১৬ বছর বয়সী মেয়ের পালিয়ে বিয়ে করার হুকুম জানতে চাই?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1644
Questioner: Samia Akter popy
Question Asked: 15 Jun 2026, 01:35 AM
Reviewed & Published: 15 Jun 2026, 02:09 AM
Views: 55
Tokens: 3,999
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আমার প্রশ্ন ছিলো, ১৬ বছর মেয়ে যদি পালিয়ে বিয়ে করে বাবা মার অনুমতি ব্যতীত ( তারা জীবিত) তাহলে সে বিয়ে শরিয়া অনুযায়ী কি কার্যকর হবে? এ বিয়ে কার্যকর হলে বিয়ে কি বাবা মার মেনে নেওয়া উচিত? (বর্তমানে আমাদের কি করা উচিত?)

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
একজন ১৬ বছর বয়সী মেয়ে তার বাবা-মায়ের (জীবিত) অনুমতি ছাড়া পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করলে শরিয়তের দৃষ্টিতে সেই বিয়ে কি কার্যকর হবে? বিয়ে কার্যকর হলে পিতা-মাতার কি তা মেনে নেওয়া উচিত? বর্তমানে কী করণীয়?

শরিয়তের বিধান:

হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মতানুসারে, ১৬ বছর বয়সী মেয়ে শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রাপ্তবয়স্ক (বালিগা) গণ্য হবে যদি সে শারীরিকভাবে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে থাকে (ঋতুবতী হওয়া বা ১৫ বছর পূর্ণ হওয়া)। প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের ইচ্ছায় ও পছন্দমতো বিয়ে করতে পারে, তবে পিতা-মাতার অনুমতি নেওয়া অতি উত্তম ও সুন্নত

বিচার:

  1. বিয়ের বৈধতা:

    • যদি মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয় (যা ১৬ বছর বয়সে সাধারণত হয়) এবং বিয়ের প্রস্তাব ও কবুল সঠিকভাবে (দুইজন সাক্ষীর সামনে) সম্পন্ন হয়, তাহলে বিয়ে শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ ও কার্যকর হবে
    • পিতা-মাতার অনুমতি না থাকলেও বিয়ে বাতিল হবে না। এটি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, পিতার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করলে বিয়ে বাতিল, তবে হানাফি ফিকহে ইমাম আবু হানিফার মতই অগ্রগণ্য।
    • রেফারেন্স:
      • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩২৫): “إذا تزوجت البالغة العاقلة بغير إذن وليها جاز عند أبي حنيفة”
      • রদ্দুল মুহতার (৩/৫৫): “المرأة البالغة العاقلة إذا زوجت نفسها من كفء جاز”
      • ফাতাওয়া উসমানী (২/৪২২): “প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের বিয়ে দিতে পারে, অভিভাবকের অনুমতি শর্ত নয়; তবে অনুমতি নেওয়া উত্তম।”
  2. বিয়ে কার্যকর হলে করণীয়:

    • যদিও বিয়ে বৈধ, পিতা-মাতার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করা গুনাহের কাজ (মাকরুহে তাহরিমি নয়, তবে মাকরুহে তানজিহি) এবং এটি পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করার কারণ।
    • পিতা-মাতার জন্য বিয়েটি মেনে নেওয়া উচিত এবং সন্তানকে ক্ষমা করে দেওয়া কর্তব্য। কারণ ইসলামে পারিবারিক বন্ধন রক্ষা ও সন্তানের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    • রেফারেন্স:
      • বেহেশতি জেওর (বিবাহ অধ্যায়): “পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে পিতা-মাতার রাগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, যা পরিহার করা উচিত।”
      • মাআরিফুল কুরআন (সূরা নিসা, ১৯): পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার ও সম্পর্ক রক্ষার নির্দেশ।

বর্তমানে করণীয়:

  1. মেয়েটির জন্য:

    • পিতা-মাতার কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তাদের সম্মান প্রদর্শন করা।
    • যদি বিয়ে সঠিকভাবে (ইসলামি নিয়মে) সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে পুনরায় বিয়ে করার প্রয়োজন নেই। তবে ফিতনা এড়াতে পিতা-মাতাকে জানিয়ে একটি সাধারণ বিবাহ অনুষ্ঠান করা উত্তম।
  2. পিতা-মাতার জন্য:

    • সন্তানের বিয়ে অস্বীকার করে পরিবার ও সমাজে ফিতনা সৃষ্টি না করে বিয়েটি মেনে নেওয়া এবং সন্তানকে ইসলামিক পথে পরিচালিত করা।
    • যদি বিয়েতে কোনো ত্রুটি থাকে (যেমন অকুফ বা সাক্ষী না থাকা), তাহলে একজন আলেমের মাধ্যমে বিয়ে সংশোধন করা।

মোটকথা:

  • বিয়ে বৈধ হবে যদি মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং বিয়ে সঠিক নিয়মে সম্পন্ন হয়।
  • পিতা-মাতা অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা গুনাহ, তবে বিয়ে বাতিল নয়।
  • পিতা-মাতার জন্য বিয়ে মেনে নেওয়া ও সম্পর্ক ঠিক রাখা ইসলামের নির্দেশ।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে হিদায়াত দান করুন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.