হানাফি ফিকহের আলোকে মাহরাম মহিলার সাথে স্পর্শ ও হুরমতের বিধান। পোশাকের পুরুত্ব, শাহওয়াত ও বীর্যপাতের শর্ত।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমি শুয়ে মোবাইল টিপতেছি আম্মু পাশে বসে বউ এর সাথে কথা বলছে। তখন গোপনাং মিডিয়াম লেভেলে ছিলো। মানে হয়ত আগে দাড়াইছিলো। একটু জল জল করতেছিলো। সেই অবস্থাটা কেমন নিজের ও স্পষ্ট বুঝিতেছি না। ধরে নিলাম আগে দাড়াইছিলো পরে মিডিয়াম লেভেলে আসছে। ধরে নিলাম গোপনাংগে হালজা উত্তেজনা ছিলো। কিন্তু কোন ব্যাক্তির প্রতি কামনা বাসনা ছিলো না।
যা বুঝলাম কোন ব্যক্তির প্রতি কামনা উটলে যে রকম দাঁড়ায় সেরিকম দাড়াচ্ছিলো না। কিন্তু হালকা জল জল করার কারনে
নিজে নিজে গোপনাংগ হালকা প্যান্ট এর সাথে ঘষতে পারতেছিলাম। হয়তো, মানে নিজেই ঠেলে লাড়াতে চাচ্ছিলাম। কোন কামনা বাসনা ছিলো না মনে। নাড়াতে চেষ্টা করতেছিলাম কারন আরাম লাগছিলো গোপনাংগ নাড়তে। তখন আম্মু আমার পায়ের মাঝের গিরার একটু নিচে কিন্তু রানের উপরের মাংশ অংশে ধরে উটে চলে যায়৷ তখনি মনে হয় এতে হুরমত হয়ে গেলো নাতো?
আম্মুর প্রতি কোন কামনা বাসনা ছিলো না। কোন ব্যাক্তির প্রতিও না। যদি দাঁড়ায় ও ধরে নিই সেটা অটোমেটিক /টেকনিকাল দাঁড়ানো / অযথাই রগ টানের দাঁড়ানো।
গ্যাবাডিন এর পান্ট ছিলো মিডিয়াম লেভেলের তেমন শক্ত বা পাতলা না, কামনা ছিলো না বাট মনে হইতে ছিলো নাড়াচ্ছি জোর করে। এতে কি হয়ে গেলো? হুরমত, (পরিশিষ্ট :আবার মনে কামনা ছাড়া কারো প্রতি শুধু দাঁড়ানো কে শাহাওয়াত ধরবে কিনা৷ মুফতী ইমদাদুল হক একবার বলছিলো যাকে স্পর্শ করবে তার প্রতিই কামনা থাকতে হবে, আর প্যান্ট কিন্তু মিডিয়াম এত শক্ত না নরম ও না, কোন কোন কাপড় লাগে হুরমত হইতে)
Answer
উত্তর
প্রশ্নের ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, আপনি যে অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন তাতে আপনার ও আপনার আম্মুর মধ্যে হুরমত (মাহরাম সম্পর্ক ছিন্ন) হওয়ার কোনো কারণ ঘটেনি। নিচে এর বিস্তারিত কারণ ও হানাফি ফিকহের দলীল উল্লেখ করা হলো।
১. হুরমত (মাহরাম সম্পর্ক ছিন্ন) হওয়ার শর্তাবলী
হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, মাহরাম মহিলার সাথে যদি কেউ শাহওয়াত (কামনা) সহকারে স্পর্শ করে এবং বীর্যপাত ঘটে, তাহলে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতে সেই সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় এবং মহিলাটি তার জন্য চিরকালের জন্য হারাম হয়ে যায়। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে শুধু শাহওয়াতের সাথে স্পর্শে হুরমত হয় না, বীর্যপাতও জরুরি। ফতোয়া দেওয়া হয় ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতের ওপর।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৩/২৪৩; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৮৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৪৫৬)
শর্তসমূহ:
- সরাসরি চামড়ায় স্পর্শ (অতি পাতলা কাপড় থাকলে তাও গণ্য হবে)।
- স্পর্শের সময় স্পর্শকৃত ব্যক্তির প্রতি শাহওয়াত (যৌনকামনা) থাকতে হবে।
- বীর্যপাত (মানি) ঘটতে হবে। (মাযি বা পানি বের হলে নয়)।
২. আপনার ঘটনার বিশ্লেষণ
