বাবা-মায়ের চাপে পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে না পারা, মানসিক অশান্তি ও পরিবারের হুমকি—এমতাবস্থায় করণীয় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1625
Questioner: Suhada Alif Suha
Question Asked: 14 Jun 2026, 06:19 PM
Reviewed & Published: 14 Jun 2026, 06:25 PM
Views: 43
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমার বয়স ২২ বছর, আমি একজন অবিবাহিত মেয়ে। গত ১ বছর ধরে আমি চরম মানসিক অশান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। প্রায় এক বছর আগে আমার পরিবার আমার বিয়ে ঠিক করেছে। কিন্তু সমস্যা হলো, আগে থেকেই আমার একজনকে পছন্দ ছিল। যখন আমি স্কুলে বা প্রাইভেটে যেতাম, তখন থেকেই তাঁর সাথে আমার দেখা হতো, যদিও আমাদের মাঝে তেমন কোনো কথা হতো না। শুরুতে বিষয়টি অতটা গুরুতর ছিল না।

পরবর্তীতে সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং জানায় যে সে আমাকে বিয়ে করতে চায়। আমিও তাকে বলি আমাদের পরিবারে প্রস্তাব পাঠাতে; পরিবার রাজি হলে আমারও কোনো আপত্তি থাকবে না। আজ থেকে প্রায় ৩ বছর আগে আমি আমার পরিবারকে তাঁর কথা জানাই। তখন সে-ও আমার মতোই একজন শিক্ষার্থী ছিল। এর মাঝেই মেসেজিংয়ের মাধ্যমে আমাদের যোগাযোগ বজায় ছিল।

পরবর্তীতে যখন আমার জন্য চারপাশ থেকে আরও ভালো ভালো প্রস্তাব আসতে শুরু করে, তখন আমার পরিবার আমার পছন্দের মানুষের সাথে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ, তাদের চোখে তাঁর পারিবারিক বা আর্থিক সামাজিক মর্যাদা (Standard) আমাদের চেয়ে কিছুটা কম মনে হয়েছিল। পরিবার যখন রাজি হলো না, তখন মানসিকভাবে কিছুটা প্রভাবিত (Manipulated) হয়ে আমিও পরিবারের পছন্দ করা ছেলেটির ব্যাপারে সম্মতি দিই।বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আমি ভেবেছিলাম, যদি কিছুটা সময় নিই, তবে হয়তো আমি অতীত ভুলে (Move on করে) এই বিয়েটা করতে পারব। তখন আমি পরিবারের চাপে 'হ্যাঁ' বললেও, মন থেকে তা মেনে নিতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম সময়ের সাথে সাথে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। এমনকি আমি ইস্তিখারা নামাজ পড়ে তারপর চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছিলাম।

কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিল। আমার কষ্ট তো কমলই না, উল্টো দিন দিন বাড়তেই থাকল। দিনের পর দিন আমার হবু বরকে (Fiancé) মেনে নিতে আমার প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল। আমি অনেক চেষ্টা করেও তাঁর প্রতি কোনো অনুভূতি বা ফিলিংস আনতে পারছি না। আমার শুধু সেই একজন মানুষের কথাই মনে পড়ে, যাকে আমি মন থেকে চেয়েছিলাম।

এই মানসিক কষ্টের কারণে আমি একপর্যায়ে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ি। অতিরিক্ত মানসিক চাপের (Stress) কারণে আমার শরীরে একটি রোগও ধরা পড়ে। এরপর আমার পরিবার আবার জানতে পারে যে, আমি এখনো সেই আগের ছেলেটির কথাই ভাবছি এবং মন থেকে সরে আসতে পারিনি। এর পর থেকে আমার বাবা-মা এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্য আমাকে ভীষণভাবে অপমান ও বকাঝকা করতে শুরু করে। তারা বলে—যেখানে বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে এবং সব আত্মীয়-স্বজন জেনে গেছে, এই মুহূর্তে আমি কীভাবে অন্য একটা ছেলের কথা চিন্তা করতে পারি! আমার বাবা অনেক রাগারাগি ও ঝামেলা করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে, তারা কোনোভাবেই আমাকে সেখানে বিয়ে দেবেন না। কিন্তু আমার মন তো তা মানছে না।

যাকে আমি পছন্দ করি, সে বলছে যে সে এখনই নগদ মোহরানা দিতে প্রস্তুত এবং তার পরিবার নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসতে চায়। কিন্তু আমার পরিবার কোনোভাবেই রাজি হচ্ছে না, বিশেষ করে আমার বাবা তো একেবারেই না। যার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে, সেই বিয়েটা অন্তত কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার (Postpone) জন্য আমি অনেক চেষ্টা করেছি।

