রোজা অবস্থায় দাঁতের রক্ত থুথুর সাথে মিশে গলায় চলে গেলে কি রোজা ভাঙে?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
তাহলে কি সব রোজা আমার কাজা করতে হবে পরে? আর এটা তো আমার প্রতিদিনই হচ্ছে তাহলে?
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার উক্ত রোজা গুলি আদায় হবেনা। এমতাবস্থায় সেই রোজা গুলির শুধুমাত্র কাজা আদায় করা আবশ্যক হবে। কাফফারা নয়।
النائم إذا شرب فسد صومه وليس هو كالناسيی لأن النائم أو ذاهب العقل إذا ذبح لم تؤكل ذبيحته وتؤكل ذبيحة من نسی التسمية
"ঘুমন্ত ব্যক্তি যদি পান করে, তবে তার রোজা নষ্ট হয়ে যায়। সে বিস্মৃত (ভুলে যাওয়া) ব্যক্তির মতো নয়। কারণ ঘুমন্ত ব্যক্তি বা যার জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে (অচেতন/বিবেকহীন), সে যদি কোনো পশু জবাই করে, তবে তার জবাইকৃত পশু খাওয়া বৈধ নয়। অথচ যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেছে, তার জবাইকৃত পশু খাওয়া বৈধ।"
(فتاوی قاضی خان، ج01، ص188، دار الکتب العلمیہ ،بیروت) (المحیط البرھانی، ج02، ص385، دار الکتب العلمیہ، بیروت)
قال الرحمتی ومعناه: أن النسيان اعتبر عذرا فی ترك التسمية بخلاف النوم والجنون فكذا يعتبر عذرا فی تناول المفطر؛ لأن النسيان غير نادر الوقوع، وأما الذبح وتناول المفطر فی حال النوم والجنون فنادر فلم يلحق بالنسيان
"কারণ তাসমিয়া (জবাইয়ের সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলা) ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুলে যাওয়াকে শরিয়তে ওজর (ক্ষমাযোগ্য কারণ) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে; কিন্তু ঘুম ও উন্মাদনার ক্ষেত্রে তা গণ্য করা হয়নি। অনুরূপভাবে, রোজা ভঙ্গকারী কোনো কিছু ভুলবশত খেয়ে ফেললেও ভুলে যাওয়াকে ওজর হিসেবে ধরা হবে। কেননা ভুলে যাওয়া মানুষের মধ্যে অস্বাভাবিক বা বিরল নয়; পক্ষান্তরে ঘুম বা উন্মাদ অবস্থায় জবাই করা কিংবা রোজা ভঙ্গকারী কিছু গ্রহণ করা বিরল ঘটনা। তাই এ দুটিকে ভুলে যাওয়ার হুকুমের সঙ্গে একীভূত করা হয়নি।"
অর্থাৎ, এই বক্তব্যে বলা হচ্ছে যে ভুলে যাওয়া (نسيان) একটি সাধারণ মানবিক অবস্থা, তাই শরিয়ত অনেক ক্ষেত্রে এটিকে ওজর হিসেবে গ্রহণ করেছে; কিন্তু ঘুম (نوم) বা উন্মাদনা (جنون) সেই অর্থে ভুলে যাওয়ার সমতুল্য নয়, তাই তাদের হুকুমও আলাদা।
(رد المحتار، ج02، ص401، دارالفکر، بیروت)
রোজা অবস্থায় দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়ে থুথুর সাথে মিশে গেলে:
১. যদি রক্তের পরিমাণ থুথুর চেয়ে বেশি হয় অথবা সমান হয়, তাহলে তা ইচ্ছাকৃতভাবে গিললে রোজা ভেঙে যায়। (এটি ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মত। ইমাম মুহাম্মাদের মতে সমান হলে ভাঙে না, তবে ফতোয়া প্রথম মতেই দেওয়া হয়।)
২. যদি থুথুর পরিমাণ রক্তের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে গিললেও রোজা ভাঙে না।
আল্লাহ তাআলা আপনার রোজা কবুল করুন এবং সহজতা দান করুন। (আমিন)