স্ত্রীর পূর্বের অভিভাবক ব্যতিত বিয়ে এবং গর্ভপাতের পর বর্তমান বিয়ে কি বিশুদ্ধ হয়েছে?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 1430
Questioner: Esmail
Question Asked: 10 Jun 2026, 12:09 AM
Reviewed & Published: 10 Jun 2026, 01:57 AM
Views: 62
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমি গত মার্চ মাসে বিয়ে করেছি। কিন্তু বিয়ের আগে আমার স্ত্রীর একটা ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিলো এবং আমার স্ত্রীর সম্পর্ক থাকাকালীন ঐ ছেলেকে অভিভাবক ছাড়া কাউকে না জানিয়ে লুকিয়ে মসজিদের খতিবের মাধ্যমে দুজন সাক্ষী রেখে মৌখিক ভাবে বিয়ে করে। পরবর্তীতে আমার স্ত্রীর বাবা এবং পরিবারের কেউ ছেলের পরিবারের সাথে কুফু না মিলায় এবং লুকিয়ে বিয়ে করায় বিয়েটা মেনে নেয়নি। অন্যদিকে ঐ ছেলেটি আমার স্ত্রীকে মানসিক ভাবে অত্যাচার শুরু করে। এর পর আমার স্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ছেলেটির কাছে মৌখিক ভাবে তালাক চায় কিন্তু ছেলেটি দীর্ঘদিন তাকে মানসিক ভাবে অত্যাচার করে এবং হুমকি দেয় পরিবারের ক্ষতি করার এবং কোনো প্রকার মৌখিক তালাক দেয়নি। গত মার্চ মাসে আমার সাথে আমার স্ত্রীর পারিবারিক ভাবে বিয়ে ঠিক হয়, বিয়ের আগে আমার স্ত্রী ঘটনাটি আমাকে এইভাবে বলে যে "তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ঐ ছেলেটি আমার স্ত্রীকে বিয়ে করে ছিলো এবং পরে তাকে অত্যাচার করত এবং তার পরিবারের কেউই বিয়েটি মেনে নেয়নি এবং সে ছেলেটির কাছে তালাক চেয়েছে অনেক বার কিন্ত কোনো ভাবেই ছেলেটি তাকে তালাক দেয়নি উল্টো গায়ে হাত তুলেছে এবং মানসিক ভাবে সবসময় অত্যাচার করত আর আমার স্ত্রীর পরিবাবের ক্ষতি করতে চাইতো এবং ঐ ছেলেটির সাথে তার ৬/৭ মাস যাবত কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই"। আমি ঘটনাটি শুনি এবং আমার বিয়ে তখন অনেকটাই পারিবারিক ভাবে ঠিক হয়ে গিয়েছে। যেহেতু আমি সহীহ হাদিস অনুযায়ী জানি যে অভিভাবক ছাড়া মেয়েরা বিয়ে করতে পারে না এবং করলে বাতিল বলে গন্য হয়। তাই আমি তার অসহায়ত্ব দেখে এবং সহীহ হাদিস ভিত্তিতে ব্যাপারটা মেনে নেই। কিন্তু আমার বিয়ের কিছুদিন পর জানতে পারি আমার বিয়ের ঠিক ১ মাস আগে আমার স্ত্রী গর্ভবতী ছিলো এবং ঐ ছেলে তাকে দিয়ে একমাসের বাচ্চাকে জোরপূর্বক এবরশন (গর্ভপাত) করিয়েছে। আর এই ঘটনাটি জানার কয়েকদিন পর জানতে পারি আমার স্ত্রীর গর্ভে এখন আমার সন্তান সে এখন গর্ভবতী। আমার প্রশ্ন হলো যে ঐ ছেলের সাথে তার সম্পর্ক ছিলো তাদের তখন বাচ্চা হয়েছিলো আমার বিয়ের ১ মাস আগে আমি ব্যাপারটা জানতাম না, সেই ক্ষেত্রে কি আমার বিয়েটা সহী হয়েছে এবং বর্তমানে আমার বাচ্চা তার গর্ভে। এখন যদি বিয়ে সহীহ না হয়ে থাকে তাহলে আমার করনীয় কি?

Answer

উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ্। আপনাকে জানিয়ে খুশি যে, আপনার বিয়ে সহীহ হয়েছে, ইনশাআল্লাহ। নিচে দলিল ও ব্যাখ্যাসহ বিষয়টি তুলে ধরা হলো।

১. পূর্বের “বিয়ে”টি বাতিল ছিল

রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন:

«أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكاحُهَا بَاطِلٌ، فَنِكاحُهَا بَاطِلٌ، فَنِكاحُهَا بَاطِلٌ»
(رواه أبو داود والترمذي، وصححه الألباني)

অর্থ: “যে নারী নিজ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে, তার বিয়ে বাতিল, বাতিল, বাতিল।”