কিন্তু পরিবারের বক্তব্য হলো—এখন সব আত্মীয়-স্বজন জেনে গেছে, কেউ বাকি নেই। আর আমার পছন্দের ছেলেটি আর্থিকভাবে কিছুটা কম সচ্ছল, তাই বিয়ে এখানেই হবে। যদি আমি অন্য কোথাও বিয়ে করি, তবে আমার বাবা মা আমার সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করবে এমন হুমকি দেয় আমাকে অথবা তারা আমাকে কখনো হাসিমুখে মেনে নেবে না।

এই পরিস্থিতিতে আমার এখন করণীয় কী? আমি প্রচুর ইস্তিগফার এবং দুরুদ শরীফ পড়ছি, যাতে এই চিন্তা ও হতাশা দূর হয়। আমি এখন মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে এবং আবেগীয়ভাবে—সব দিক থেকেই অসুস্থ। আমার খুব কষ্ট হয়। আমি যদি এভাবে জোর করে বিয়ে করি, আর বিয়ের পরেও যদি আমার ওই ছেলেটির কথাই মনে পড়ে, তবে সেটা কি আমার স্বামীর সাথে প্রতারণা (Cheating) হবে না? আমি তো আমার স্বামীকে মন থেকেই অনুভব করতে চাই।
এখন, ​যে ছেলেটিকে আমি পছন্দ করি, সে শেষবারের মতো তার বাবাকে সাথে নিয়ে আমার বাবার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে। যদিও আমি উত্তর জানি যে আমার বাবা রাজি হবেন না, তবুও সে চাচ্ছে শেষ একটা চেষ্টা করে বাবাকে বোঝাতে। কিন্তু বাবা বলবেন যে এখন বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, তাই এটি অসম্ভব।(এর মধ্যে মাঝখানে অনেক দিন আমার ঐ ছেলের সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ ছিল না,আমি আমার বাবা মায়ের দেয়া pressure এ চুপ হয়ে গেছিলাম,এতে এখন তারা মনে করে হয়তো যে আমি তাদের ঠিক করা ছেলের জন্য মন থেকে রাজি) এই অবস্থায় তার কি এই শেষ চেষ্টাটুকু করা উচিত? প্রস্তাবটি কি পাঠানো উচিত? যদি ওই ছেলেটি আমার বাবার সাথে কথা বলে, তবে বাসায় আবার একটা বিশাল বড় ঝামেলা তৈরি হবে, কারণ বাবা তাকে মোটেও পছন্দ করেননি।

এখন আমার আসলে কী করা উচিত? আমি এই তীব্র মানসিক চিন্তা ও বন্দিদশা থেকে মুক্তি চাই।"
ইসলামে তো বলা হয়েছে যে, মেয়ের অসম্মতিতে বিয়ে দেওয়া যাবে না আবার বাবা মায়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না।
এখন আমি কোন দিকে যাবো উস্তাজ?

( উল্লেখ্য, এই প্রশ্নটি যে ইমেইল থেকে করা হয়েছে, এটি তার এক বান্ধবীর প্রশ্ন, যার ইমেইল তার নয়)

Answer

উত্তর: বিয়েতে নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া নাকি বাবা-মায়ের ইচ্ছাকে?

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় বোন, আপনার দীর্ঘ ও জটিল সমস্যার কথা বুঝতে পেরেছি। আপনি চরম মানসিক অশান্তি, শারীরিক অসুস্থতা এবং পারিবারিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে আপনার করণীয় কী, তা নিচে কুরআন-হাদীস ও হানাফী ফিকহের কিতাবের আলোকে বিস্তারিত বলা হলো।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

আপনার বর্তমান অবস্থায় নিজের পছন্দের লোকটিকে বিয়ে করাই ইসলামী দৃষ্টিতে অধিকতর সঠিক ও নিরাপদ সিদ্ধান্ত, তবে তা হতে হবে শরী‘আতসম্মত পদ্ধতিতে, যেমন: অভিভাবকের মাধ্যমে বা শরী‘আতের অনুমোদিত উপায়ে। আপনার বাবা-মা যে বিয়ে জোর করে ঠিক করেছেন, তা আপনার অসম্মতিতে বৈধ নয় এবং আপনি তা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। তবে বাবা-মার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েয নয়; বরং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার ও সম্মান বজায় রেখে নিজের সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য চেষ্টা করতে হবে।

নিচে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হলো:


১. মেয়ের অমতে বিয়ে দেওয়া জায়েয নয়

ইসলামে নারীর বিবাহের জন্য তার পূর্ণ ও স্বাধীন সম্মতি আবশ্যক। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, প্রাপ্তবয়স্কা মেয়ের অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই নিজে বিবাহ করার অধিকার আছে, তবে অভিভাবকের সম্পৃক্ততা উত্তম। হাদীসে এসেছে:

