ইস্তেখারার স্বপ্ন দেখলে কী বুঝবেন? একজন নারীর ইস্তেখারা, স্বপ্ন ও বিবাহ সংক্রান্ত প্রশ্নের বিশদ উত্তর হানাফি ফিকহের আলোকে।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1527
Questioner: Noor E Jannat Takia
Question Asked: 12 Jun 2026, 02:15 AM
Reviewed & Published: 12 Jun 2026, 04:19 AM
Views: 64
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমি একজনকে পছন্দ করতাম। তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এটা হারাম, আর হারাম সম্পর্কে থাকলে কোন নামাজ বা ইবাদত কবুল হয় না। এইজন্য আমরা দুজনেই হারাম সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছি এবং দুজনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা একে অপরকে আল্লাহর কাছে চাইবো এবং আমরা যদি একে অপরের জন্য কল্যাণকর হয় তবে আল্লাহ আমাদেরকে এক করে দিবেন। যদি আল্লাহ আমাদেরকে এক করে না দেন তাহলে ভেবে নিব আমরা একে অপরের জন্য কল্যাণকর ছিলাম না। আমার জন্য এখন অনেক বিয়ের প্রপোজাল আসছে। কিন্তু আমি যাকে পছন্দ করতাম তাকে ছাড়া আমি অন্য কারো সাথে বিয়ে করতে চাইছি না। তাই আমি এই পর্যন্ত ৫-৬ বার ইস্তেখারার নামাজ পড়ে দোয়া করেছি কোন পথটি আমার জন্য উত্তম জানার জন্য। কিন্তু কখনো কোন স্বপ্ন দেখি নি। কিন্তু গতকাল রাতে আবার ইস্তেখারার নামাজ পড়ে দোয়া করে ঘুমিয়েছি। সকালের দিকে একটা স্বপ্ন দেখি, স্বপ্নটা ততটা স্পষ্ট নয়। দেখি যাকে আমি পছন্দ করি সেই ছেলেটা নিচের ফ্লোরের সিঁরিতে দাঁড়িয়ে আছে সাদা টি-শার্ট পরে এবং আমি উপরের সিঁড়ি থেকে তাকে বকা দিয়ে দিয়ে নিচে নামছিলাম । তার সাথে আমি কোথাও বেড়াতে যাওয়ার জন্য বের হচ্ছিলাম সম্ভবত। আমি তাকে বকা দিচ্ছিলাম, আর সে আমাকে বলছিল, "চলো চলো "।এইটুকুই স্বপ্ন দেখেছি।
আজ সন্ধায় হঠাৎ তার সাথে আমার রাস্তায় দেখা হয় অনেক মাস পর কুয়েনসিডেন্সলি। আমি রাতে খেয়াল করলাম যে, যখন আমি তাকে আজকে রাস্তায় দেখেছিলাম তখনো সে সাদা টি-শার্ট পরা ছিল স্বপ্নে যেরকম দেখেছিলাম ঐরকম। কিন্তু সে সাদা টি-শার্ট খুব কমই পড়তো কিন্তু আজকে পড়াছিল। আমি এখন বুঝতে পারছি না স্বপ্নটার মিনিং কি? স্বপ্নটা পজিটিভ নাকি নেগেটিভ?

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি ইস্তিখারার বিধান ও স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন। নিচে কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে উত্তর দেওয়া হলো।


ইস্তিখারার মূলনীতি

ইস্তিখারা হলো কোনো কাজের কল্যাণ ও অকল্যাণ জানার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। এর জন্য নির্ধারিত নিয়ম হলো:

  1. দুই রাকাআত নফল নামাজ পড়া।
  2. নামাজের পর ইস্তিখারার দোয়া (যা হাদিসে বর্ণিত) পড়া।
  3. এরপর অন্তরে যে দিকের প্রতি স্বস্তি ও সায় পাওয়া যায়, সেটাই গ্রহণ করা।

হাদিসে এসেছে:

"যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করে, সে যেন দুই রাকাআত নামাজ পড়ে, তারপর এই দোয়া পড়ে..." (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৬২)