যেহেতু আপনার স্ত্রীর পূর্বের বিয়ে অভিভাবক (ওয়ালি) ছাড়া ও গোপনে হয়েছিল এবং তার পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাই সেই বিয়ে বাতিল। ফলে আপনার স্ত্রী সেই সময়ে কারও স্ত্রী ছিলেন না; বরং তিনি যিনার শিকার হন (যদিও তিনি জোরপূর্বক এতে লিপ্ত হন)। কিন্তু যেহেতু তিনি জোরপূর্বক এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন, তাই তার ওপর গুনাহ নেই (বুখারি, হাদিস নং ৬৯৪৯)।

২. আপনার বিয়ের বৈধতা

আপনার বিয়েটি পারিবারিকভাবেঅভিভাবকের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং এটি শর্তানুযায়ী সহীহ। আপনি স্ত্রীর পূর্বের ঘটনা জেনেছিলেন (যে তার পূর্বের বিয়ে বাতিল) এবং তাকে তার অসহায়ত্বের কারণে গ্রহণ করেছিলেন—এটি প্রশংসনীয়।

শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেন:

“যদি কোনো নারী তার পূর্বের বিয়ে বাতিল বলে জানে এবং পরে সঠিক পদ্ধতিতে বিয়ে করে, তবে তা সহীহ।” (মাজমু‘ ফাতাওয়া ইবনি বায, ২০/৪৫)

৩. গর্ভপাত ও পূর্বের গর্ভধারণের প্রভাব

আপনার স্ত্রী আপনার বিয়ের ১ মাস আগে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অন্য পুরুষের থেকে গর্ভবতী হন এবং তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়। এটি একটি ভয়ংকর পাপ—গর্ভপাতের ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসে কঠিন শাস্তির কথা এসেছে। তবে আপনার বিয়ের বৈধতার উপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

শাইখ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেন:

“যে নারী যিনার মাধ্যমে গর্ভবতী হয়েছে, তার জন্য বিবাহ করা জায়েয, তবে বিয়ের পর সন্তান প্রসবের আগ পর্যন্ত সহবাস না করাই উত্তম।” (আশ-শারহুল মুমতি‘, ১২/১২৪)

আপনার ক্ষেত্রে পূর্বে গর্ভপাত হওয়ায় সে সমস্যাও নেই।

৪. বর্তমান গর্ভধারণ

এখন আপনার স্ত্রী আপনার সন্তানে গর্ভবতী। এটি আপনার সন্তান—কোনো সন্দেহ নেই। ইসলামী আইন অনুযায়ী, বিয়ের পর স্ত্রীর গর্ভে আসা সন্তান স্বামীরই বলে গণ্য হয়, যতক্ষণ না প্রমাণিত হয় অন্যথা। তাই আপনি তাকে আপনার সন্তান হিসেবে মেনে নিন এবং তার প্রতি দায়িত্ব পালন করুন।

৫. আপনার করণীয়

  • আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন যে আপনার বিয়ে সহীহ হয়েছে।
  • স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিন এবং তার অতীতের পাপের জন্য তওবা করতে উৎসাহিত করুন। তাকে বুঝান যে, আল্লাহ তওবা কবুল করেন।
  • গর্ভপাতের বিষয়ে স্ত্রীকে বলুন, এটি একটি কবীরা গুনাহ। তাকে আল্লাহর কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করতে হবে এবং বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে হবে।
  • আপনার স্ত্রীর মানসিক অবস্থা বুঝুন; তিনি পূর্বের নির্যাতন ও গর্ভপাতের কারণে ট্রমায় ভুগতে পারেন। ধৈর্য ও সহানুভূতির সাথে তার পাশে থাকুন।
  • আপনার সন্তানের জন্য দু‘আ করুন এবং তাকে ইসলামী পরিবেশে গড়ে তোলার সংকল্প করুন।

৬. যদি আপনি প্রতারিত বোধ করেন

আপনি যদি মনে করেন যে, স্ত্রী আপনাকে গর্ভপাত ও পূর্ববর্তী গর্ভধারণের বিষয়টি গোপন করে প্রতারণা করেছেন, তাহলে আপনি বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার (ফাসখ) বা তালাক দেওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু এটি ওয়াজিব নয়; বরং আপনার ইচ্ছাধীন।

শাইখ সালেহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন:

“যদি কোনো নারী তার পূর্বের পাপ (যিনা) গোপন করে বিয়ে করে, তবে স্বামী চাইলে তালাক দিতে পারে, কিন্তু বিয়ে সহীহ।” (আল-মুনতাকা, ৩/২২১)

তবে যেহেতু আপনি আগেই জানতেন যে তার পূর্বের সম্পর্ক ছিল (যা তিনি অকপটে বলেছিলেন), এবং এখন আপনি তার গর্ভে নিজের সন্তান বহন করছেন, তাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই অধিকতর উত্তম ও সওয়াবের কাজ হবে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

  • আপনার বিয়ে সহীহ
  • আপনার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান আপনার
  • করণীয়: স্ত্রীকে তওবা করতে সহায়তা করুন, অতীত ভুলে সংসার গঠন করুন, এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.