ্যা হিসেবে গণ্য হবে—তাই সংকেতকে খেলার পরিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সাধারণত এ ধরনের খেলায় নিছক ইশারা গুলানোর নিয়ত থাকে, সেটা মিথ্যা নয়। (আল-হিদায়া, ৪/৪৩৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৬)

গ. ওয়ার্ড (শব্দার্থ) খেলা

এটি সম্পূর্ণ বৈধ ও শিক্ষামূলক। এতে নতুন শব্দ শেখা হয়, যা জ্ঞানের বিকাশে সহায়ক। কোনো প্রকার হারাম উপাদান নেই। বরং এ ধরনের খেলা উৎসাহিত করা উচিত। (বেহেশতী জেওর, ২/৫৪; মাআরিফুল কুরআন, সূরা আল-মায়িদাহ এর তাফসীর)


২. সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে খেলা

আপনি ৯ মাস পর কারো সাথে কথা বলা শুরু করেছেন এবং স্বাভাবিক হতে চাচ্ছেন। যদি সেই ব্যক্তি আপনার মাহরাম (যার সাথে বিবাহ হারাম, যেমন ভাই-বোন, পিতা-মাতা) হন, তাহলে খেলার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা কোনো দোষের নয়। কিন্তু যদি সেই ব্যক্তি গায়র-মাহরাম (যার সাথে বিবাহ জায়েয) হন এবং মেয়েলোক হলে, তাহলে খেলাধুলা ও বিনোদনের নামে একত্র হওয়া ও ইশারা-ইঙ্গিত করা ফিতনার কারণ হতে পারে। শরীয়তে গায়র-মাহরামের সাথে অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা ও মিশে খেলা নিষিদ্ধ। (সূরা নূর, ২৪:৩১; রদ্দুল মুহতার, ১/৪০৬)

তবে যদি তা মাহরাম বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হয়, তাহলে খেলা জায়েয, বরং সম্পর্ক মজবুতের মাধ্যম হতে পারে।


সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ

  • খেলাগুলো জায়েয, যদি:
    ✓ জুয়া, মিথ্যা, অশ্লীলতা, বাদ্যযন্ত্র না থাকে
    ✓ সময়ের অযথা অপচয় না হয়
    ✓ বৈধ সীমারেখা (পর্দা, গায়র-মাহরামের সাথে অবৈধ মিশ্রণ) লঙ্ঘিত না হয়

তবে খেলার নামে যদি প্রয়োজনের বেশি সময় নষ্ট হয়, তাহলে তা নিষেধের কাছাকাছি।

  • সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কৌশল: যদি বৈধ সীমারেখার মধ্যে হয় (যেমন মাহরাম বা সমলিঙ্গীয় বন্ধু), তাহলে এই খেলাগুলো মাধ্যমে স্বাভাবিক হওয়া চেষ্টা করা যেতে পারে। কিন্তু গায়র-মাহরামের ক্ষেত্রে সরাসরি কথা বলা বা খেলা শরীয়তসম্মত নয়; বরং দোয়া ও স্বাভাবিক ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পর্ক ঠিক করা উচিত, এবং প্রয়োজনে আলাদা পরিবেশে শালীনভাবে কথা বলা—কিন্তু খেলাধুলা নয়।

উল্লেখ্য, চোর পুলিশ খেলা কোনো কোনো ইসলামী স্কলারদের মতে অবৈধ।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক পথ দেখান।
والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.