রোজার কাফফারা কি?
Siyam-Fasting · Hanafi · Questioner: Shaharia Sultana · 14 May 2026 · 4 views
Question
Answer
উত্তর: কাফফারা দিতে হবে না, শুধু কাজা (মাক্বদা) করতে হবে।
বিস্তারিত:
রমাদানের রোজা ভঙ্গ করার জন্য কাফফারা তখনই ওয়াজিব হয় যখন কোনো শরয়ি ওজর (অজুহাত) ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙা হয়। কিন্তু প্রশ্নে বর্ণিত আপনার আপু গর্ভবতী অবস্থায় ইউরিন ইনফেকশন এবং ডাক্তারের পরামর্শে বাচ্চার ক্ষতির আশংকায় রোজা রাখতে পারেননি। এটি একটি শরয়ি ওজর (গর্ভাবস্থা ও রোগের কারণে নাজায়েজ অবস্থা) হিসেবে গণ্য হবে।
হানাফি ফিকহের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী:
- গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী নারী যদি নিজের বা সন্তানের স্বাস্থ্যের ভয়ে রোজা না রাখে, তাহলে তার জন্য শুধু কাজা (পরবর্তী সময়ে রোজা পূরণ করা) ওয়াজিব, কাফফারা নয়।
- কাফফারা শুধু তাদের উপর ওয়াজিব হয় যারা বিনা কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করেছে।
দলিল:
১. কুরআন: "অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত বা সফরে থাকে, সে অন্য দিনে রোজা রাখবে (গণনা পূরণ করবে)..." (সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৪)। এখানে রোগ ও অসুবিধাকে ওজর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
২. হাদিস: নবী (সা.) বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুসাফিরের জন্য অর্ধেক নামাজ (কসর) এবং রোজা ভঙ্গের অনুমতি দিয়েছেন, আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীর জন্যও (রোজা ভঙ্গের অনুমতি দিয়েছেন)..." (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৭১৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৪০৮)।
৩. হানাফি কিতাব:
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): "গর্ভবতী নারী যদি সন্তানের ক্ষতির ভয়ে রোজা ভঙ্গ করে, তাহলে তার জন্য কাজা ওয়াজিব, কাফফারা নয়।" (রাদ্দুল মুহতার, ২/৪২৪)
- ফাতাওয়া উসমানি: "গর্ভবতী বা স্তন্যদায়িনী নারী যদি ডাক্তারের পরামর্শে রোজা না রাখে, তাহলে তার জন্য কাজা করাই যথেষ্ট, কাফফারা দিতে হবে না।" (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪২১)
- ফাতাওয়া আলমগিরি: "যে ব্যক্তি রোগ বা অন্য শরয়ি ওজরের কারণে রোজা ভঙ্গ করে, তার উপর কাফফারা নেই, বরং কাজা ওয়াজিব।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/২০৬)
শর্ত:
- যদি আপনার আপুর অবস্থা পরবর্তীতে এমন হয় যে তিনি রোজা কাজা করতে সক্ষম হন (যেমন- বাচ্চা হওয়ার পর, অসুস্থতা সেরে গেলে), তাহলে আগামী রমাদান আসার আগেই ১০টি রোজা কাজা করে নিতে হবে।
- যদি পরবর্তী রমাদান আসার আগে কাজা না করতে পারেন, তাহলে প্রতিটি রোজার জন্য একটি করে ফিদিয়া (একটি সাদাকা-ই-ফিতর পরিমাণ, অর্থাৎ ১.৬ কেজি গম বা তার মূল্য) দিতে হবে এবং রমাদানের পরও কাজা করা ওয়াজিব থাকবে।
সারসংক্ষেপ:
- কাফফারা: নেই।
- কাজা: ১০টি রোজা পরবর্তী সময়ে (বাচ্চা হওয়ার পর, শারীরিক সুস্থতা লাভে) পূরণ করতে হবে।
উত্তর প্রদানে ব্যবহৃত হানাফি কিতাব:
- কুরআন মাজিদ (সূরা বাকারা: ১৮৪)
- রাদ্দুল মুহতার (২/৪২৪)
- ফাতাওয়া উসমানি (২/৪২১)
- ফাতাওয়া আলমগিরি (১/২০৬)
- বাহিশতি জেওর (রোজা অধ্যায়)
Meta Description:
গর্ভবতী অবস্থায় ডাক্তারের নিষেধে ইউরিন ইনফেকশনের কারণে রোজা না রাখলে কাফফারা দিতে হবে কিনা? হানাফি ফিকহ অনুযায়ী শুধু কাজা ওয়াজিব, কাফফারা নয়।
SEO Keywords:
গর্ভাবস্থায় রোজা, প্রেগন্যান্সি রোজা কাফফারা, ইউরিন ইনফেকশন রোজা, হানাফি ফিকহ গর্ভবতী রোজা, ডাক্তারের পরামর্শে রোজা ভঙ্গ, কাজা রোজা গর্ভবতী।
SEO Search Phrases:
- গর্ভবতী অবস্থায় রোজা না রাখলে কাফফারা লাগবে কি
- ইউরিন ইনফেকশনে রোজা ভঙ্গের কাফফারা
- প্রেগন্যান্সিতে রোজা কাজা করার নিয়ম
- হানাফি মতে গর্ভবতী নারীর রোজার বিধান
- ডাক্তারের নিষেধে রোজা না রাখার কাফফারা