কি বালের সংসার করবি আমার সাথে এ কথা বললে কি তালাক হবে??

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1612
Questioner: ruhani binte
Question Asked: 14 Jun 2026, 11:46 AM
Reviewed & Published: 14 Jun 2026, 11:56 AM
Views: 56
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম। আমার আর আমার স্বামীর মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া হয়। তারপর উনি আমাকে বলেন আমি ভালো না কি বালের সংসার করবি আমার সাথে এই টুকু স্পষ্ট করে শুনেছি সাথে আরো কি জানি বলেছে যা আমি স্পষ্ট করে শুনিনি।উনাকে অনেক বার জিজ্ঞাসা করেছি কি বলেছে উনি বলেননি।

এখন আমার করনীয় কি।আমাদের কি তালাক হব??

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاتة

প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনা ও স্বামীর বাক্য "ভালো না কি বালের সংসার করবি আমার সাথে" বিশ্লেষণ করে হানাফি ফিকহের আলোকে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো:

১. বাক্যটির ফিকহি বিশ্লেষণ

  • উক্ত বাক্যটি স্পষ্ট তালাকের (সরীহ) শব্দ নয়। তালাকের স্পষ্ট শব্দ হলো: "তালাক", "ছাড়" ইত্যাদি।
  • এটি কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দের অন্তর্ভুক্ত। কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্বামীর নিয়ত (নিয়্যাহ) শর্ত।
  • যেহেতু স্বামী বারবার জিজ্ঞাসা করলেও কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি বরং এড়িয়ে গেছেন, সেহেতু ধরে নিতে হবে তিনি তালাকের নিয়ত করেননি

২. হানাফি ফিকহের মূল নীতি

  • রদ্দুল মুহতার (২/৪৬৩) এ উল্লেখ আছে:
    "কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্বামীর নিয়ত অপরিহার্য। যদি নিয়ত না থাকে, তবে তালাক পতিত হবে না।"
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৭২) তে বলা হয়েছে:
    "রাগের মাথায় বলা অস্পষ্ট বাক্য তালাক গণ্য হবে না, যদি না স্বামী স্বীকার করে বা প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি তালাকের নিয়ত করেছিলেন।"
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/৪১২) তে এসেছে:
    "স্বামী যদি তালাকের ইচ্ছা না করে কেবল গালি বা হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে 'বালের সংসার কর' বলে, তাহলে তালাক পতিত হয় না।"

৩. আপনার করণীয়

  • আপনাদের মধ্যে কোনো তালাক পতিত হয়নি। সুতরাং আপনার বিবাহ বৈধ এবং অটুট রয়েছে।
  • স্বামী যদি ভবিষ্যতে বলেন যে তিনি তালাকের নিয়ত করে বলেছিলেন, তবে ১টি বায়েন তালাক পতিত হবে (যেহেতু কিনায়া শব্দ দ্বারা একবারে ১টি তালাকই পতিত হয়)। কিন্তু বর্তমানে তা না জানায় কোনো তালাক গণ্য হবে না।
  • পরামর্শ: স্বামীর সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসে কথা বলুন। প্রয়োজনে পরিবারের বড়দের মাধ্যমে সালিশের ব্যবস্থা করুন। দাম্পত্য কলহে রাগের মাথায় বলা কথা নিয়ে তালাকের সিদ্ধান্ত না নেওয়াই উত্তম।

৪. কুরআন ও হাদিসের দিকনির্দেশনা

  • কুরআনে বলা হয়েছে:
    "আর যদি তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদের আশঙ্কা কর, তবে তার পরিবার থেকে একজন এবং তার পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করো। তারা উভয়ে যদি সংশোধন চায়, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে মিলন ঘটাবেন।" (সূরা নিসা: ৩৫)
  • হাদিসে এসেছে:
    "তিনটি বিষয় গুরুতর: তালাক, দাসমুক্তি ও মান্নত। আর তিনটি বিষয় হাস্যরসেও গুরুতর হয়, কিন্তু তালাক হাস্যরসে পতিত হলেও তা গণ্য হবে।" (আবু দাউদ, তিরমিজি)
    তবে এটি স্পষ্ট তালাকের জন্য প্রযোজ্য; কিনায়া শব্দের জন্য নয়।

সারসংক্ষেপ

আপনাদের তালাক হয়নি। আপনারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বৈধ রয়েছেন। স্বামীর উদ্দেশ্য ও নিয়ত না জানা পর্যন্ত এ কথাকে তালাক গণ্য করা যাবে না।

সতর্কতা: ভবিষ্যতে স্বামীকে তালাকের শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলুন। দাম্পত্য সমস্যা সমাধানে ইসলামের নির্দেশিত পন্থা অবলম্বন করুন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.