গুরুত্বপূর্ণ কথা:
ইস্তিখারার জন্য স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়। বরং বাস্তব জীবনে কোনো বিষয়ে অন্তরে যে প্রবণতা সৃষ্টি হয়, সেটাই ইস্তিখারার ফল। স্বপ্ন ইস্তিখারার একটি মাধ্যম হতে পারে, তবে তা শর্ত নয়।


আপনার স্বপ্নের ব্যাখ্যা

আপনি যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা সম্পূর্ণ পজিটিভ বা নেগেটিভ বলা সহজ নয়। তবে নিচের দিকগুলো বিবেচনা করুন:

  1. সাদা টি-শার্ট – ইসলামে সাদা রং পছন্দনীয় (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৩৭)। এটি পবিত্রতা ও ভালো ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
  2. স্বপ্নে বকা দেওয়া – এটি আপনার অন্তরের অস্বস্তি বা অতীতের ভুলের জন্য অনুশোচনার প্রতিফলন হতে পারে। তবে ছেলেটির "চলো চলো" বলা ইতিবাচক – এটি একসঙ্গে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
  3. বাস্তবে দেখা – সন্ধ্যায় তাকে একই পোশাকে দেখা ইস্তিখারার ইঙ্গিত হতে পারে, তবে তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কারণ নয়।

ইস্তিখারার স্বপ্নের সাধারণ ব্যাখ্যা:

  • পজিটিভ স্বপ্ন: সাদা, উজ্জ্বল, শান্তিপূর্ণ দৃশ্য, ভালো কথা শোনা।
  • নেগেটিভ স্বপ্ন: অন্ধকার বিষণ্ণ পরিবেশ, ভীতিকর কিছু দেখা।

আপনার স্বপ্নে বকা দেওয়া নেতিবাচক মনে হলেও, ছেলেটির সাড়া দেওয়া ও সাদা পোশাক পজিটিভ ইঙ্গিত। তাই এ স্বপ্নকে পূর্ণ নেতিবাচক বলা যাবে না, বরং এটি একটি মিশ্র ইঙ্গিত।


বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয়

  1. অতীতের জন্য তওবা করুন: হারাম সম্পর্ক ছেড়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করুন। নিশ্চিত থাকুন, তওবা কবুল হলে আল্লাহ ক্ষমা করেন।
  2. ইস্তিখারা চালিয়ে যান: ৫-৬ বার ইস্তিখারা করাই যথেষ্ট। তবে যদি অন্তরে এখনও সিদ্ধান্ত না আসে, তবে আবার ইস্তিখারা করতে পারেন।
  3. বাস্তব লক্ষণ দেখুন: আপনার অন্তর যেদিকে বেশি স্বস্তি পায়, সেটাই গ্রহণ করুন। যদি ছেলেটির সাথে বিয়ে করলে দ্বীনদারি ও ইমানি পরিবেশ থাকবে বলে মনে হয়, তবে তার জন্য দোয়া করুন।
  4. সঠিক পথ অনুসরণ করুন: বর্তমানে আসা ভালো প্রস্তাবগুলোকেও উপেক্ষা করবেন না। আল্লাহ যদি আপনার জন্য সেটাই ভালো মনে করেন, তবে তিনি সেটাই ঘটাবেন।

হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: "ইস্তিখারা করার পর যে কাজ করতে মন সায় দেয়, তা-ই কল্যাণকর।" (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৬৭)
  • ইমাম আহমদ রেজা খান (রহ.) লিখেছেন: "ইস্তিখারার পর স্বপ্ন না দেখলেও কোনো ক্ষতি নেই; বরং কাজের প্রতি আগ্রহ বা অনীহাই আসল লক্ষণ।" (ফাতাওয়া রেজভিয়্যাহ, ৮/২২১)

উপসংহার

আপনার স্বপ্নটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি না বানিয়ে ইস্তিখারার মূলনীতি অনুসরণ করুন:

  • যদি অন্তরে এই ছেলেটির সাথে বিয়ের জন্য স্বস্তি ও প্রশান্তি থাকে, তবে তার জন্য দোয়া ও চেষ্টা চালিয়ে যান।
  • যদি অন্তরে অস্থিরতা বা সংশয় থাকে, তবে ভালো প্রস্তাব এলে তা গ্রহণে দ্বিধা করবেন না।

আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য কল্যাণের পথ সহজ করে দিন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.