| শর্ত | আপনার অবস্থা | ফলাফল | |------|-------------|--------| | শাহওয়াত | স্পষ্টভাবে বলেছেন: “আম্মুর প্রতি কোন কামনা বাসনা ছিলো না। কোন ব্যক্তির প্রতিও না।” | শর্ত পূরণ হয়নি | | স্পর্শের ধরন | আম্মু আপনার পায়ের মাঝের গিরার নিচে, রানের উপরের মাংশে ধরেছিলেন। গোপনাঙ্গ সরাসরি স্পর্শ হয়নি। | সরাসরি গোপনাঙ্গ স্পর্শ নয় | | কাপড়ের পুরুত্ব | গ্যাবাডিনের প্যান্ট ছিলো, মিডিয়াম লেভেল (না খুব শক্ত, না খুব পাতলা)। এতে শরীরের উত্তাপ ও আকৃতি স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। | সরাসরি চামড়ার স্পর্শ নয় | | বীর্যপাত | শুধু “জল জল” (মাযি) হওয়ার কথা বলেছেন। মনি (বীর্যপাত) হয়নি। | শর্ত পূর্ণ হয়নি | | নিজের নড়াচড়া | নিজে নিজে গোপনাঙ্গ নাড়াতেছিলেন আরামের জন্য, আম্মুর প্রতি কোনো কামনা ছিল না। | এটি হুরমতের সাথে সম্পর্কিত নয় |
সারসংক্ষেপ:
যেহেতু শাহওয়াত ছিল না, স্পর্শ সরাসরি গোপনাঙ্গে ছিল না, কাপড় মোটা ছিল এবং বীর্যপাত ঘটেনি, তাই হুরমত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আপনার ও আপনার আম্মুর মাহরাম সম্পর্ক পূর্বের মতোই অটুট আছে।
৩. “শুধু দাঁড়ানো” কি শাহওয়াত গণ্য হবে?
না।
শুধু পুরুষাঙ্গের উত্থানকে (ইরেকশন) শাহওয়াত বলা হয় না। শাহওয়াত হলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি যৌন কামনা বা আকর্ষণ। যদি উত্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা কোনো কারণবশত (যেমন: প্রস্রাব চাপ, ঘর্ষণ, শারীরিক অবস্থা) হয় এবং সেই ব্যক্তির প্রতি কোনো কামনা না থাকে, তবে তা শাহওয়াত গণ্য হবে না।
(সূত্র: আল-হিদায়া, ৪/২৪৫; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২৮৫)
৪. কাপড়ের পুরুত্ব ও হুরমতের বিধান
হানাফি ফিকহে বলা হয়েছে, যদি কাপড় এত পাতলা হয় যে শরীরের গরম বা আকৃতি অনুভব করা যায়, তাহলে তা সরাসরি স্পর্শের মতো গণ্য হবে। কিন্তু মাঝারি পুরুত্বের কাপড় (যেমন গ্যাবাডিন, জিন্স) তা থেকে মুক্ত। কারণ তাতে শরীরের উত্তাপ ও আকৃতি স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৬/৪২২; বাহিশতী জেওর, ৬/৫৬)
৫. মুফতি ইমদাদুল হক (রহ.)-এর উক্তির প্রাসঙ্গিকতা
আপনি উল্লেখ করেছেন যে মুফতি ইমদাদুল হক বলেছিলেন, “যাকে স্পর্শ করবে তার প্রতিই কামনা থাকতে হবে।”
এই কথাটি সম্পূর্ণ সঠিক। হুরমত প্রমাণিত হওয়ার জন্য শাহওয়াতের শর্ত হলো—স্পর্শকৃত ব্যক্তির প্রতিই যৌনকামনা থাকতে হবে। যদি কামনা না থাকে, তাহলে কেবল স্পর্শে হুরমত হয় না।
আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু আম্মুর প্রতি কোনো কামনা ছিল না, তাই সেই ফতোয়ার আলোকে ও হুরমত হয়নি।
চূড়ান্ত ফতোয়া
আপনার বর্ণিত অবস্থায় আপনার ও আপনার আম্মুর মাহরাম সম্পর্ক অটুট আছে। কোনো হুরমত (হারাম হয়ে যাওয়া) ঘটেনি। আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
উত্তর প্রদানে:
- কুরআন ও হাদিসের আলোকে হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব (রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া, আল-হিদায়া) থেকে দলীল নেওয়া হয়েছে।
- ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ, ইবনে আবেদিন, আশরাফ আলী থানভী ও মুফতি তাকি উসমানীর মতামত প্রাধান্য পেয়েছে।