নফল রোজা অবস্থায় এলার্জি ও ডায়রিয়ার কারণে ওষুধ খেতে হলে রোজা ভাঙা জায়েজ কি?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
নফল রোজা অবস্থায় যদি শরয়ি ওজর (অসুস্থতা, জরুরি ওষুধ সেবনের প্রয়োজন, বা শারীরিক দুর্বলতা) দেখা দেয়, তাহলে তা ভঙ্গ করা জায়েজ এবং কোনো গুনাহ হবে না। তবে কোনো ওজর ছাড়া নফল রোজা ভঙ্গ করা মাকরুহ (তানজিহি)। আপনার বর্ণনায় এলার্জি (এর্লাজি) ও ডায়রিয়ার কারণে ওষুধ সেবনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে—এটি একটি বৈধ ওজর। তাই আপনি যদি রোজা ভেঙে ফেলেন, তাহলে কোনো গুনাহ হবে না।
তবে পরবর্তীতে অবশ্যই এই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।
হানাফি কিতাবের দলিল:
- রদ্দুল মুহতার (২/৩৭৬): "نفل الصوم يجوز قطعه لعذر أو لغير عذر، لكن يكره لغير عذر" অর্থাৎ, "নফল রোজা ওজর সহ বা ওজর ছাড়া ভঙ্গ করা জায়েজ, তবে ওজর ছাড়া ভঙ্গ করা মাকরুহ।"
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/১৫৪): নফল রোজা ভঙ্গের ক্ষেত্রে ফাতাওয়া হলো—যদি কোনো প্রয়োজন হয়, তবে ভঙ্গ করা যেতে পারে, এবং কাফফারা বা কাজা কোনোটি আবশ্যক নয়।
- ফাতাওয়া উসমানি (২/৪২৩): "নফল রোজা ভঙ্গ করলে তার কোনো কাজা বা কাফফারা নেই, তবে উত্তম হলো পূর্ণ করা। কিন্তু অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনে ভঙ্গ করলে কোনো দোষ নেই।"
সারসংক্ষেপ:
আপনার শারীরিক সমস্যা (এলার্জি ও ডায়রিয়া) এবং ওষুধ সেবনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আপনি নফল রোজা ভঙ্গ করতে পারেন। এতে কোনো গুনাহ হবে না। তবে চেষ্টা করুন যদি সম্ভব হয়, ওষুধ সেবনের পরও রোজা রেখে দিন, অন্যথায় ভেঙে নিন। তবে পরবর্তীতে অবশ্যই
এই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।
আল্লাহ সহজ করুন।