لا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ (رواه البخاري ومسلم) "কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।"

তাই আপনার পরিবার আপনাকে পছন্দের লোকের সাথে বিয়ে দিতে বাধ্য করছে—এটা সম্পূর্ণ শরী‘আতবিরুদ্ধ। আপনি যদি মন থেকে রাজি না হন, তাহলে এই বিয়ে বৈধ হবে না। ইমাম কাসানী (রহ.) ‘বাদায়েউস সানায়ি’তে লেখেন:

ولو أكرهها الولي على النكاح فزوجها بغير رضاها لم يصح النكاح (بدائع الصنائع ٢/٢٥٤) "যদি অভিভাবক তাকে জোর করে বিয়ে দেয়, তবে তা সহীহ হবে না।"

আপনি ইতিমধ্যেই ইস্তিখারা করেছিলেন এবং সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইস্তিখারা করার পর যদি আপনার মন অশান্ত থাকে এবং আপনি তাতে সন্তুষ্ট না হন, তাহলে তা ইস্তিখারার নেতিবাচক ফলাফল বলে গণ্য হয়। শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (রহ.) বলেছেন: "ইস্তিখারা করার পর যদি হৃদয়ে প্রশান্তি না আসে এবং কাজটি কঠিন মনে হয়, তবে তা করার প্রয়োজন নেই।"

২. পিতার অবাধ্যতা ও সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি

বাবা-মায়ের আনুগত্য ফরজ, কিন্তু তা কেবল বৈধ বিষয়ে। আপনার বাবা যদি আপনাকে এমন একজনকে বিয়ে দিতে বাধ্য করেন যাকে আপনি মেনে নিতে পারছেন না এবং এতে আপনার মানসিক-শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে, তাহলে তার আনুগত্য করা আপনার জন্য জরুরি নয়। বরং এক্ষেত্রে নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও দ্বীন রক্ষার জন্য নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করাই উত্তম।

পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা তাদের অসন্তুষ্ট করা জায়েয নয়, কিন্তু তারা যদি অন্যায় আদেশ করে (যেমন: জোর করে বিয়ে দেওয়া), তাহলে তাদের সেটাতে অমান্য করতে হবে সঙ্গত কারণেই। কুরআনে এসেছে:

وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا (سورة لقمان: ١٥) "তোমার পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে শিরক করতে জোর দেয়, তবে তাদের আনুগত্য করো না।"

সুতরাং অন্যায় আদেশে পিতার আনুগত্য ফরজ নয়। আপনি বাবার হুমকি সত্ত্বেও সঠিক পথে আপোস করবেন না। তবে তাদের সাথে মিষ্টি ও ভদ্র আচরণ করবেন এবং সম্ভব হলে একজন দ্বীনী আলেম বা পারিবারিক প্রবীণ ব্যক্তির সাহায্য নিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করবেন।

৩. বর্তমান বাগদানের অবস্থা (Engagement) ভঙ্গ করা

ইসলামে বাগদান (খুশবাজী) কোনোরূপ বৈধ চুক্তি বা আকদের অন্তর্ভুক্ত নয়; এটি কেবল একটি প্রতিশ্রুতি। তাই আপনি চাইলে যেকোনো সময় এটি ভঙ্গ করতে পারেন, তবে উত্তম হলো সম্মানের সাথে ও কারণসহ জানানো। আপনার জন্য এই বিয়ে প্রত্যাখ্যান করা জায়েয, বিশেষ করে যেহেতু আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুত নন।

৪. পছন্দের লোকটির সাথে বিয়ে করা

আপনি যাকে পছন্দ করেন, সে যদি দ্বীনদার এবং চরিত্রবান হয় (যার প্রতি আপনার কোনো সন্দেহ নেই), তাহলে তার সাথে বিয়ে করা শরী‘আতসম্মত। অবশ্য হানাফী মতে, নারীর জন্য অভিভাবক (ওয়ালী) ছাড়া বিয়ে করা সহীহ নয়। তবুও, আপনি আপনার বাবাকে বোঝাতে পারেন। যদি বাবা অযৌক্তিক কারণ (যেমন: সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক নিম্নতা) দেখিয়ে বাধা দেন, তাহলে আপনি অন্য অভিভাবক (যেমন: চাচা, ভাই) বা স্থানীয় কাজী/ইসলামী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করতে পারেন। ইমাম সারাখসী (রহ.) ‘المبسوط’-এ লেখেন:

فإن عضل الولي المرأة في تزويجها من كفء فلها أن ترفع أمرها إلى القاضي فيزوجها القاضي (المبسوط ٥/٢٢) "যদি অভিভাবক বিবাহের উপযুক্ত পাত্রকে বিয়ে করতে বাধা দেয়, তবে মহিলা কাজীর নিকট নালিশ করতে পারে, এবং কাজী তাকে বিয়ে দিয়ে দেবেন।"

৫. ‘শেষ চেষ্টা’র প্রস্তাব

আপনার পছন্দের লোকটি যদি শেষবারের মতো আপনার বাবার সাথে কথা বলতে চায়, তবে তা করা মন্দ নয়। তবে এর ফলে বাসায় বিশাল ঝামেলা হবে বলে আপনি উদ্বিগ্ন। এ ক্ষেত্রে আপনি তাকে বলতে পারেন যে:

  • তিনি একজন দ্বীনী ব্যক্তির সাথে (যেমন: মসজিদের ইমাম) যান এবং সেই ব্যক্তি আপনার বাবার সাথে কথা বলুন।
  • অথবা একটি নরম ও সম্মানজনক চিঠি লিখে আপনার বাবার কাছে নিজের অবস্থা ব্যাখ্যা করুন।
  • যদি সরাসরি কথা বললে আপনার বাবা অত্যন্ত রাগান্বিত হন এবং মারাত্মক অশান্তি হয়, তাহলে বর্তমানে সাময়িকভাবে সেই চেষ্টা স্থগিত রাখা উচিত। বরং প্রথমে নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করুন।

মূলনীতি: যেকোনো বৈধ পদ্ধতিতে নিজের সম্মতি ও পছন্দকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি, কিন্তু বাবাকে আঘাত দেওয়া বা সম্পর্ক নষ্ট করা নয়।

৬. মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে মুক্তি

ইস্তিগফার, দুরুদ ও কুরআন তিলাওয়াত চালিয়ে যান। বিশেষ করে সূরা আলে ইমরানের শেষ আয়াত, সূরা ইউসুফ এবং সূরা নূরের কিছু আয়াত নিয়মিত পড়ুন। মানসিক চাপ কমাতে পেশাদার সাইকোলজিস্টের সাহায্য নিতে পারেন। ইসলামে নিজের স্বাস্থ্য রক্ষা করাও ফরজের অন্তর্ভুক্ত।

পরামর্শ: এখন আপনার করণীয়

  1. পাত্র নির্বাচন: আপনার পছন্দের ছেলেটি যদি দ্বীনদার, আমানতদার এবং চরিত্রবান হয়, তবেই তাকে অগ্রাধিকার দিন। একান্তই যদি তার সম্পর্কে কোনো ত্রুটি থাকে, তাহলে আল্লাহর কাছে সঠিক সঙ্গীর জন্য দোয়া করুন।
  2. বাবাকে বোঝানো: কোমলভাবে, দলিল-প্রমাণসহ বাবাকে জানান যে, ইসলামে জোর করে বিয়ে দেওয়া হারাম এবং এর পরিণাম ভয়াবহ। প্রয়োজনে মাদরাসার আলেম বা ইমাম সাহেবকে মাধ্যমে বলেন।
  3. সমঝোতার চেষ্টা: বর্তমান বাগদান ভঙ্গ করার জন্য সময় নিন। পরিবারকে জানান যে, আপনি মানসিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ, তাই বিয়ে স্থগিত রাখা প্রয়োজন।
  4. শরী‘আতের পথে বিয়ে: যদি বাবা সন্তুষ্ট না হন, তাহলে আপনি পরিবারের অন্য কোনো অভিভাবক (যেমন: চাচা) বা স্থানীয় কাজীর মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করতে পারেন। তবে সতর্ক থাকবেন—বিয়ে করার আগে নিশ্চিত হোন যে পাত্র দ্বীন ও চরিত্রের দিক থেকে উপযুক্ত।
  5. মনের সম্পর্ক: বর্তমানে যার সাথে বাগদান আছে, তার সাথে বিয়ে জোর করে করলে আপনি তার সাথে প্রতারণা করবেন। কারণ আপনি মনের থেকে তাকে গ্রহণ করতে পারছেন না। সেটা স্বামীর প্রতি অবিচার হবে। তাই সৎভাবে তা প্রত্যাখ্যান করাই অধিক ন্যায়পরায়ণ।

অবশেষে

আপনি নিজেকে দোষারোপ করবেন না। আল্লাহ তাআলা আপনার কষ্ট জানেন। বারবার দোয়া করুন:

رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ (سورة القصص: ٢٤) "হে আমার রব! তুমি আমার প্রতি যা কিছু কল্যাণ নাযিল করো, আমি তার মুখাপেক্ষী।"

আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফীক আল্লাহর কাছেই কামনা করি।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.