একজন শাতিমে রাসুলের সাথে কাজ করা,এতে ঈমানের সমস্যা হবে কিনা,সেই সংক্রান্ত আলোচনা।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1741
Questioner: Shawon
Question Asked: 17 Jun 2026, 08:09 PM
Reviewed & Published: 17 Jun 2026, 08:15 PM
Views: 78
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।আগের প্রশ্নঃএকজন হিন্দু শাতিমে রাসুল সাঃ কিনা নিশ্চিত না তার নিয়ত কি ছিলো জানিনা আমি ছাত্র সেও ছাত্র তার সাথে সরকারিভাবে কারেন্টের কাজ শিখলে। তাকে দেখলে বা তার কথা শুনলে বা তার কথা কেউ বললে তার কথা মনে বা ভিতরে আসলে ওসওয়াসা আসে। এখন ঐখানে কাজ শিখতে গেলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?

★আগের উত্তরের একটা অংশ
ব্যবহারিক পরামর্শ:
(ক) স্থানটিতে যাওয়ার আগে এবং যাওয়ার সময় ‘আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়ুন।

নতুন প্রশ্নঃ(ক) স্থানটিতে যাওয়ার আগে এবং যাওয়ার সময় ‘আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম না পড়ি বা পড়তে ভুলে যাই তাহলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?


২। ১নং প্রশ্নের সেই নিশ্চিত না হওয়া শাতিমের কথা বা আমার ধারনা হয় ইমান চলে যাবে এমন কথা মনে বা ভিতরে আসলে বলি দরকার হইলে গোনাহ করবো না তারপরও শাতিম বা ইমান চলে যাবে এমন কিছু করবো না। তারপর যদি গোনাহকে গোনাহ যেনেই করি হালাল মনে না করি ইমান চলে যাবে কি?

৩।১নং প্রশ্নের সেই নিশ্চিত না হওয়া শাতিমের কথা মনে বা ভিতরে যে কোনো কারনেই আসুক পাত্তা না দিলে ভালো হবে কি, কারন আমার ওসওয়াসার সমস্যা আছে এ বিষয় নিয়ে মন বা ভিতরে আসে আবার চলে গেলে আবার আসে ?

Answer

প্রশ্নের উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

১. ‘আউজু বিল্লাহি’ না পড়লে বা পড়তে ভুলে গেলে গুনাহ বা ইমানের সমস্যা হবে কি?

‘আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া ওয়াজিব বা ফরজ নয়, বরং এটি একটি মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) আমল। তাই ভুলে গেলে বা না পড়লে কোনো গুনাহ হবে না এবং ইমানেরও কোনো সমস্যা হবে না। এটি শুধুমাত্র শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ।

হাদীস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ فَذَكَرَ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: لاَ مَبِيتَ لَكُمْ وَلاَ عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ، وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشَاءَ" "যখন কোনো ব্যক্তি নিজ ঘরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশের সময় ও খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তখন শয়তান বলে: তোমাদের জন্য এখানে রাত্রি যাপনের ও রাতের খাবারের কোনো জায়গা নেই। আর যখন সে প্রবেশের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে না, তখন শয়তান বলে: তোমরা রাত্রি যাপনের জায়গা পেয়ে গেছ।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: 2018)

তবে ‘আউজু বিল্লাহি’ পড়া শয়তানের ওয়াসওয়াসা দূর করার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি দোয়া। তাই আপনার মতো ওয়াসওয়াসায় ভুগলে এটি পড়ার অভ্যাস করা ভালো।


২. গুনাহকে গুনাহ জেনে করলেও ইমান চলে যাবে কি?

আপনার প্রশ্ন: যদি কেউ মনে মনে বলে, "দরকার হলে গুনাহ করব, কিন্তু ইমান নষ্ট হবে এমন কিছু করব না", তারপর গুনাহকে গুনাহ জেনেও করে, তাহলে কি ইমান চলে যাবে?

উত্তর:

  • গুনাহ করলে ইমান চলে যায় না, যতক্ষণ না কেউ সেই গুনাহকে হালাল মনে করে বা শিরক ও কুফরী এমন কিছু করে
  • আপনি যদি গুনাহ করাও, কিন্তু তা গুনাহ জেনেন এবং অপরাধবোধ নিয়ে করেন, তাহলে তা ইমান নষ্ট করে না। তবে এটি কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে এবং তওবা করা আবশ্যক।
  • ইসলামী আকীদা: ইমানের সাথে গুনাহ থাকতে পারে, কিন্তু গুনাহকে হালাল মনে করা কুফরী। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেছেন:

    "الْإِيمَانُ لَا يَزِيدُ وَلَا يَنْقُصُ، وَالْمُؤْمِنُونَ فِي الْإِيمَانِ سَوَاءٌ" "ইমান বাড়ে না কমে না, এবং মুমিনগণ ইমানে সমান।" (ফিকহু আকবার)

তবে গুনাহ করা থেকে বিরত থাকা এবং তওবা করা ফরজ। আল্লাহ বলেন:

"إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ" "নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না, এবং তা ছাড়া (অন্য গুনাহ) যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা আন-নিসা: 48)


৩. ওয়াসওয়াসার চিন্তাকে পাত্তা না দেওয়া কি ভালো?

হ্যাঁ, ওয়াসওয়াসার চিন্তাকে পাত্তা না দেওয়াই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي مَا وَسْوَسَتْ بِهِ صُدُورُهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ" "নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে উত্থিত ওয়াসওয়াসা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা আমলে বা কথায় প্রকাশ করে।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: 6664)

ওয়াসওয়াসা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া আরও ওয়াসওয়াসা বাড়ায়। তাই:

  1. ওয়াসওয়াসার চিন্তাকে কোনো গুরুত্ব দেবেন না।
  2. মনে এলে 'আউজু বিল্লাহি' পড়ুন এবং অন্য কাজে মন দিয়ে দিন।
  3. নিশ্চিতভাবে জানা না থাকলে কারো সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করবেন না।
  4. ইমাম গাযযালী (রহ.) বলেছেন: ওয়াসওয়াসা দূর করার একমাত্র উপায় হলো তা থেকে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকা এবং সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কর্মে মনোযোগ দেওয়া।

ব্যবহারিক পরামর্শ:

  • ওয়াসওয়াসা এলে 'আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম' পড়ুন।
  • মনে করুন, শয়তান আপনাকে বিভ্রান্ত করতে চায়, আপনি তার ফাঁদে পা দেবেন না।
  • নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির করুন।
  • ওয়াসওয়াসা নিয়ে কোনো আলেমকে প্রশ্ন করলেই যথেষ্ট, বারবার একই বিষয়ে প্রশ্ন করবেন না।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

  1. 'আউজু বিল্লাহি' না পড়লে বা ভুলে গেলে গুনাহ বা ইমানের কোনো সমস্যা নেই।
  2. গুনাহকে গুনাহ জেনে করলে ইমান চলে যায় না, তবে তা কবিরা গুনাহ; তওবা করতে হবে।
  3. ওয়াসওয়াসার চিন্তাকে পাত্তা না দেওয়াই উত্তম, এতে ওয়াসওয়াসা কমবে এবং ইমান অটুট থাকবে।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.