এক ফোঁটা রক্ত হায়েজ কি না?
Taharah Purity · Hanafi
Question
উস্তাজ আজকে এশার পরে আমি বাথরুমে যেয়ে লজ্জাস্থানের ভেতর টিস্যু দিয়ে দেখি যে এক বিন্দু রক্ত লেগেছে টিস্যুতে। এটাকে কি হায়েজ ধরবো? হায়েজ কিনা অনিশ্চিত থাকায় আমি শুধু ফরজ নামাজ পড়েছি। বাকি নামাজ কি আদায় করবো?
Answer
উত্তর: হায়েজ নির্ধারণ ও নামাজ আদায় সংক্রান্ত মাসআলা
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
এশার নামাজের পর লজ্জাস্থানের ভিতরে টিস্যু দিয়ে পরীক্ষা করে এক বিন্দু রক্ত দেখা গেছে। এটি কি হায়েজ বলে গণ্য হবে? অনিশ্চিত অবস্থায় শুধু ফরজ নামাজ পড়েছি। বাকি নামাজ (সুন্নত, নফল বা অন্যান্য) আদায় করতে হবে কি?
ফতোয়া (হানাফি মতে)
উত্তর:
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
১. হায়েজের শর্ত ও এই রক্তের বিধান:
হানাফি মাজহাব অনুসারে হায়েজ (মাসিক) হওয়ার জন্য ন্যূনতম তিন দিন (৭২ ঘণ্টা) একটানা বা কিছু বিরতি সহ মোট তিন দিন রক্ত আসা আবশ্যক। যদি রক্ত মাত্র একবার বা এক বিন্দু দেখা যায় এবং তা তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত না থাকে, তবে তা হায়েজ নয়; বরং ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) বলে গণ্য হবে।
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি শুধু এক বিন্দু রক্ত দেখেছেন এবং এটি তিন দিন ধরে চলেনি (বা এখনো চলার সম্ভাবনা নেই) – তাই এটি হায়েজ নয়।
প্রমাণ:
- ইমাম কাসানী (রহ.) বলেন: “হায়েজের সর্বনিম্ন সময় তিন দিন, আর সর্বোচ্চ দশ দিন। এর কম হলে তা হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাযা।” (বাদায়েউস সানায়ে, ১/৪১)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় উল্লেখ আছে: “যদি কোনো নারী রক্ত দেখে কিন্তু তা তিন দিনের কম হয়, তবে তা হায়েজ নয়।” (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৩৭)
- ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন: “হায়েজের রক্ত অবশ্যই কমপক্ষে তিন দিন প্রশাসিত হতে হবে; এক বিন্দু রক্ত দ্বারা হায়েজ সাব্যস্ত হয় না।” (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮২)
২. নামাজের বিধান:
- যেহেতু এটি হায়েজ নয়, তাই আপনার উপর নামাজ পড়া ফরজ ছিল এবং আপনি যে নামাজ পড়েছেন (ফরজ) তা সহীহ হয়েছে।
- আপনি যদি অনিশ্চিত অবস্থায় শুধু ফরজ নামাজ পড়ে থাকেন এবং সুন্নত/নফল বা অন্য কোনো নামাজ (যেমন: এশার সুন্নত, বিতর, ইত্যাদি) না পড়ে থাকেন, তবে সেই নামাজগুলো কাজা করতে হবে। কেননা ইস্তিহাযা অবস্থায় নামাজ পড়া আবশ্যক (তবে প্রতি নামাজের জন্য নতুন ওযু করতে হবে)।
- মিস করা নামাজ: আপনি যদি এশার ফরজের পর সুন্নত ও বিতর না পড়ে থাকেন, তবে সেগুলো পড়ে নিন। যদি অন্য কোনো নামাজ (যেমন: আগের কোনো ফরজ) অনিশ্চয়তায় ছুটে গিয়ে থাকে, সেগুলোও কাজা করুন।
হানাফি গ্রন্থের উদ্ধৃতি:
- “ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীর জন্য নামাজ পড়া ফরজ; সে প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন ওযু করবে।” (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৩৬)
- “যদি কোনো নারী রক্ত দেখে এবং নিশ্চিত না হয় যে এটি হায়েজ কি না, তাহলে সে নামাজ পড়তে থাকবে এবং পরে যদি তিন দিন পূর্ণ হয় তাহলে পূর্বের নামাজ কাজা করবে; আর যদি না হয় তাহলে তার নামাজ সহীহ।” (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৪)
৩. ভবিষ্যতের জন্য নির্দেশনা:
- এখন থেকে আপনি স্বাভাবিকভাবে নামাজ, রোজা ও ইবাদত পালন করবেন।
- যদি রক্ত আসা অব্যাহত থাকে এবং তিন দিন পূর্ণ হয়, তবে সেটি হায়েজ গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে ওই সময়ের নামাজ কাজা করতে হবে না (হায়েজ অবস্থায় নামাজ ফরজ নয়)।
- তবে বর্তমানে যেহেতু মাত্র এক বিন্দু, তাই ইস্তিহাযার বিধান প্রযোজ্য।
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
- এক বিন্দু রক্ত হায়েজ নয়; এটি ইস্তিহাযা।
- আপনার ফরজ নামাজ সহীহ হয়েছে।
- বাকি নামাজ (সুন্নত, বিতর ইত্যাদি) পড়ে নিন; যেগুলো ছুটে গেছে সেগুলোর কাজা করুন।
- ইস্তিহাযার কারণে নামাজ পড়া ওয়াজিব; শুধু প্রতি নামাজের জন্য নতুন ওযু করতে হবে।
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (১/২৮২-২৮৪)
- ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৩৬-৩৭)
- বাদায়েউস সানায়ে (১/৪১)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৩৪)
- ফাতাওয়া উসমানী (১/২৫)