ইসলামে পুত্র সন্তান না থাকলে চাচা, চাচাতো ভাই ও দাদির সম্পত্তির ভাগ নিয়ে প্রশ্ন।

Family Life · Hanafi

Question No: 1533
Questioner: Umme Nusaibah
Question Asked: 12 Jun 2026, 10:23 AM
Reviewed & Published: 12 Jun 2026, 10:35 AM
Views: 45
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইসলামে পুত্র সন্তান না থাকলে চাচা, চাচাতো ভাইয়েরাও সম্পত্তির ভাগ পায়? আমার বাবা ৫ ভাই ২ বোন। আমার দাদি বেঁচে আছেন। আমার বাবা এবং এক চাচা মারা গিয়েছেন। আমার চাচির ২ মেয়ে উনার স্বামী( আমার চাচা) মারা যাওয়ায় পর সব সম্পদ চাচারা এখনো ভাতিজিদের বন্টন করে দেয় নি৷ আমার চাচা মেয়েরা ছোট থাকতে মারা গিয়েছে। চাচি একাই মেয়েদের বড় করেছে এবং লেখাপড়া শিখিয়েছে। এখন সেই মৃত চাচার সম্পদ থেকে আমার বাকি চাচারা এবং দাদি ভাগ নিতে চাচ্ছে। যেটা মৃত চাচার মেয়েদের উপর জুলুম৷ তাদের হেয় করে রাখে আমার দাদি। এখন এই সম্পদের বন্টন তারা কিভাবে করবে? নেয়া কি জুলুম হবে না?

Answer

উত্তর

আপনার প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে মৃত চাচার সম্পত্তির বণ্টন ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী নির্ধারিত। এখানে পুত্র সন্তান না থাকায় কন্যা সন্তানরা এবং অন্যান্য ওয়ারিসগণ নির্দিষ্ট অংশ পাবেন। নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

প্রথমত: পুত্র সন্তান না থাকলে চাচা ও চাচাতো ভাইদের ভাগ

  • ইসলামী উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির যদি পুত্র সন্তান না থাকে, তবে তার কন্যারা নির্ধারিত অংশ (ফারায়েজ) পাবেন। তাদের পর বাকি সম্পত্তি আসাবা (অবশিষ্টাংশভোগী) হিসাবে মৃত ব্যক্তির ভাই (চাচা) ও বোন (ফুফু) পেতে পারেন।
  • চাচাতো ভাই (মৃত ব্যক্তির চাচার পুত্র) কেবল তখনই ভাগ পাবেন যদি মৃত ব্যক্তির কোনো ভাই-বোন না থাকে অথবা ভাই-বোন মৃত হন। কিন্তু এখানে মৃত চাচার ভাই-বোন জীবিত থাকায় চাচাতো ভাইরা বাদ পড়বেন।

সূত্র:

  • কুরআন: সূরা আন-নিসা (৪:১১-১২, ১৭৬)।
  • হানাফি ফিকহ: রদ্দুল মুহতার (৫/৪৬৭), ফাতাওয়া উসমানি (২/৪১৩), বাহিশতি জেওর (১০ম অধ্যায়)।

দ্বিতীয়ত: আপনার মৃত চাচার সম্পত্তির সঠিক বণ্টন (হানাফি মতে)

মৃত চাচার ওয়ারিসগণ (যারা জীবিত আছেন):

  1. স্ত্রী (চাচি) – নির্ধারিত অংশ ১/৮ (কন্যা থাকায়)।
  2. দুই কন্যা – নির্ধারিত অংশ ২/৩ (দুই বা ততোধিক কন্যার জন্য)।
  3. মা (দাদি) – নির্ধারিত অংশ ১/৬ (কন্যা থাকায়)।
  4. ভাই ও বোন (চাচা ও ফুফু) – অবশিষ্টাংশের ভাগীদার আসাবা হিসাবে।

গণনা:
মোট সম্পত্তি = ২৪ অংশ ধরা হলে:

  • স্ত্রী পাবেন = ১/৮ = ৩/২৪
  • দুই কন্যা পাবেন = ২/৩ = ১৬/২৪
  • মা (দাদি) পাবেন = ১/৬ = ৪/২৪
  • মোট নির্ধারিত অংশ = (৩+১৬+৪) = ২৩/২৪
  • অবশিষ্ট = ১/২৪

এই ১/২৪ অংশ ভাই ও বোনদের মধ্যে বণ্টন হবে। ভাই পাবে বোনের দ্বিগুণ।

  • মৃত চাচার জীবিত ভাই: ৩ জন (আপনার বাবা মৃত হওয়ায় তিনি বাদ)।
  • জীবিত বোন: ২ জন।
  • বণ্টন: ভাই প্রতি = ১/২৪ এর ২/৮ = ২/১৯২ = ১/৯৬ অংশ
  • বোন প্রতি = ১/২৪ এর ১/৮ = ১/১৯২ অংশ

সারসংক্ষেপ:

  • চাচি (স্ত্রী) পাবেন ১২.৫%
  • দুই কন্যা পাবেন ৬৬.৬৭%
  • দাদি পাবেন ১৬.৬৭%
  • চাচা ও ফুফুরা পাবেন মাত্র ৪.১৬% (সকল মিলে)

তৃতীয়ত: জুলুমের প্রশ্ন

  • ইসলামী বিধান অনুযায়ী চাচা ও দাদি তাদের প্রাপ্য অংশ নেওয়া জুলুম নয়, বরং এটি তাদের আইনগত অধিকার
  • কিন্তু যদি তারা কন্যাদের প্রাপ্য অংশ (২/৩) আটকে দেয় বা তাদের হেয় করে, তবে তা জুলুম ও কবিরা গুনাহ হবে। কুরআনে ইয়াতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়াকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে (সূরা আন-নিসা ৪:১০)।
  • উত্তম পন্থা: চাচা ও দাদি যদি স্বেচ্ছায় নিজেদের অংশ কন্যাদের দান করে দেন বা তাদের কল্যাণে ব্যয় করেন, তবে তা সওয়াবের কাজ হবে। তবে বাধ্য করা যাবে না।

চতুর্থত: সম্পত্তি বণ্টনের পদ্ধতি

  • প্রথমে মৃত চাচার সম্পত্তির পরিমাণ নির্ধারণ করুন।
  • তারপর স্ত্রী, কন্যা ও দাদি তাদের নির্ধারিত অংশ নিয়ে নেবেন।
  • বাকি অংশ জীবিত চাচা ও ফুফুদের মধ্যে উপরোক্ত নিয়মে বণ্টন হবে।
  • চাচির দুই কন্যার অংশ কোনোভাবেই কমানো যাবে না।

মারকাজি ফাতাওয়া:

  • দারুল উলুম দেওবন্দের ফাতাওয়া ও ফাতাওয়া উসমানি অনুযায়ী এই বণ্টনই সঠিক।

পরামর্শ

১. আপনি যদি পরিবারের মধ্যে শান্তি চান, তবে একজন আলেম বা ইসলামী আইনজ্ঞ দিয়ে সম্পত্তি বণ্টন করান।
২. চাচা ও দাদিকে বোঝান যে কন্যাদের অংশ আটকানো হারাম এবং আখিরাতে কঠিন জবাবদিহি হবে।
৩. যদি তারা জোর করে কন্যাদের অংশ দখল করে, তবে আপনি স্থানীয় ইসলামী কমিটি বা আইনগত সাহায্য নিতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দিন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.